শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬, ০১:৩৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
চলমান তাপপ্রবাহে বাড়ছে হিট স্ট্রোকের শঙ্কা শিশু রামিসাকে হত্যা : মামলার ১৯ দিনের মাথায় রায় হচ্ছে ৭ জুন মুখ খোলো মমতা জানতে চায় জনতা’ স্লোগানে ইনকিলাব মঞ্চের মশাল মিছিল স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে পেটানোর অভিযোগ, ওসিসহ পাঁচ পুলিশ প্রত্যাহার নিম্ন আয়ের মানুষের বিদ্যুতের খরচ বাড়ছে না সব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হবে ১০১ শয্যার আইভীর মুক্তির পর বাড়ির সামনে বাড়তি নিরাপত্তা ও পুলিশি নজরদারি ইসরায়েলকে মধ্যপ্রাচ্য থেকে সরানো সম্ভব : আইআরজিসি কমান্ডার চাঁপাইনবাবগঞ্জের তিন উপজেলায় বজ্রপাতে নারীসহ ৬ জনের মৃত্যু ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ড নিয়ে বক্তব্যের জেরে মমতার বিরুদ্ধে মামলা

কিং কোবরা নয়, এই সাপটিই বিশ্বের এক নম্বর বিষধর

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেটের সময় : মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ২০০ টাইম ভিউ
কিং কোবরা নয়, এই সাপটিই বিশ্বের এক নম্বর বিষধর

প্রকৃতির রহস্যময় ও বৈচিত্র্যময় সৃষ্টিগুলোর মধ্যে সাপ সবসময়ই মানুষের মনে কৌতূহল এবং আতঙ্কের উদ্রেক করে। পৃথিবীতে প্রায় ৩,০০০ প্রজাতির সাপ রয়েছে, যার মধ্যে মাত্র ১৫ শতাংশ মানুষের জন্য মারাত্মক বিষধর। কিন্তু যদি প্রশ্ন করা হয়, পৃথিবীর সবচেয়ে মারাত্মক বা বিষধর সাপ কোনটি? তবে বিজ্ঞানীদের গবেষণায় একটি নামই সবার উপরে উঠে আসে— ‘ইনল্যান্ড তাইপান’ (Inland Taipan)

অস্ট্রেলিয়ার দুর্গম মরু অঞ্চলে বসবাসকারী এই সাপটি ‘ফিয়ার্স স্নেক’ বা ‘ভয়াল সাপ’ নামেও পরিচিত। এর বিষের তীব্রতা এতটাই যে, বিজ্ঞানীরা একে পৃথিবীর স্থলভাগের সবচেয়ে বিষধর সাপ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন।

বিষের তীব্রতা ও ভয়াবহতা:
ইনল্যান্ড তাইপানের বিষের মারণক্ষমতা কল্পনা করাও কঠিন। বিষবিজ্ঞানীদের মতে, এই সাপের মাত্র এক কামড়ে যে পরিমাণ বিষ নির্গত হয় (প্রায় ১১০ মিলিগ্রাম), তা দিয়ে একবারে ১০০ জন পূর্ণবয়স্ক মানুষ অথবা প্রায় আড়াই লক্ষ ইঁদুর মারা সম্ভব। এর বিষ সাধারণ কোবরা বা গোখরা সাপের চেয়েও প্রায় ৫০ গুণ বেশি শক্তিশালী।

এই সাপের বিষ মূলত একটি ‘ককটেল’ বা মিশ্রণ। এতে রয়েছে নিউরোটক্সিন, হেমোটক্সিন এবং মায়োটক্সিন। কামড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বিষ রক্তে মিশে যায় এবং স্নায়ুতন্ত্রকে অকেজো করে দেয়। আক্রান্ত ব্যক্তি দ্রুত পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে পড়ে এবং পেশিগুলো ধ্বংস হতে শুরু করে। যদি সময়মতো প্রতিষেধক বা অ্যান্টি-ভেনম দেওয়া না হয়, তবে মাত্র ৪৫ মিনিটের মধ্যে ফুসফুস ও হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মানুষের মৃত্যু হতে পারে।

আচরণ ও বাসস্থান:
আশ্চর্যের বিষয় হলো, ইনল্যান্ড তাইপান অত্যন্ত বিষধর হওয়া সত্ত্বেও স্বভাবগতভাবে বেশ লাজুক। এরা সাধারণত মানুষের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলে। অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ড এবং দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার শুষ্ক ও পাথুরে মরুভূমিতে এদের দেখা মেলে। মাটির ফাটল বা পরিত্যক্ত গর্তে এরা লুকিয়ে থাকে। বিপদে না পড়লে বা আক্রান্ত বোধ না করলে এরা সাধারণত কামড়ায় না। তবে একবার খেপে গেলে এরা অত্যন্ত ক্ষিপ্র গতিতে বারবার ছোবল দিতে পারে।

কেন এটিই সবচেয়ে মারাত্মক?
অনেকে ‘ব্ল্যাক মাম্বা’ বা ‘কিং কোবরা’কে সবচেয়ে বিপজ্জনক মনে করেন। তবে বিষের রাসায়নিক কাঠামোর বিচারে ইনল্যান্ড তাইপান সবাইকে ছাড়িয়ে গেছে। ব্ল্যাক মাম্বা পরিচিত তার আক্রমণাত্মক স্বভাব ও গতির জন্য, আর কিং কোবরা পরিচিত তার বিশাল দেহ ও বিষের পরিমাণের জন্য। কিন্তু ইনল্যান্ড তাইপানের এক ফোঁটা বিষ যে ক্ষতি করতে পারে, তা অন্য কোনো সাপের বিষে সম্ভব নয়।

প্রতিযোগিতায় অন্যান্য সাপ:
পৃথিবীর সবচেয়ে মারাত্মক সাপের তালিকায় ইনল্যান্ড তাইপানের পরেই আসে ‘ইস্টার্ন ব্রাউন স্নেক’-এর নাম। এছাড়া সমুদ্রের সাপের কথা বললে ‘বেcher’s Sea Snake’ বা ‘হাইড্রোফিস বেলচেরি’ অত্যন্ত বিষধর। অন্যদিকে, মানুষের বসতির আশেপাশে থাকায় এবং প্রতিবছর সবচেয়ে বেশি মানুষের মৃত্যুর কারণ হওয়ায় ‘স-স্কেলড ভাইপার’ (Saw-scaled Viper) বিশ্বের অন্যতম বিপজ্জনক সাপ হিসেবে পরিচিত।

সচেতনতা ও প্রতিকার:
বিজ্ঞানীরা বলছেন, সাপের বিষ যেমন প্রাণঘাতী, তেমনি এটি জীবনদায়ী ওষুধ তৈরিতেও ব্যবহৃত হয়। ইনল্যান্ড তাইপানের বিষ থেকে উচ্চ রক্তচাপ ও হার্ট অ্যাটাকের ওষুধ তৈরির গবেষণা চলছে। বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, সাপ দেখলে আতঙ্কিত না হয়ে দূরত্ব বজায় রাখাই বুদ্ধিমানের কাজ। বন্যপ্রাণী হিসেবে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় এদের ভূমিকা অনস্বীকার্য।

পরিশেষে, ইনল্যান্ড তাইপান প্রকৃতির এক বিস্ময়। এর বিষের মারণক্ষমতা আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, প্রকৃতির গভীরে কত রহস্য ও শক্তি লুকিয়ে আছে। অস্ট্রেলিয়ার এই মরুচারী প্রাণীটি আজও তাই পৃথিবীর সবচেয়ে ভয়ংকর এবং কৌতূহলোদ্দীপক প্রাণীদের তালিকার শীর্ষে অবস্থান করছে।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর