মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:১১ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
বগুড়া সিটি করপোরেশন উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী গাইবান্ধায় প্রবেশপত্র না পেয়ে মহাসড়ক অবরোধ, সোয়া এক ঘণ্টা পর প্রত্যাহার জুলাই সনদ নিয়ে কিছু রাজনৈতিক দল জনগণকে বিভ্রান্ত করছে: প্রধানমন্ত্রী সংঘাতে নতুন মোড়, মার্কিন সামরিক জাহাজে হামলা চালাল ইরান চূড়ান্ত ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী: সংসদে নারী আসনে জামায়াতের ৮, এনসিপিসহ বাকিদের ৫ হাম পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে, জরুরি অবস্থা ঘোষণার প্রয়োজন হয়নি: স্বাস্থ্যমন্ত্রী ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার দ্রুত নতুন করে গড়ে তুলছে ইরান আমি এই মন্ত্রী, এই মন্ত্রণালয়ে যে দুর্নীতি করবে, ২৪ ঘণ্টা থাকতে পারবে না: শিক্ষামন্ত্রী ইসলামাবাদে আজই ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের চুক্তি সই হবে: ট্রাম্প পাকিস্তানে দ্বিতীয় দফার শান্তি আলোচনায় অংশ নিচ্ছেন যারা

বিষাক্ত সাপের স্বর্গরাজ্য ‘ইহা দ্য কুইমাডা গ্রান্দে’

আস্তর্জাতিক ডেক্স
  • আপডেটের সময় : মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ১২৭ টাইম ভিউ
বিষাক্ত সাপের স্বর্গরাজ্য ‘ইহা দ্য কুইমাডা গ্রান্দে’

আটলান্টিক মহাসাগরের নীল জলরাশির মাঝে জেগে থাকা এক টুকরো সবুজ ভূখণ্ড। দূর থেকে দেখলে মনে হবে এক স্বর্গীয় পর্যটন কেন্দ্র। কিন্তু এই সৌন্দর্যের আড়ালেই লুকিয়ে আছে পৃথিবীর সবচেয়ে ভয়াবহ বিভীষিকা। দ্বীপটির নাম ‘ইহা দ্য কুইমাডা গ্রান্দে’ (Ilha da Queimada Grande), যা বিশ্বজুড়ে ‘স্নেক আইল্যান্ড’ বা ‘সাপের দ্বীপ’ নামে পরিচিত। ব্রাজিলের সাও পাওলো উপকূল থেকে মাত্র ৩৩ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই দ্বীপটি বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক স্থান হিসেবে স্বীকৃত।

কেন এই দ্বীপটি এত ভয়ংকর?
এই দ্বীপের প্রধান এবং একমাত্র ত্রাস হলো ‘গোল্ডেন ল্যান্সহেড ভাইপার’ (Golden Lancehead Viper)। এটি বিশ্বের অন্যতম বিষাক্ত সাপ, যা কেবল এই দ্বীপেই পাওয়া যায়। বিজ্ঞানীদের মতে, এই দ্বীপে সাপের ঘনত্ব এত বেশি যে প্রতি এক বর্গমিটার জায়গায় অন্তত একটি থেকে পাঁচটি সাপ দেখা যায়। অর্থাৎ, আপনি যেখানেই পা ফেলুন না কেন, আপনার পায়ের নিচে একটি বিষধর সাপ থাকার সম্ভাবনা শতভাগ।

বিষের তীব্রতা:
গোল্ডেন ল্যান্সহেড ভাইপারের বিষ সাধারণ সাপের তুলনায় তিন থেকে পাঁচ গুণ বেশি শক্তিশালী। এই সাপের বিষ এতটাই মারাত্মক যে এটি মানুষের শরীরের মাংস গলিয়ে দিতে পারে। কামড় দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে আক্রান্ত ব্যক্তির কিডনি বিকল হওয়া, মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ এবং পেশির কোষ ধ্বংস হওয়া শুরু হয়। সঠিক সময়ে চিকিৎসা না পেলে মৃত্যু অনিবার্য। আর এই জনমানবহীন দ্বীপে চিকিৎসার কোনো সুযোগই নেই।

বিবর্তনের ইতিহাস:
ভৌগোলিক তথ্যমতে, প্রায় ১১ হাজার বছর আগে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বেড়ে যাওয়ার ফলে এই দ্বীপটি মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। সেখানে আটকে পড়া সাপগুলোর খাবারের একমাত্র উৎস হয়ে দাঁড়ায় পরিযায়ী পাখি। মাটিতে কোনো শিকার না থাকায় সাপগুলো গাছে চড়তে অভ্যস্ত হয়ে ওঠে। পাখিদের দ্রুত কুপোকাত করার জন্য বিবর্তনের ধারায় এদের বিষ হয়ে ওঠে অতিমাত্রায় শক্তিশালী।

মানুষের প্রবেশ নিষিদ্ধ:
ব্রাজিল সরকার এই দ্বীপে সাধারণ মানুষের প্রবেশ কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করেছে। কেবল ব্রাজিলের নৌবাহিনী এবং গবেষণার জন্য বিশেষ অনুমতিপ্রাপ্ত বিজ্ঞানীদের সেখানে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। তাও তারা সেখানে গেলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের দল সাথে নিয়ে যান।

এক সময় এই দ্বীপে একটি বাতিঘর (Lighthouse) ছিল যা জাহাজ চলাচলে সাহায্য করত। জনশ্রুতি আছে, ১৯২০-এর দশকে বাতিঘরের শেষ রক্ষণাবেক্ষণকারী এবং তার পুরো পরিবার সাপের কামড়ে মারা যান। এরপর থেকে বাতিঘরটি স্বয়ংক্রিয় করে দেওয়া হয় এবং দ্বীপটি পুরোপুরি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়।

বর্তমান পরিস্থিতি:
বর্তমানে এই গোল্ডেন ল্যান্সহেড ভাইপার একটি বিপন্ন প্রজাতি হিসেবে তালিকাভুক্ত। চোরাকারবারিরা মাঝেমধ্যে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই দ্বীপে অনুপ্রবেশ করে সাপ চুরি করার চেষ্টা করে, কারণ কালোবাজারে একটি গোল্ডেন ল্যান্সহেড ভাইপারের দাম প্রায় ১০ থেকে ৩০ হাজার ডলার পর্যন্ত হতে পারে।

প্রকৃতির এক অদ্ভুত ও রহস্যময় সৃষ্টি এই সাপের দ্বীপ। একদিকে এটি যেমন বিজ্ঞানীদের কাছে গবেষণার এক অমূল্য আধার, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের কাছে এটি এক জীবন্ত নরক। পৃথিবীর বুকে এমন এক জায়গা, যেখানে মানুষের চেয়ে প্রকৃতির ভয়ংকর রূপই বেশি শক্তিশালী। তাই অ্যাডভেঞ্চার প্রিয় পর্যটকদের জন্য এই দ্বীপটি তালিকায় থাকলেও, বাস্তবে সেখানে পা রাখা মানেই হলো মৃত্যুকে আলিঙ্গন করা।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর