রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ০৯:১৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের পর এবার ভারতের সরকার পতনের ডাক! রাজধানীতে দুই দিনে ট্রাফিক আইনে ৩,২৫৭ মামলা, ডাম্পিং ৯০৮ যানবাহন জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যানে ‘বন্যপ্রাণের গল্পকথা’, প্রকৃতির পাঠে মুগ্ধ শিশুরা ডেঙ্গু বাড়ছে: সাধারণ জ্বর আর ডেঙ্গু কীভাবে চিনবেন, জানালেন বিশেষজ্ঞরা কাফরুল থানা যুবদলের সদস্য সচিব হাফিজুল ইসলাম বাবু কে লক্ষ্য করে গুলি সরকারের সাথে বৈঠকেও শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে অনড় সিজেপি মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হওয়ায় ‘দৈনিক সময়ের আওয়াজ’ এর পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা ইসরায়েলকে স্বীকৃতি না দিলে সৌদির পারমাণবিক চুক্তি বাতিল: হোয়াইট হাউস রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ: জামায়াতের ‘শুকরিয়া’, গ্রেপ্তার চায় এনসিপি রাষ্ট্রপতির পদটিকে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেখে বিএনপি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ভূমিকম্প এলে জীবন বাঁচাতে প্রস্তুতি আজই শুরু করুন

অনলাইন ডেস্ক :
  • আপডেটের সময় : শনিবার, ২২ নভেম্বর, ২০২৫
  • ১৪৪ টাইম ভিউ

ভূমিকম্প কখন, কোথায় বা কত বড় আঘাত হানবে তা আগাম বলা প্রায় অসম্ভব। অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের মতো এর সংকেতও স্পষ্ট নয়। বাংলাদেশ সক্রিয় ভূকম্পন অঞ্চলে অবস্থান করায় ভবিষ্যতে বড় ধরনের ভূমিকম্পের সম্ভাবনা রয়েছে। তাই প্রাণহানি ও সম্পদের ক্ষতি কমাতে আগে থেকেই প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি। দেশের অধিকাংশ ভবন ভূমিকম্প-সহনশীল নয়। প্রকৌশলীরা বলছেন, বড় ধসের মূল কারণ দুর্বল গঠন ও অনিয়ন্ত্রিত নির্মাণ। তাই প্রথম ধাপ হচ্ছে বাসার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

বাসা নিরাপদ রাখার কিছু মূল নির্দেশনা

* ভবন নির্মাণ বা সংস্কারের সময় প্রকৌশলীর মাধ্যমে সিসমিক স্ট্যান্ডার্ড নিশ্চিত করা

* দেয়াল বা ছাদে ফাটল থাকলে দ্রুত মেরামত করা

* বুকশেলফ, কাচের আলমারি, ফ্রিজ, আলনা—এসব দেয়ালে শক্তভাবে আটকানো আছে কি না পরীক্ষা করা

* পানির ট্যাঙ্ক, গ্যাস লাইন, সিলিন্ডার, সোলার প্যানেল যেন কম্পনে না পড়ে তার ব্যবস্থা করা

* সিঁড়ি ও বহির্গমন পথ সবসময় খোলা ও বাধামুক্ত রাখা

প্রকৌশলীদের ভাষ্য, বাংলাদেশে মৃত্যু কম হলেও ভবনের ধস বড় দুর্যোগ ডেকে আনে। তাই শক্ত কাঠামো নিশ্চিত করা সবচেয়ে জরুরি।

পরিবারের জরুরি পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি

ভূমিকম্পে আতঙ্কই সবচেয়ে বড় শত্রু। আগে থেকে পরিকল্পনা থাকলে পরিবারের সবাই জানবে কী করতে হবে।

* প্রতি পরিবারের জন্য একটি জরুরি কর্মপরিকল্পনা তৈরি করা

* বাড়ির নিরাপদ জায়গা ও বহির্গমন পথ দেখানো

* সপ্তাহে অন্তত একবার ড্রিল বা রিহার্সাল করা

* ঘুমানোর জায়গার কাছে জুতা, টর্চলাইট, মোবাইল, হালকা ব্যাগ রাখা

* শিশু ও বয়স্কদের আলাদা নির্দেশনা দেওয়া

৭২-ঘণ্টার জরুরি ব্যাগ

ভূমিকম্পের পর বিদ্যুৎ, পানি বা খাবার সরবরাহ ব্যাহত হতে পারে। তাই ৭২-ঘণ্টার জরুরি ব্যাগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

জরুরি ব্যাগে রাখা উচিত— পানি (প্রতি ব্যক্তি অন্তত ৩ লিটার), শুকনা খাবার, প্রাথমিক চিকিৎসার কিট, প্রেসক্রিপশনের ওষুধ, টর্চলাইট ও অতিরিক্ত ব্যাটারি, পাওয়ার ব্যাংক, গুরুত্বপূর্ণ কাগজের ফটোকপি, নগদ টাকা, বাঁশি, মাস্ক, ছোট কম্বল, স্যানিটারি আইটেম। ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারের জন্য ব্যাগ আরও বিস্তৃত করা যাবে।

ভূমিকম্পের সময় নিরাপদ জায়গা

* শক্ত টেবিল বা ডেস্কের নিচে

* লোড-বেয়ারিং দেয়ালের পাশে

* জানালা, কাচ, ভারী শেলফ থেকে দূরে

* রান্নাঘর ও বাথরুম এড়িয়ে নিরাপদ কোণ

প্রকৌশলীরা বলছেন, মৃত্যুর প্রধান কারণ পড়া বস্তু, জানালার কাচ ও ভাঙা আসবাব। তাই এগুলো থেকে দূরে থাকা জরুরি।

গ্যাস ও বিদ্যুতের নিরাপত্তা

* গ্যাস লাইনের মুখ কোথায়, কীভাবে বন্ধ করতে হয় তা পরিবারের সবাই জানবে

* বৈদ্যুতিক সুইচবোর্ডে আগুন লাগলে মেইন সুইচ বন্ধ করা

* গ্যাস সিলিন্ডার নিরাপদ ও দেয়ালঘেঁষা স্থানে রাখা

* পানি সংযোগের মেইন ভালভ কোথায় তা শিখে রাখা

ভূমিকম্প হলে মানুষ আতঙ্কে দৌড়াতে গিয়ে আহত হয়। নিয়মিত ড্রিল করলে আতঙ্ক কমে এবং আত্মবিশ্বাস তৈরি হয়। শিশুদের খেলার মাধ্যমে নিরাপত্তা নির্দেশনা শেখানোও কার্যকর। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভূমিকম্প ঠেকানো সম্ভব নয়, তবে ক্ষয়ক্ষতি কমানো পুরোপুরি আমাদের প্রস্তুতির ওপর নির্ভরশীল। প্রস্তুতি থাকলে জীবন বাঁচানো সম্ভব। তাই আজই নিজের বাসা, পরিবার ও পাড়া-সব জায়গার নিরাপত্তা পরিকল্পনা সাজিয়ে নেওয়া জরুরি।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর