আল্লাহ তা’লা পবিত্র কুরআনে ঘোষণা করেছেন, ‘আমি তোমাদের উপর ততক্ষণ পর্যন্ত রহমত অবতীর্ণ করবো না, যতক্ষণ পর্যন্ত তোমারা আমার সৃষ্টির প্রতি দয়া করবেনা’। এ আয়াত সুস্পষ্টভাবে আমাদের জানান দিচ্ছে যে, আল্লাহর রহমতের দরজা আমাদের জন্য চিরদিনের জন্য বন্ধ থাকবে, যদি আল্লাহর সৃষ্টির প্রতি আমাদের দরদ, মায়া, সহানুভূতি, আবেগ, অনুভূতি, সহযোগিতা কাজ না করে। এ আয়াংশ থেকে আরো একটি বিষয় সুস্পষ্ট, সৃষ্টির প্রতি যারা দয়াশীল তারাই আল্লাহর বান্দা। আর যারা সৃষ্টির প্রতি নির্দয় তারা আল্লাহর বান্দা নয়। থার্টি ফাস্ট লাইট বর্তমান তরুণ প্রজন্ম খুবই জাঁকজমকপূর্ণভাবে উদযাপন করে থাকে। এটি বর্তমানে বাংলাদেশের কৃষ্টি-কালচারে পরিণত হয়েছে।
রাতের বেলায় অনেকেই ফানুশ ওড়ায়,আতশবাজি ফুটাই। আতশবাজির শব্দ, ধোঁয়া আর আগুন বিস্ফোরণের শতশত নিরহ পশু-পাখি মারা যায়। পশু-পাখি, অতিরিক্ত শব্দের আওয়াজ শুনতে পারেনা, যার ফলে ঝাঁকে ঝাঁকে পাখি বাসা ছেড়ে এদিক সেদিক উড়তে থাকে। আর আতশবাজির আগুণের ফুলকির কারণে মারা যায় সৃষ্টির অপূর্ব সৌন্দর্য পশু-পাখি ও কীটপতঙ্গ। ছোট্ট শিশু, বৃদ্ধা আর রোগীরাও এ বিকট শব্দের কারণে মানসিকভাবে রুগ্ন হয়ে পড়ে। ফানুসের আগুনের কারণে ঘর-বাড়ী, শিল্প-কারখানা, দোকানপাটসহ নানান স্থাপনাতে আগুন লেগে ধ্বংসযজ্ঞে পরিণত হয় বাংলার জনপদ। আসুন, আমরা পশু-পাখি এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করে থার্টি ফাস্ট নাইট পালন করি।
স্বামী বিবেকানন্দ বলেছেন- “জীবে প্রেম করে যেই জন / সেই জন সেবিছে ঈশ্বর।” পৃথিবীর বিখ্যাত মহান মনীষারা পশু-পাখির জন্য বাসা নির্মাণ পূর্বক খাবারের সু-ব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে। তন্মধ্যে, ফার্সি কাব্যগ্রন্থ ‘দিওয়ানে ওয়াইসি’ এর রচয়িতা সৈয়দ ফতেহ আলী ওয়াইসি, কবি-সাহিত্যিক খাজা ছাইফুদ্দীন এনায়েতপুরী অন্যতম। খাজা ছাইফুদ্দীন সাহেব, বাসা-বাড়ী আর গাছের ডালপালায় অসংখ্য পাখির বাসা বেঁধে পশু-পাখিদের অভয়ারণ্যে পরিণত করেছিলো নিজের বিশাল ঘর-বাড়ী আর সুবিশাল বাগান বাড়ী। সৃষ্টি মানুষকে মহৎ করে তুলে, ধ্বংসযজ্ঞ মানুষকে নৃশংস করে তুলে।