শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ০২:০০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
তীব্র গ্যাস সংকটে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সব ফিলিং স্টেশন বন্ধ পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের বাড়ি ছাড়ার নির্দেশ ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর ‘কোনো মহিলা ডাক্তারকে স্যার–ম্যাডাম ছাড়া অন্য কিছু ডাকবেন না’ টাঙ্গাইলে ৪ বছরের মেয়েকে হত্যা করে গলায় ফাঁস নিলেন মা বিমান মন্ত্রণালয় অত্যন্ত কঠিন ও জটিল, সিন্ডিকেটে ভরা : বিমানমন্ত্রী বিদ্যুৎ-জ্বালানি সংকট, সংসদের বিশেষ অধিবেশন চায় বিরোধী দল মন্ত্রিপরিষদে যুক্ত হচ্ছে নতুন ৪ নাম, আলোচনায় যারা সরকারের ৬ মাসের লক্ষ্যের মোটামুটি সবগুলোই পূরণ হয়েছে : রিজভী চট্টগ্রামে জামায়াত নেতার মাদ্রাসায় মিলল সরকারি ধানের বীজ বাংলাদেশ ধ্বংসস্তূপের মধ্যে দাঁড়িয়ে আছে : জ্বালানিমন্ত্রী

পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের বাড়ি ছাড়ার নির্দেশ ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
  • আপডেটের সময় : শনিবার, ১৫ আগস্ট, ২০২৬
  • ২ টাইম ভিউ
পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের বাড়ি ছাড়ার নির্দেশ ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর
ছবি-সংগৃহীত

অধিকৃত পশ্চিম তীরের কুসরা গ্রামে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের সরিয়ে দেওয়ার এক অভিযান চালাতে গিয়ে প্রায় এক ডজন ফিলিস্তিনি পরিবারকে নিজেদের বাড়িঘর ছেড়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে ইসরায়েলের সেনাবাহিনী। ওই এলাকায় রোববার থেকে তিনটি বাড়ির বাসিন্দাদের অবরোধ করে রেখেছিল এই বসতিস্থাপনকারীরা। বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছিল তারা। পরে ইসরায়েলি বাহিনী অভিযান চালিয়ে বসতিস্থাপনকারীদের সরানোর উদ্যোগ নেয়।

কুসরার মেয়র আবদেল আজিম ওয়াদি বিবিসি-কে বলেন, গ্রামটিকে ‘বন্ধ সামরিক এলাকা’ ঘোষণা করা হয়েছে। খালি করে দেওয়া কয়েকটি ফিলিস্তিনি বাড়িকে ইসরায়েলি বাহিনী ব্যারাক হিসেবে ব্যবহার করছে।ইসরায়েলের সেনাবাহিনী বলেছে, বাসিন্দাদের সুরক্ষার লক্ষ্যে এই অভিযান চালানো হয়েছে। ইসরায়েলি সরকারের মুখপাত্র ডেভিড মেনসার বসতিস্থাপনকারীদের কর্মকাণ্ডকে ‘দুঃখজনক’ ও ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে বর্ণনা করেছেন। দায়ীদের তদন্ত করে গ্রেপ্তার ও বিচারের আওতায় আনার কথাও বলেছেন তিনি।

ঘেরাও করে রাখা আবু রিদি ও হাসান পরিবারের তিনটি বাড়ির মধ্যে দুটির বাসিন্দাদের বৃহস্পতিবার বাড়ি ছাড়তে বলা হয়। তারা পরে তৃতীয় বাড়িটিতে আশ্রয় নেন বলে বিবিসি-কে জানিয়েছেন। তাছাড়া গ্রামের আরও ১১টি বাড়ির বাসিন্দাকেও সেনাবাহিনী বাড়ি ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে।

বৃহস্পতিবার রাতের ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে কুসরায় প্রায় এক ডজন ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনীর যান দেখা যায়, যার মধ্যে একটি বুলডোজারও ছিল।

ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, তারা কুসরা ও জালুদ এলাকার কাছে দুটি ‘অবৈধ ফাঁড়ি’ সরিয়ে দিয়েছে। এ সময় একজন ইসরায়েলিকে আটক এবং কিছু সরঞ্জাম জব্দ করার কথাও জানায় তারা।

যাদেরকে বাড়ি ছাড়তে বলা হয়েছিল তাদের একজন হলেন, কাহের ওদেহ।

তিনি বলেন, সকালে ২০ জনের বেশি সেনা তার বাড়িতে ঢোকে। পরে তারা চলে গেলেও আবার ফিরে এসে বাড়িটিকে সামরিক অবস্থান উল্লেখ করে তাকে ও তার ভাইকে সরে যেতে বলে।

ওদেহ জানান, তারা বাড়ি ছেড়ে এলাকার নিচের দিকে চলে যাওয়ার কিছুক্ষণ পর পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে ইসরায়েলি বাহিনী। অনেক মানুষকে তখন নিজেদের বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হচ্ছিল।

প্রায় ১০ ঘণ্টা পর কয়েকটি পরিবারকে বাড়িতে ফিরে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়। তবে তারা সেখানে গিয়ে দেখতে পান, ঘরের জিনিসপত্র তছনছ করা হয়েছে। এক বাসিন্দার অভিযোগ, সেনারা ফ্রিজের খাবারগুলো বাইরে ফেলে দেয় এবং ১ হাজার ৫০০ ডলার নগদ অর্থ নিয়ে যায়।

বিবিসি এসব অভিযোগ সম্পর্কে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) কাছে জানতে চাইলে তারা এ বিষয়ে কোনও জবাব দেয়নি। আইডিএফ বলেছে, ‘সেনাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল যে কুসরার বাসিন্দারা তাদের বাড়িতেই থাকবেন।’

আইডিএফ আরও বলেছে, বসতি স্থাপনকারীদের অবরোধের শিকার ফিলিস্তিনি বাড়ির ভেতরে ইসরায়েলি সেনারা অভিযান চালাবে না। তারা বলছে, ইসরায়েলি ‘লিয়াজোঁ কর্মকর্তারা’ কুসরার স্থানীয় নেতৃত্বের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন এবং বাসিন্দাদের দৈনন্দিন জীবনে বিঘ্ন কমানোর চেষ্টা করছেন।

তবে অবরুদ্ধ পরিবারের সদস্য আবু রিদি বিবিসি-কে জানিয়েছেন, বুধবার রাতেও তাদের বাড়িতে আবার হামলা হয়েছে। কয়েকজন বসতি স্থাপনকারী সেনাবাহিনীর কাছ থেকে লুকিয়ে এখনও এলাকায় অবস্থান করছে বলেও তিনি জানান।

আবু রিদির ভাই ওই বাড়ির মালিক। তিনি একজন ফিলিস্তিনি-আমেরিকান ব্যবসায়ী এবং বিষয়টি নিয়ে মার্কিন দূতাবাসে অভিযোগ করেছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি কুসরার পরিবারগুলোকে বসতিস্থাপনকারীদের ভয় দেখানোর ঘটনাকে ‘ভয়াবহ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’ বলে অভিহিত করেছেন।

রোববার ঘটনার শুরুতে বসতিস্থাপনকারীরা ফিলিস্তিনি পরিবারগুলোর বাড়ির প্রবেশপথ আটকে দিয়ে পানি ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। ঘটনাস্থলে যাওয়া প্রথম ইসরায়েলি সেনাদের কয়েকজনকে বসতিস্থাপনকারীদের সঙ্গে প্রার্থনা করতে দেখা যায়।

পরে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানায়, এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট সেনাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পানি ও বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর আবু রিদি ও হাসান পরিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাহায্যের আবেদন জানিয়েছিল।

বুধবার বসতি স্থাপনকারীদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে ইসরায়েলের নিরাপত্তা বাহিনী। এ সময় বড় একদল বসতি স্থাপনকারীর সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ হয়। এ সময় নিরাপত্তা বাহিনী কাঁদানে গ্যাস ও শব্দবোমা ব্যবহার করে।

অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপন আন্তর্জাতিক আইনে অবৈধ। তবে সম্প্রতি কয়েক বছরে ইসরায়েলি সরকারের অধীনে এসব বসতির সম্প্রসারণ দ্রুতই বেড়ে গেছে। তাছাড়া, বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতাও বর্তমানে বেড়েছে।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর