বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১:০৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
নেত্রকোনায় সাংবাদিককে গুলি করে হত্যা সপ্তাহে দুই দিন ঘরবাড়ি ও আশপাশ পরিষ্কারের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর সরকারি কাজে কারা বাধা দিচ্ছেন, শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ দেশের কল্যাণে ব্যক্তিগত উদ্যোগে কাজ করা মানুষের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ: প্রধানমন্ত্রী ‘অপারেশন ক্লিন হার্ট’ অভিযানের পরিকল্পনা নেই সরকারের : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নেত্রকোনায় গ্রামীণ ব্যাংক অফিসে অগ্নিকাণ্ড: পুড়ে গেল মোটরসাইকেল ও নথিপত্র ছিনতাইয়ের সতর্কবার্তায় এয়ার ইন্ডিয়ার ফ্লাইটের জয়পুরে জরুরি অবতরণ যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী ভাবে বাতিল হচ্ছে ওয়ার্ক পারমিটের স্বয়ংক্রিয় মেয়াদ বাড়ানোর সুবিধা ডেঙ্গুতে আরও ৫ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ১৯২০ হাম উপসর্গে আরও ৭ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ১৩২৭

পাগলা মসজিদের দানবাক্সে মিলল রেকর্ড ১৬ কোটি টাকা

আওয়াজ অনলাইন ডেস্ক :
  • আপডেটের সময় : শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬
  • ৬৮ টাইম ভিউ
পাগলা মসজিদের দানবাক্সে মিলল রেকর্ড ১৬ কোটি টাকা

কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের ১৩টি দান সিন্দুক ছয় মাস পর খুলে অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে পাওয়া গেছে ১৫ কোটি ৯০ লাখ ৮০ হাজার ১৪৬ টাকা। নগদ অর্থের পাশাপাশি মিলেছে স্বর্ণালংকার ও বিভিন্ন দেশের বৈদেশিক মুদ্রাও।

শনিবার (২৭ জুন) সকাল ৭টায় দান সিন্দুকগুলো খোলার পর মসজিদের মেঝেতে টাকা ঢেলে গণনার কাজ শুরু হয়। দীর্ঘ সময় ধরে গণনা শেষে মোট ১৫ কোটি ৯০ লাখ ৮০ হাজার ১৪৬ টাকা পাওয়া যায়, যা পাগলা মসজিদের ইতিহাসে সর্বোচ্চ দান।

দান সিন্দুক খোলার সময় উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি সোহানা নাসরিন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাজমুস সাকিব খান, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও দান সিন্দুক খোলা কমিটির আহ্বায়ক মো. এরশাদুল আহমেদসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। টাকা গণনার কাজে অংশ নেন মসজিদ ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য, পাগলা মসজিদ কমপ্লেক্সের মাদ্রাসা ও এতিমখানার শিক্ষক-শিক্ষার্থী, পার্শ্ববর্তী জামিয়া ইমদাদিয়া মাদ্রাসার শিক্ষার্থী, রূপালী ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ প্রায় ৫০০ জন। পুরো গণনা কার্যক্রমে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। দায়িত্ব পালন করেন ১৩ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, ৪০ জন পুলিশ সদস্য, ৮ জন র‌্যাব সদস্য এবং ২০ জন আনসার সদস্য।

এর আগে ২০২৫ সালের ২৭ ডিসেম্বর তিন মাস ২৭ দিন পর দান সিন্দুক খুলে পাওয়া গিয়েছিল ১১ কোটি ৭৮ লাখ ৪৮ হাজার ৫৩৮ টাকা।

পাগলা মসজিদে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ দান করে থাকেন। নগদ অর্থ ছাড়াও হাঁস-মুরগি, গরু-ছাগল, স্বর্ণালংকার এবং বিভিন্ন ধরনের সামগ্রীও দান করা হয়। জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন জানান, পাগলা মসজিদ ও ইসলামিক কমপ্লেক্সে ১০টি স্থায়ী সিন্দুক এবং ৩টি অস্থায়ী ট্রাংক দানবাক্স হিসেবে ব্যবহৃত হয়। গণনা শেষে প্রাপ্ত অর্থ রূপালী ব্যাংকে পাগলা মসজিদের হিসাবে জমা করা হবে। উদ্ধার হওয়া স্বর্ণ, রৌপ্য ও বৈদেশিক মুদ্রা সিলগালা করে জেলা ট্রেজারিতে সংরক্ষণ করা হবে।

তিনি আরও জানান, বর্তমানে পাগলা মসজিদের তহবিলে ১১৪ কোটির বেশি টাকা জমা রয়েছে। অনলাইনে দান গ্রহণের জন্য www.paglamosque.org ওয়েবসাইট চালু রয়েছে। এ পর্যন্ত অনলাইনের মাধ্যমে ২৪ লাখ ৭৬ হাজার ৮৮২ টাকা অনুদান পাওয়া গেছে।

এ ছাড়া পাগলা মসজিদের আধুনিক ইসলামিক কমপ্লেক্স নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে। এ লক্ষ্যে অতিরিক্ত জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে এবং নান্দনিক নকশা প্রণয়নের কাজ চলছে। মুসল্লিদের সুবিধার্থে মসজিদের বাইরে পাবলিক টয়লেট নির্মাণের কাজও এগিয়ে চলছে।

পাগলা মসজিদের তহবিল থেকে বর্তমানে মাদ্রাসার ১৩০ জন এতিম ও অসহায় শিক্ষার্থীর লেখাপড়া ও ভরণপোষণ, ৩৫ জন কর্মচারী ও ১০ জন আনসার সদস্যের বেতন, মসজিদের বিদ্যুৎ বিল এবং বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের ব্যয় বহন করা হয়। পাশাপাশি তহবিলের লভ্যাংশ থেকে কিশোরগঞ্জ জেলার দরিদ্র রোগীদের চিকিৎসা সহায়তাও দেওয়া হচ্ছে।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর