তবে ছোট ছোট সচেতন অভ্যাস গড়ে তুললে পরিবারের মাসিক বিদ্যুৎ ও গ্যাসের খরচ কমানো সম্ভব। বিদ্যুৎ ও গ্যাস সাশ্রয় শুধু ব্যক্তিগত খরচ কমায় না, বরং জাতীয় সম্পদের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করে। তাই বিদ্যুৎ ও গ্যাস ব্যবহারে সচেতন হওয়া জরুরি, যা সাশ্রয়ী জীবনের পাশাপাশি পরিবেশ সুরক্ষায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
চলুন জেনে নেওয়া যাক, বিদ্যুৎ ও গ্যাস বিল কমানোর সাতটি বাস্তব উপায়—
১. এসি ব্যবহারে সচেতন হওয়া
গরমের সময় অনেকে নিয়মিত এসি ব্যবহার করেন। সে জন্য এসি চালানোর সময় তাপমাত্রা সব সময় ২৪ থেকে ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে রাখা উচিত। এতে বিদ্যুৎ খরচ অনেকটা নিয়ন্ত্রণে থাকে। এ ছাড়া ঘরের জানালা-দরজা ভালোমতো বন্ধ রাখুন এবং এসির ‘অটো মোড’ ব্যবহার করুন।
২. লাইট ও ফ্যান বন্ধ রাখুন
আমরা অনেকেই ঘর থেকে বের হওয়ার সময় লাইট কিংবা ফ্যান বন্ধ করতে ভুলে যাই। প্রতিদিন কয়েক ঘণ্টা অপ্রয়োজনীয় লাইট কিংবা ফ্যান চালু থাকলে মাস শেষে বিল অনেক বেড়ে যায়। তাই ঘর থেকে বের হওয়ার আগে সুইচ বন্ধ করার অভ্যাস গড়ে তুলি।
৩. এলইডি বাল্ব ব্যবহার করুন
পুরোনো ধরনের টিউবলাইটের তুলনায় এলইডি বাল্ব অনেক কম বিদ্যুৎ খরচ হয়। অথচ একই আলো পাওয়া যায়। প্রযুক্তিবিদরা বলেন, এলইডি বাল্বে বিদ্যুৎ খরচ ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত কম হয়। তাই ঘরের সব বাল্ব ধীরে ধীরে এলইডিতে পরিবর্তন করা ভালো।
৪. ফ্রিজ সঠিকভাবে ব্যবহার করুন
ফ্রিজ বারবার খোলা কিংবা দীর্ঘ সময় খোলা রাখলে বেশি বিদ্যুৎ খরচ হয়। এ ছাড়া ফ্রিজের ভেতর খুব বেশি গরম খাবার রাখলে কম্প্রেসর বেশি কাজ করে। তাই খাবার ঠান্ডা করে ফ্রিজে রাখা উচিত এবং দরজা দ্রুত বন্ধ করার অভ্যাস করা উচিত।
৬. প্রেশার কুকার ব্যবহার করুন
ডাল, মাংস বা শক্ত খাবার রান্নার ক্ষেত্রে প্রেশার কুকার ব্যবহার করলে সময় কম লাগে, গ্যাস খরচও কম হয়। ফলে একই সঙ্গে সময় ও খরচ দুটিই বাঁচে।
৫. রান্নায় গ্যাস অপচয় কমান
গ্যাসে রান্না করার সময় হাঁড়ি বা পাত্রের আকার অনুযায়ী চুলার আগুন ব্যবহার করা উচিত। অনেক সময় দেখা যায়, ছোট পাত্রে বড় আগুনে রান্না করা হয়। এতে গ্যাস অপচয় হয় বেশি। রান্না শেষ হলে চুলা ঠিকমতো বন্ধ আছে কিনা সেটি নিশ্চিত করতে হবে।
৭. বিদ্যুৎচালিত যন্ত্রপাতি স্ট্যান্ডবাই রাখুন
টিভি, চার্জার, মাইক্রোওভেন বা অন্যান্য যন্ত্র অনেক সময় ব্যবহার না করলেও প্লাগে লাগানো থাকে। এগুলো স্ট্যান্ডবাই অবস্থায় থেকেও বিদ্যুৎ খরচ করে। তাই ব্যবহার শেষে প্লা খুলে রাখা ভালো।