পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ বেলুচিস্তানের বিভিন্ন শহরে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে অন্তত ৯২ জন জঙ্গি নিহত হয়েছেন। শনিবার (৩১ জানুয়ারি) পাকিস্তান সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে। সেনাবাহিনীর বিবৃতিতে বলা হয়, জঙ্গি দমন অভিযানে ১৫ জন সেনা সদস্যও নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া বিভিন্ন এলাকায় জঙ্গিদের হামলায় নারী ও শিশুসহ অন্তত ১৮ জন বেসামরিক নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন।
শনিবারের ওই হামলার দায় স্বীকার করেছে নিষিদ্ধ ঘোষিত বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন বেলুচ লিবারেশন আর্মি (বিএলএ)। সংগঠনটি দাবি করেছে, তারা প্রদেশজুড়ে একযোগে হামলা চালিয়েছে এবং এতে ৮৪ জন পাকিস্তানি নিরাপত্তা সদস্য নিহত হয়েছেন।
পাকিস্তান সেনাবাহিনীর গণমাধ্যম শাখা আইএসপিআর জানিয়েছে, ভারত-সমর্থিত জঙ্গিরা এসব হামলা চালিয়েছে এবং নিরাপত্তা বাহিনী কোনো শহর বা গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা সফলভাবে প্রতিহত করেছে।আইএসপিআরের বিবৃতিতে বলা হয়, “গোয়েন্দা প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে নিশ্চিত হয়েছে যে, পাকিস্তানের বাইরে অবস্থানরত সন্ত্রাসী নেতারা এসব হামলার পরিকল্পনা ও নির্দেশনা দিয়েছেন এবং পুরো ঘটনার সময় তারা হামলাকারীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগে ছিলেন।”
পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহসিন নকভি হামলাগুলোর নিন্দা জানিয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, বাহিনী সাহসিকতার সঙ্গে হামলা প্রতিহত করেছে এবং বহু জঙ্গিকে হত্যা করেছে। নিরাপত্তা সূত্র জানায়, প্রাদেশিক রাজধানী কোয়েটা ও বন্দরনগরী গওয়াদারসহ বিভিন্ন শহুরে এলাকায় সশস্ত্র জঙ্গিরা হামলা চালায়। এরপর সেনাবাহিনী, পুলিশ ও সন্ত্রাসবিরোধী ইউনিট যৌথভাবে অভিযান শুরু করে।
গওয়াদারে অভিবাসী শ্রমিকদের একটি ক্যাম্পে হামলা চালিয়ে জঙ্গিরা ১১ জনকে হত্যা করে বলে জানান জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা আত্তা-উর-রহমান। নিহতদের মধ্যে পাঁচজন পুরুষ, তিনজন নারী ও তিনজন শিশু রয়েছে। হামলার পর নিরাপত্তা বাহিনী পাল্টা অভিযানে ছয় জঙ্গিকে হত্যা করে। নিরাপত্তা কর্মকর্তারা জানান, হামলার জবাবে কার্যকরভাবে অভিযান চালানো হয়েছে এবং এখনো বিভিন্ন এলাকায় ক্লিয়ারেন্স অপারেশন চলমান রয়েছে।
উল্লেখ্য, বেলুচিস্তান পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় হলেও সবচেয়ে দরিদ্র প্রদেশ। সেখানে জাতিগত বেলুচ জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোর দীর্ঘদিনের বিদ্রোহ চলছে। পাকিস্তান সরকার এই সহিংসতার পেছনে বিদেশি শক্তির মদদের অভিযোগ করলেও ভারত তা অস্বীকার করে আসছে।