বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:৫৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
চট্টগ্রামে হামলায় জড়িত ছাত্রদল নেতাদের বিচার চায় শিবির চট্টগ্রামের ঘটনায় বিক্ষোভের ডাক ছাত্রদলের হাত ট্রিগারেই আছে, প্রতিরক্ষা বাহিনীও সম্পূর্ণ প্রস্তুত: ইরান সাবেক প্রসিকিউটর সাইমুমের বিরুদ্ধে ঘুষ চাওয়ার প্রমাণ মিলেছে: চিফ প্রসিকিউটর চলতি বছর মাথাপিছু জিডিপিতে ভারতকে ছাড়াতে পারে বাংলাদেশ : আইএমএফ বিএনপি সরকার গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী: প্রধানমন্ত্রী চুক্তি না হলে হামলার জন্য পুরোদমে প্রস্তুত মার্কিন বাহিনী: ট্রাম্প জামিন পেলেন দেড় মাসের সন্তানসহ কারাগারে যাওয়া সেই যুব মহিলা লীগ নেত্রী গ্রাফিতিতে ‘গুপ্ত’ লেখা নিয়ে চট্টগ্রামে সিটি কলেজে ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষ সরকারি সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত পুরোনো ভাড়াই বহাল

যুগ্ম সচিবকে গাড়িতে জিম্মি করে ৬ লাখ টাকা দাবি চালকের, অবশেষে আটক

আওয়াজ অনলাইন ডেস্ক :
  • আপডেটের সময় : বুধবার, ১৭ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৬২ টাইম ভিউ
যুগ্ম সচিবকে গাড়িতে জিম্মি করে ৬ লাখ টাকা দাবি চালকের,
যুগ্ম সচিবকে গাড়িতে জিম্মি করে ৬ লাখ টাকা দাবি চালকের,

সরকারি গাড়ির ভেতরেই জিম্মি হন সরকারের এক যুগ্ম সচিব। মুক্তিপণের দাবিতে প্রায় চার ঘণ্টা ঢাকার বিভিন্ন সড়কে তাকে ঘুরিয়ে বেড়ান তারই গাড়িচালক। বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) দুপুরে পরিকল্পনা কমিশন চত্বরে পৌঁছালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ওই চালককে আটক করে।

জিম্মি হওয়া কর্মকর্তা মাকসুদা হোসেন পরিকল্পনা কমিশনের কার্যক্রম বিভাগে কর্মরত। অভিযুক্ত গাড়িচালকের নাম আবদুল আউয়াল (৪০)। তিনি গত দুই মাস ধরে ওই যুগ্ম সচিবের গাড়ি চালাচ্ছিলেন। তার বাড়ি বগুড়ায়। ঘটনার পর বিকেলে তাকে শেরেবাংলা নগর থানায় হস্তান্তর করা হয়। তার বিরুদ্ধে অপহরণ মামলা করার প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম।

ভুক্তভোগী যুগ্ম সচিব জানান, বুধবার সকাল সোয়া আটটার দিকে ধানমন্ডির বাসা থেকে সরকারি গাড়ি করে অফিসের উদ্দেশে রওনা দেন তিনি। চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রের সামনে পৌঁছে গাড়িচালক হঠাৎ কমিশনের দিকে না গিয়ে বিজয় সরণির দিকে গাড়ি ঘুরিয়ে নেন। গাড়ি অন্যদিকে নেওয়ার কারণ জানতে চাইলে কোনো উত্তর দেননি চালক।এরপর মহাখালী ও বনানী হয়ে বিমানবন্দর সড়কের দিকে গাড়ি চালাতে থাকেন তিনি। পরিস্থিতি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় এক সহকর্মীকে বিষয়টি জানান মাকসুদা হোসেন। একপর্যায়ে তিনি জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করার চেষ্টা করলে চালক জোর করে তার মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে বন্ধ করে দেন এবং গাড়ির দরজা লক করেন।

এরপর গাড়িটি উত্তরা দিয়াবাড়ি হয়ে বেড়িবাঁধ ধরে সাভারের হেমায়েতপুরের দিকে নেওয়া হয়। পরে আবার দারুস সালাম হয়ে ঢাকার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দুপুরের দিকে পরিকল্পনা কমিশনের সামনে আসে গাড়িটি।

মাকসুদা হোসেন জানান, দীর্ঘ সময় ধরে কেন তাকে আটকে রাখা হয়েছে কিংবা কী উদ্দেশ্যে গাড়ি ঘোরানো হচ্ছে এসব বিষয়ে চালক কোনো কথা বলেননি। পরে চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রসংলগ্ন মাঠে গাড়ি থামিয়ে চালক তার মায়ের চিকিৎসার কথা বলে ছয় লাখ টাকা দাবি করেন। তাৎক্ষণিকভাবে ৫০ হাজার টাকা চান তিনি। তখন যুগ্ম সচিব জানান, তার কাছে টাকা নেই, অফিসে গেলে ব্যবস্থা করবেন।এই কথার পর চালক তাকে পরিকল্পনা কমিশনের ভেতরে নিয়ে এলে সেখানে অবস্থানরত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা চালক আবদুল আউয়ালকে আটক করেন। পরে বিকেল পর্যন্ত তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

একজন যুগ্ম সচিব জিম্মি হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো গাড়িটির অবস্থান ট্র্যাক করছিল। পরিকল্পনা বিভাগের সচিব শাকিল আখতার জানান, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে অভিযুক্ত চালক মাদকাসক্ত। ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা আদায়ের চেষ্টা করায় তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ঘটনার পর মানসিকভাবে বিপর্যস্ত মাকসুদা হোসেন বলেন, ‘চালকের অর্থের প্রয়োজন হলে তিনি চাইতে পারতেন।’ তাকে জিম্মি করে মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে চার ঘণ্টা ধরে শহরের রাস্তায় ঘোরানোর কোনো প্রয়োজন ছিল না।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর