বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:২৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
চট্টগ্রামে হামলায় জড়িত ছাত্রদল নেতাদের বিচার চায় শিবির চট্টগ্রামের ঘটনায় বিক্ষোভের ডাক ছাত্রদলের হাত ট্রিগারেই আছে, প্রতিরক্ষা বাহিনীও সম্পূর্ণ প্রস্তুত: ইরান সাবেক প্রসিকিউটর সাইমুমের বিরুদ্ধে ঘুষ চাওয়ার প্রমাণ মিলেছে: চিফ প্রসিকিউটর চলতি বছর মাথাপিছু জিডিপিতে ভারতকে ছাড়াতে পারে বাংলাদেশ : আইএমএফ বিএনপি সরকার গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী: প্রধানমন্ত্রী চুক্তি না হলে হামলার জন্য পুরোদমে প্রস্তুত মার্কিন বাহিনী: ট্রাম্প জামিন পেলেন দেড় মাসের সন্তানসহ কারাগারে যাওয়া সেই যুব মহিলা লীগ নেত্রী গ্রাফিতিতে ‘গুপ্ত’ লেখা নিয়ে চট্টগ্রামে সিটি কলেজে ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষ সরকারি সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত পুরোনো ভাড়াই বহাল

‘শেখ হাসিনার সম্পদের প্রতি এত লোভ’, রায়ের পর্যবেক্ষণে বিচারক

আওয়াজ অনলাইন ডেস্ক :
  • আপডেটের সময় : বৃহস্পতিবার, ২৭ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৩১ টাইম ভিউ

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্লট দুর্নীতির তিন মামলায় বৃহস্পতিবার রায় ঘোষণার আগে বিচারক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন মন্তব্য করেছেন, “শেখ হাসিনা একজন পলিটিক্যাল লিডার, চারবারের প্রধানমন্ত্রী। তার কেন এতো সম্পদ লাগবে?” তিনি আরও বিস্মিত হয়ে বলেন, “তার সম্পদের প্রতি এত লোভ!”

আদালতের রায়ে তিন মামলাতেই শেখ হাসিনাকে সাত বছর করে মোট ২১ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় ও মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলকে যথাক্রমে পাঁচ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। দণ্ডের পাশাপাশি তিনিও অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছেন, অনাদায়ে কারাদণ্ডের শাস্তিও রয়েছে।

বিচারক পর্যবেক্ষণে জানান, ২০২২ সালের জুলাইয়ে রাজউকের পূর্বাচল নতুন শহর আবাসিক প্রকল্পের কূটনৈতিক জোনের ২০৩ নম্বর রোডে শেখ হাসিনার নামে প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়, যা নিয়ম লঙ্ঘন করে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন প্রতিমন্ত্রীর মাধ্যমে বাস্তবায়িত হয়। আদালত উল্লেখ করেন, “রাজউকের বিধি অনুযায়ী আবেদন ছাড়া কোনো বরাদ্দ দেওয়া যাবে না। তবে সে বিধি উপেক্ষা করা হয়েছে এবং নোটারি পাবলিকের শপথ ছাড়াই হলফনামা গ্রহণ করে প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।”

বিচারক আরও বলেন, “শেখ হাসিনা নিজস্ব স্বাক্ষরে লিজ দলিলের জন্য আবেদন করেছেন, এবং এতে তার পরিবারের বরাদ্দকৃত সম্পদ সংক্রান্ত তথ্য গোপন রাখা হয়েছে। এতে স্পষ্ট যে, তিনি শুধু নিজস্ব সুবিধার জন্য প্রক্রিয়া চালিয়েছেন।”

রায়ের পর বিচারক মন্তব্য করেন, “শেখ হাসিনার সম্পদের প্রতি লোভ এতোটাই যে, তিনি নিজের জন্য, ছেলে-মেয়ে ও আত্মীয়দের জন্যও প্লটের বরাদ্দ নিশ্চিত করেছেন। একটি সৎ ব্যক্তি হয়তো এই সুযোগ নিতেন না।”

মামলার তদন্তে মোট ২৩ জনকে আসামি করা হয়েছিল। আদালত চার মাসের মধ্যেই অভিযোগ, যুক্তিতর্ক ও প্রমাণের ভিত্তিতে রায় প্রদান করে। এ রায়ের মাধ্যমে শেখ হাসিনা বাংলাদেশে দুর্নীতির দায়ে দণ্ডিত হওয়া দ্বিতীয় সাবেক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ইতিহাসে নাম লিখালেন।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর