শুক্রবার, ০৭ অগাস্ট ২০২৬, ০২:৪৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে উপহার পেল অনুশ্রী, স্বপ্ন পূরণ হলো নিরাপত্তাকর্মী রাকিবেরও র‌্যাব বিলুপ্ত করে আসছে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন’ নদীদূষণ রোধে সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণে অবহেলার সুযোগ নেই: প্রধানমন্ত্রী মৃত্যুদণ্ড বাদ না দেওয়ায় প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য দেয়নি জাতিসংঘ: ট্রাইব্যুনালকে প্রসিকিউটর সবুজবাগে শপিং ব্যাগে মিলল তরুণীর খণ্ডিত মাথা ও দুই হাত বিটিভির নতুন মহাপরিচালক কাজী জেসিন শেখ হাসিনাকে ভারত সরকার এই সুযোগ কেন দিলো- প্রশ্ন বিএনপির ফ্যামিলি কার্ডের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ১৬ আগস্ট, পাবে ১ কোটি ৬০ লাখ পরিবার ঢাকায় পাকিস্তান হাইকমিশনারের বাসভবনে আগুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটার ৩৪৯ জন, তালিকা প্রকাশ

সিলেটে শিশু ফাহিমা হত্যা মামলায় প্রধান আসামির মৃত্যুদণ্ড

আওয়াজ অনলাইন ডেস্ক :
  • আপডেটের সময় : বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট, ২০২৬
  • ৪ টাইম ভিউ
সিলেটে শিশু ফাহিমা হত্যা মামলায় প্রধান আসামির মৃত্যুদণ্ড
ছবি-সংগৃহীত

৪ বছরের শিশু ফাহিমা আক্তারকে ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি জাকির হোসেনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে তাকে ৫ লাখ টাকা জরিমানাও করা হয়েছে। তবে, মামলার অপর ২ আসামি জয়নাল ও কালামকে খালাস দেওয়ায় আদালত প্রাঙ্গণেই কান্নায় ভেঙে পড়েন ফাহিমার স্বজনরা। তাদের দাবি, লাশ গুমের ঘটনায় জড়িতদের শাস্তি না হওয়ায় বিচার পূর্ণতা পায়নি।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সিলেটের শিশু সহিংসতা প্রতিরোধ আদালতের বিচারক আবু ওবায়দা এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার পর আদালত চত্বরে একদিকে স্বস্তি, অন্যদিকে ক্ষোভ ও কান্নার আবহ তৈরি হয়।

আদালত সূত্রে জানা যায়, গত ৭ মে সিলেট সদর উপজেলার কান্দিগাঁও ইউনিয়নের সোনাতলা গ্রামে প্রতিবেশী জাকির হোসেন সিগারেট এনে দেওয়ার কথা বলে ৪ বছরের ফাহিমাকে নিজের ঘরে নিয়ে যায়। সেখানে ধর্ষণের চেষ্টা করলে শিশুটি অজ্ঞান হয়ে পড়ে। ধরা পড়ার ভয়ে তার গলা টিপে হত্যা করে জাকির। এরপর লাশ একটি সুটকেসে ভরে ২ দিন নিজের ঘরে লুকিয়ে রাখে। পরে গভীর রাতে বাদাঘাট এলাকার একটি ডোবায় ফেলে দেয়।এ ঘটনায় ৮ মে জালালাবাদ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। গ্রেফতারের পর জাকির পুলিশের কাছে অপরাধ স্বীকার করেন। তদন্ত শেষে ঘটনার ৩৩ দিনের মাথায় জাকির ও তার দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। পরে তিন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে গত ১ জুলাই বিচার শুরু হয়। মাত্র এক মাসের বিচারিক কার্যক্রম শেষে বৃহস্পতিবার আলোচিত এ মামলার রায় ঘোষণা করা হয়।

রায় ঘোষণার আগে ও পরে আদালতে হাজির করার সময় জাকিরকে ঘিরে ক্ষোভ প্রকাশ করেন উপস্থিত মানুষ। এর আগেও একাধিকবার আদালতে আনা-নেওয়ার সময় তিনি উত্তেজিত জনতার হাতে হেনস্তার শিকার হন। ২ আসামি খালাস পাওয়ায় ক্ষোভ লুকাতে পারেননি ফাহিমার পরিবার। মামলার সাক্ষী আনসার আহমদ বলেন, ‘যারা লাশ গুমে সহযোগিতা করেছে বলে আমরা বিশ্বাস করি, তারা খালাস পেয়েছে। এতে আমরা কষ্ট পেয়েছি।’

ফাহিমার চাচা আবদুল হক বলেন, ‘সব দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত না হলে এই বিচার অপূর্ণ থেকে যাবে।’

ফাহিমার বাবা রইসুল হক বলেন, ‘আমার মেয়েকে আর ফিরে পাব না। জাকিরের ফাঁসি কার্যকর হলে অন্তত মনে হবে, আমার সন্তান হত্যার বিচার হয়েছে।’

মা রুবিনা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমার ফুলের মতো মেয়েটাকে যেভাবে কেড়ে নেওয়া হয়েছে, সেই কষ্ট কোনো দিন শেষ হবে না। আমি শুধু চাই, যারা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত, সবাই যেন শাস্তি পায়।’

বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মনিরুজ্জামান জানান, ২ আসামিকে খালাস দেওয়ার রায়ে তারা সন্তুষ্ট নন। পূর্ণাঙ্গ রায় হাতে পাওয়ার পর খালাসের অংশ চ্যালেঞ্জ করে উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর