তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশার প্রভাব কাটিয়ে ধীরে ধীরে জমে উঠতে শুরু করেছে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা (ডিআইটিএফ)। রাজধানী ঢাকার উপকণ্ঠ পূর্বাচলের বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে আয়োজিত এই মেলার শুরুতে দর্শনার্থীর উপস্থিতি কম থাকলেও দিন যত যাচ্ছে, লোকসমাগম ততই বাড়ছে। মেলার ষষ্ঠ দিন বৃহস্পতিবার সরেজমিনে দেখা গেছে, আগের দিনগুলোর তুলনায় এদিন দর্শনার্থী ও ক্রেতার উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।
আয়োজক ও ব্যবসায়ীরা জানান, মেলার প্রচার-প্রসার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সাধারণ মানুষের আগ্রহও বাড়ছে। তারা আশা করছেন, ছুটির দিন শুক্র ও শনিবার থেকে মেলা আরও জমজমাট হয়ে উঠবে, যার ফলে ক্রেতা সমাগম ও বেচাকেনা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।
মেলা প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা গেছে, এবারের বাণিজ্য মেলা বর্ণিল সাজে সাজানো হয়েছে। দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করতে স্টলগুলোতে লাল, নীল ও হলুদ রঙের নান্দনিক আলোকসজ্জা করা হয়েছে। মেলায় দেশি-বিদেশি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের গৃহস্থালি সামগ্রী, প্রসাধনী, পোশাক, জুতা, ইলেকট্রনিক্স ও ফার্নিচারসহ নানা ধরনের পণ্যের পসরা সাজিয়ে বসেছেন ব্যবসায়ীরা। পাশাপাশি রয়েছে নানা স্বাদের খাবারের দোকান।
এদিন বিশেষ করে আইসক্রিম, কাপড় ও গৃহস্থালি পণ্যের দোকানগুলোতে তুলনামূলক বেশি ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।
স্টল মালিকরা জানান, মেলার শুরুতে সাধারণত দর্শনার্থীর সংখ্যাই বেশি থাকে। তারা এক স্টল থেকে আরেক স্টল ঘুরে পণ্যের মান যাচাই করেন এবং দরদাম দেখে সিদ্ধান্ত নিতে সময় নেন। মেলার শেষের দিকে বিভিন্ন ছাড় ও বিশেষ অফার শুরু হলে তখন মূলত কেনাকাটা বাড়ে।
ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন বলেন, শীতের কারণে শুরুতে দর্শনার্থী কিছুটা কম ছিল। যারা আসছেন, তাদের অনেকেই শুধু ঘুরে দেখছেন, কেনাকাটা করছেন কম। ক্রেতা সৌরভ কুমার জানান, মেলায় প্রয়োজনীয় পণ্যগুলো ঘুরে দেখছেন। পছন্দ হলে কিনবেন, তবে মেলার শেষের দিকে বিশেষ মূল্যছাড় দেওয়া হলে তখন কেনাকাটার বড় পরিকল্পনা রয়েছে তার। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) সচিব তরফদার সোহেল রহমান বলেন, আগামী ১০ থেকে ১৫ জানুয়ারির মধ্যে মেলা আরও প্রাণবন্ত ও জমজমাট হয়ে উঠবে বলে তারা প্রত্যাশা করছেন।
এদিকে মেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। বাণিজ্য মেলার নিরাপত্তায় জেলার প্রায় সাড়ে ৮শ পুলিশ সদস্য দিনরাত পালাক্রমে দায়িত্ব পালন করছেন।