বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ১২:০৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
বিএনপি সরকার গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী: প্রধানমন্ত্রী চুক্তি না হলে হামলার জন্য পুরোদমে প্রস্তুত মার্কিন বাহিনী: ট্রাম্প জামিন পেলেন দেড় মাসের সন্তানসহ কারাগারে যাওয়া সেই যুব মহিলা লীগ নেত্রী গ্রাফিতিতে ‘গুপ্ত’ লেখা নিয়ে চট্টগ্রামে সিটি কলেজে ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষ সরকারি সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত পুরোনো ভাড়াই বহাল টেকনাফের পাহাড় থেকে রক্তাক্ত তিনজনের লাশ উদ্ধার আলোচনার টেবিলকে ‘আত্মসমর্পণের মঞ্চে’ পরিণত করার চেষ্টায় ট্রাম্প: গালিবাফ নওগাঁয় একই পরিবারের ৪ জনকে গলা কেটে হত্যা যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের প্রতি পাকিস্তানের আহ্বান বিএনপি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে চীনের শীর্ষ নেতৃত্বের দ্বিপাক্ষিক সভা

এক সপ্তাহেও উদ্ধার হয়নি অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র, নির্বাচনী নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন

রাজু আহমেদ, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, ঢাকা :
  • আপডেটের সময় : শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ২৬৬ টাইম ভিউ
এক সপ্তাহেও উদ্ধার হয়নি অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র, নির্বাচনী নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন

ঢাকার মিরপুরে হযরত শাহ্ আলী (রহ.) মাজার শরীফের পেছনের জমি দখলের চেষ্টাকে কেন্দ্র করে গভীর রাতে সংঘটিত সশস্ত্র সংঘর্ষের ঘটনার এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও এখনো উদ্ধার হয়নি অভিযোগকৃত অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র। এতে করে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং আসন্ন নির্বাচনী কার্যক্রমে বাধা ও জনমনে চরম নিরাপত্তাহীনতার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ঘটনাটি ঘটে গত ২৮ জানুয়ারি (সোমবার) দিবাগত মধ্যরাতে, ঢাকা-১৪ আসনের অন্তর্গত হযরত শাহ্ আলী (রহ.) মাজার শরীফ কমপ্লেক্সের মালিকানাধীন সদ্য উচ্ছেদকৃত ১৩২ শতাংশ খালি প্লটে।  অভিযোগ রয়েছে, ১০ থেকে ১২ সদস্যের একটি দুষ্কৃতিকারী চক্র অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে জমি দখলের উদ্দেশ্যে সেখানে অনুপ্রবেশ করে।

মাজার শরীফের কর্মকর্তা আওলাদ হোসেন জানান, এদিন রাত আনুমানিক সোয়া ১২ টার দিকে তিনি জানতে পারেন, খালি প্লটে বিশাল সাইনবোর্ড টাঙানো ও বাঁশের খুঁটি পুঁতে স্থাপনা নির্মাণ করা হচ্ছে। বিষয়টি তিনি তাৎক্ষণিকভাবে মাজার শরীফের অফিসিয়াল মোতাওয়াল্লী, ঢাকা জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে অবহিত করেন। নির্দেশনা অনুযায়ী নিরাপত্তারক্ষীদের নিয়ে ঘটনাস্থলে গেলে দখলচেষ্টাকারীরা নিজেদের জেলা প্রশাসকের ‘অর্ডার’ আছে বলে দাবি করে।

কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে এবং কাজ বন্ধ করতে অস্বীকৃতি জানায়।

‘আমি বিএনপির রাজপথের সৈনিক’—হুমকির অভিযোগ

মাজার শরীফের সিকিউরিটি ইনচার্জ শহিদুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, দখলচেষ্টাকারীদের একজন মীর মোশাররফ নিজেকে বিএনপির রাজপথের সৈনিক দাবি করে বলেন, “আমরা তুলি আপার লোক।”

অন্যদিকে মোখলেসুর রহমান দুলাল নামের আরেকজন হুমকি দিয়ে বলেন, “পাঁচ মিনিটের মধ্যে জায়গা না ছাড়লে সবার হাড়গোড় ভেঙে দেবো।”

সংঘর্ষ ও পিস্তল বের করে গুলির হুমকি

তর্ক-বিতর্কের একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে তুমুল মারামারি শুরু হয়। প্রত্যক্ষদর্শী নিরাপত্তাকর্মী শরিফুল ইসলাম জানান, সংঘর্ষের এক পর্যায়ে দখলকারীদের কয়েকজন মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। তখন হঠাৎ একজন কোমর থেকে একটি পিস্তল বের করে নিরাপত্তারক্ষীদের লক্ষ্য করে গুলি করার হুমকি দেয়। মাজার শরীফের আরো এক নিরাপত্তাকর্মী বলেন, “পিস্তল দেখানোর পর আমরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ি। সেই সুযোগে অস্ত্রধারীসহ কয়েকজন পালিয়ে যায়। পরে আমরা তিনজনকে আটক করে থানায় সোপর্দ করি।”

আটককৃতরা হলেন—মীর মোশাররফ (৫০), মোখলেসুর রহমান দুলাল (৫২) ও মীর তৌসিফ।

ঘটনার পর এক সপ্তাহ পার হলেও অস্ত্র উদ্ধার না হওয়ায় মাজার শরীফের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম আতঙ্কে রয়েছেন। তাদের অভিযোগ, পুলিশ এখনো অস্ত্রধারী ব্যক্তিকে শনাক্ত কিংবা আগ্নেয়াস্ত্রটি বৈধ না অবৈধ—তা নির্ধারণে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি দেখাতে পারেনি।

দারুসসালাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ জাকারিয়া ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আটক তিনজনের কাছ থেকে কোনো অস্ত্র পাওয়া যায়নি এবং আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তারা জামিনে মুক্ত হয়েছেন। তবে আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শনের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বিষয়টি অস্বীকার করেন। ঘটনার রাতে তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত না থেকেও কিভাবে নিশ্চিত হলেন যে অস্ত্র ছিল না—এমন প্রশ্নে ওসি আর কোনো মন্তব্য করেননি।

এ বিষয়ে ডিএমপির মিরপুর বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মোঃ মইনুল বলেন, “আমি পুরো বিষয়টি অবগত নই। ওসির সঙ্গে কথা বলবো। আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শনের অভিযোগ তদন্ত করে দেখার নির্দেশ দিচ্ছি।”

নির্বাচন ও আইন-শৃঙ্খলা নিয়ে উদ্বেগ

স্থানীয়দের মতে, প্রকাশ্যে অস্ত্র প্রদর্শন ও হুমকির মতো ঘটনায় যদি এক সপ্তাহেও অস্ত্র উদ্ধার না হয়, তবে তা আইন-শৃঙ্খলার চরম দুর্বলতার ইঙ্গিত দেয়। এতে করে আসন্ন জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচনী কার্যক্রমে সহিংসতা, ভয়ভীতি ও সন্ত্রাস ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সাধারণ মানুষের মনে জন্ম নিয়েছে গভীর নিরাপত্তাহীনতা ও প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর