শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:৩৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
লেবানন-ইসরাইলের মধ্যে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা ট্রাম্পের দেশের রিজার্ভে বড় সুখবর, ৩৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজ প্রজেক্ট প্রদর্শনী ও অলিম্পিয়াড এ জেলায় প্রথম স্থান অর্জন ইরান চুক্তিতে রাজি না হলে ফের যুদ্ধ শুরু হবে, হুঁশিয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশোধ নয়, জাতীয় ঐক্যই আমাদের শক্তি: প্রধানমন্ত্রী মার্কিন নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে পারস্য উপসাগরে দ্বিতীয় ইরানি সুপারট্যাঙ্কার ইউরোপে আর মাত্র ছয় সপ্তাহের জেট ফুয়েল অবশিষ্ট আছে: আইইএ প্রধান হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত, এনটিআরসিএর প্রধান শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় বাধা নেই বিপিসির শীর্ষপর্যায়ে ৭ কর্মকর্তাকে বদলি-পদায়ন শুক্রবার হজ ফ্লাইট উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী আশা ভোঁসলে আর নেই

বিনোদন ডেস্ক :
  • আপডেটের সময় : রবিবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৬
  • ১৩ টাইম ভিউ
কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী আশা ভোঁসলে আর নেই

ভারতীয় সংগীতের ইতিহাসে এমন কিছু নাম আছে, যাদের ছাড়া এই ভুবন কল্পনা করা যায় না—তাদের অন্যতম ছিলেন আশা ভোঁসলে। তার কণ্ঠে ছিল বৈচিত্র্য, আবেগ আর এক অদ্ভুত প্রাণশক্তি, যা প্রজন্মের পর প্রজন্মকে মুগ্ধ করেছে। জন্ম ও শৈশব ১৯৩৩ সালের ৮ সেপ্টেম্বর ভারতের সাংলিতে জন্মগ্রহণ করেন আশা ভোঁসলে। তার বাবা Deenanath Mangeshkar ছিলেন একজন প্রখ্যাত শাস্ত্রীয় সংগীতশিল্পী ও নাট্যব্যক্তিত্ব। পরিবার থেকেই সংগীতের হাতেখড়ি। বড় বোন Lata Mangeshkar-এর সঙ্গে ছোটবেলা থেকেই গান শেখা শুরু করেন তিনি।

কিন্তু খুব অল্প বয়সেই বাবার মৃত্যু হওয়ায় পরিবারের আর্থিক সংকট শুরু হয়। তখন থেকেই জীবনের কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হন আশা।

সংগ্রাম থেকে সাফল্য

মাত্র ৯ বছর বয়সে গান গেয়ে ক্যারিয়ার শুরু করেন তিনি। ১৯৪৩ সালে প্রথম চলচ্চিত্রে গান রেকর্ড করেন। শুরুটা ছিল খুব সহজ নয়—ছোট বাজেটের সিনেমা, কম পরিচিত গান—এসব দিয়েই ধীরে ধীরে নিজের জায়গা তৈরি করেন। পরবর্তীতে সুরকার O. P. Nayyar-এর সঙ্গে কাজ করে তার ক্যারিয়ারে বড় বাঁক আসে। এরপর কিংবদন্তি সুরকার R. D. Burman-এর সঙ্গে তার জুটি ভারতীয় সংগীতে নতুন মাত্রা যোগ করে।

সংগীতে বৈচিত্র্যের বিস্ময়

আশা ভোঁসলের সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল তার বহুমুখিতা।

তিনি সমান দক্ষতায় গেয়েছেন—

গজল

পপ

ভজন

শাস্ত্রীয় সংগীত

ক্যাবারে ও আধুনিক গান

ধারণা করা হয়, তিনি ১২ হাজারেরও বেশি গান গেয়েছেন বিভিন্ন ভাষায়—যা তাকে বিশ্বের অন্যতম বহুমুখী শিল্পীতে পরিণত করেছে।

তার জনপ্রিয় গানগুলোর মধ্যে রয়েছে—

“দম মারো দম”

“চুরা লিয়া হ্যায় তুমনে”

“পিয়া তু আব তো আজা”

“দিল চিজ কেয়া হ্যায়”

পুরস্কার ও স্বীকৃতি

দীর্ঘ সংগীত জীবনে তিনি অসংখ্য সম্মাননা অর্জন করেছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য—

Dadasaheb Phalke Award

Padma Vibhushan

একাধিক Filmfare Awards

এই সম্মাননাগুলো তার অবদানেরই স্বীকৃতি বহন করে।

ব্যক্তিগত জীবনের গল্প

আশা ভোঁসলের ব্যক্তিগত জীবনও ছিল নাটকীয়তায় ভরা। মাত্র ১৬ বছর বয়সে তিনি পরিবারের অমতে বিয়ে করেন গণপতরাও ভোঁসলেকে। কিন্তু সেই সংসার টেকেনি। তিন সন্তানকে নিয়ে কঠিন সময় পার করেন তিনি। পরবর্তীতে ১৯৮০ সালে R. D. Burman-কে বিয়ে করেন। এই সম্পর্ক ছিল ভালোবাসা, সৃজনশীলতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার এক অনন্য উদাহরণ।

সংগীতের বাইরে

শুধু গানই নয়, রান্নার প্রতিও ছিল তার বিশেষ আগ্রহ। তার নিজস্ব রেস্তোরাঁ ব্র্যান্ডও রয়েছে, যেখানে ভারতীয় খাবারের স্বাদ পাওয়া যায়। এই দিকটি তাকে ভক্তদের কাছে আরও মানবিক ও কাছের করে তোলে।

অসুস্থতা ও শেষ সময়

জীবনের শেষ দিকে বার্ধক্যজনিত নানা সমস্যায় ভুগছিলেন তিনি। হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মুম্বাইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তার নাতনি Zanai Bhosle জানান, বুকে সংক্রমণের কারণে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

তার অসুস্থতার খবর ছড়িয়ে পড়তেই Anupam Kher, Neil Nitin Mukesh-সহ অনেক তারকা তার দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন।

এক অমর উত্তরাধিকার

আশা ভোঁসলে শুধু একজন গায়িকা নন—তিনি এক যুগের নাম। তার কণ্ঠে ভারতীয় সংগীত পেয়েছে নতুন মাত্রা, নতুন রং।

তার জীবন আমাদের শেখায়—

প্রতিভা, পরিশ্রম আর ভালোবাসা থাকলে প্রতিকূলতাকে জয় করেই শীর্ষে পৌঁছানো যায়।

তিনি না থাকলেও তার গান, তার সুর, তার আবেগ—চিরকাল বেঁচে থাকবে সংগীতপ্রেমীদের হৃদয়ে।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর