বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ০১:১৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে অনুরোধ করেছে ইরান, দাবি ট্রাম্পের জাপানে বিপুল পরিমাণ জনশক্তি পাঠানোর সুযোগ পাচ্ছে বাংলাদেশ ৯ জেলায় ৮০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ের শঙ্কা, নদীবন্দরে ২ নম্বর সংকেত ফজলুর রহমানের যেসব কথায় ১০ মিনিট অচল সংসদ পুলিশে নতুন সাড়ে ১৪ হাজার পদ সৃষ্টি হচ্ছে: সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জিডিপিতে ভারতকে ছাড়িয়ে যেতে পারে বাংলাদেশ :আইএমএফ-এর প্রতিবেদন ওপেক ছাড়ল আমিরাত, বৈশ্বিক তেল রপ্তানিকারক গোষ্ঠীতে বড় ধাক্কা গত এক মাসে তেল বিক্রি করে ইরানের আয় বেড়েছে ৪০ শতাংশ ভারতের সঙ্গে ভিসা প্রক্রিয়া সহজীকরণে সরকারের পদক্ষেপ :সংসদে পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বললেন জঙ্গি নেই, উপদেষ্টা বলছেন আছে

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বললেন জঙ্গি নেই, উপদেষ্টা বলছেন আছে

আওয়াজ অনলাইন ডেস্ক :
  • আপডেটের সময় : মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৬ টাইম ভিউ
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বললেন জঙ্গি নেই, উপদেষ্টা বলছেন আছে

উগ্রবাদী হামলার আশঙ্কায় দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় নিরাপত্তা জোরদার ও বিমানবাহিনীর বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তারের মধ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ দাবি করেছেন, দেশে কোনো জঙ্গি নেই। একই দিন তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান আবার বলেছেন, দেশে জঙ্গিবাদ আছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মঙ্গলবার সকালে রাজধানীতে কোস্ট গার্ড সদর দপ্তরে এক অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এমন দাবি করেন। অন্যদিকে, সচিবালয়ে সরকারের কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে ব্রিফিংয়ে আসের তথ্য উপদেষ্টা।

দুজনই একটি দাবিতে একমত আর সেটি হলো গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকার জঙ্গিবাদকে ‘রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করেছে’। নিষিদ্ধ ঘোষিত একটি উগ্রবাদী সংগঠনের সদস্যরা জাতীয় সংসদ ভবনসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলা চালাতে পারে-এমন আশঙ্কায় শুক্রবার রাতে সতর্কবার্তা দেয় পুলিশ সদর দপ্তর। গত বৃহস্পতিবার বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট প্রধানদের কাছে পাঠানো এক বার্তায় ‘নিরাপত্তা জোরদারের’ নির্দেশনা দেওয়া হয়।

এর মধ্যে সোমবার দেশের সব বিমানবন্দরে নিরাপত্তা জোরদার করার কথা জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক। ঢাকার ধামরাই থেকে রাষ্ট্রবিরোধী তৎপরতার অভিযোগে একজনকে গ্রেপ্তারের কথা জানানো হয়েছে। তিনি সেনাবাহিনীর বেসামরিক শাখায় চাকরি করতেন বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্রগুলো জানিয়েছে। আবার মধ্যে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানের (টিটিপি) আস্তানায় চট্টগ্রামের বিমানবাহিনী ঘাঁটি থেকে নিখোঁজ একজন ওয়ারেন্ট অফিসারের সন্ধান পাওয়া গেছে।

টাইমস অব বাংলাদেশের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এই চাঞ্চল্যকর তথ্যের পর বিমানবাহিনীর অভ্যন্তরে উগ্রবাদী সংশ্লিষ্টতা খতিয়ে দেখতে শুরু হয়েছে ব্যাপক তদন্ত।

এ ধরনের ঘটনায় গত এক সপ্তাহে বিমানবাহিনীর ২০ জনেরও বেশি সদস্যকে আটক করা হয়েছে। আটক হওয়াদের মধ্যে ওই ওয়ারেন্ট অফিসার ছাড়াও আছেন দুইজন স্কোয়াড্রন লিডার, ১০ জন জুনিয়র কমিশনড অফিসার ও বিমানসেনা এবং একজন ইমাম।

‘জঙ্গিবাদ স্বীকার করি না’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে এক সংবাদকর্মী ‘জঙ্গি উত্থানের’ বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন রাখেন। জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘আমি আপনাদের প্রশ্নগুলো বুঝতে পেরেছি, কিন্তু আমি ওই শব্দকে (জঙ্গিবাদ) রিকগনাইজ করি না। আমাদের দেশে এরকম কোনো তৎপরতা নেই। কিছু এক্সট্রিমিস্ট গ্রুপ থাকে—পৃথিবীর সব দেশেই এরকম অ্যাক্টিভ থাকে। কিন্তু সে বিষয়ে আপনি যে শব্দ উচ্চারণ করলেন, আমাদের দেশের বর্তমান কালচারে সেটা এখন আর নাই-ই।’

জঙ্গিবাদ নিয়ে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আগে সেই শব্দটা উচ্চারিত হতো ফ্যাসিবাদী আমলের সময়; তারা নিজস্ব রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের জন্য এগুলোকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করত। বর্তমানে বাংলাদেশে সেগুলোর অস্তিত্ব নেই।’

এই পর্যায়ে এক সংবাদকর্মী শৃঙ্খলা বাহিনীতে অভিযানের বিষয়ে প্রশ্ন রাখেন। জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে যদি শৃঙ্খলা পরিপন্থী বা নেতিবাচক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ ওঠে, তবে বাহিনীর নিজস্ব ইন্টেলিজেন্স উইংয়ের মাধ্যমে তা খতিয়ে দেখা হয় এবং প্রচলিত সামরিক বা বিভাগীয় আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এটি একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া।

‘জঙ্গিবাদ আছে’

দুপুরে সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে ব্রিফিংয়ে আসেন তথ্য উপদেষ্টা। সেখানে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় ‘জঙ্গি হামলার’ আশঙ্কায় নিরাপত্তা জোরদার এবং অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ‘দেশে আসলে জঙ্গি নেই’বলে প্রচারের বিষয়ে প্রশ্ন রাখেন এক সংবাদকর্মী। জবাবে জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘এটা ফ্যাক্ট; বাংলাদেশে জঙ্গি আছে।’এরপর তিনি কথা বলেন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের কথা।

তিনি বলেন, ‘আগের সরকারের সময় জঙ্গি সমস্যাকে যে স্কেলে দেখানো হয়েছে, এটা তাদের ক্ষমতায় থাকার একটা ন্যারেটিভ হিসেবে তারা ব্যবহার করেছিলেন যে ‘বাংলাদেশে জঙ্গি আছে, জঙ্গিরা সব দখল করবে; সুতরাং আমি নির্বাচন করলাম কি না দেখার দরকার নেই, আমাকে ক্ষমতায় রাখ। দ্যাট ওয়াজ আ ন্যারেটিভ।’

অন্তর্বর্তী সরকারের আমলের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘ইন্টেরিমের সময় এই আলাপ কেউ কেউ করার চেষ্টা করেছে যে বাংলাদেশে কোনো জঙ্গি নেই, এটাও আরেকটা এক্সট্রিম। এটাও ভুল কথা। বাংলাদেশে একটা পর্যায়ে জঙ্গিবাদ ছিল, আছে।’

অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছরে উগ্রবাদীদের বেশি সংগঠিত হওয়া বা প্রকাশ্যে আসার প্রবণতা তৈরি হয়েছিল বলেও মন্তব্য করেন তথ্য উপদেষ্টা। বিএনপি সরকার এগুলোকে মোকাবিলা করবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা যদি কোনো একটা সংকটকে বা ডিজিজকে স্বীকার না করি, ওটার চিকিৎসা হবে না। সো ইটস দেয়ার, আমরা এটাকে একেবারে শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনার চেষ্টা করব।’

২০২৪ সালের ৫ অগাস্টের পরে জেল থেকে অনেক ‘জঙ্গির’ বেরিয়ে যাওয়ার বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করেন আরেক সংবাদকর্মী। জবাবে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘কিছু মানুষ বেরিয়েছিলেন। এখন সরকারের নিয়মিত কাজ…এটা একদম নিয়মিত কর্মকাণ্ডের বা কাজের পার্ট যে, সরকার এগুলো কমব্যাট করবে।’

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর