সময়ের আওয়াজ ডেস্ক : রাজধানীর আগারগাঁওয়ে শুরু হওয়া মাসব্যাপী জাতীয় বৃক্ষমেলায় দেশি-বিদেশি নানা প্রজাতির ফল, ফুল ও শোভাবর্ধনকারী গাছের চারার পাশাপাশি বিদেশি আমের চারা এবার বিশেষ আকর্ষণ হয়ে উঠেছে। থাইল্যান্ড, ভারত, পাকিস্তান, ব্রুনাই ও যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন জাতের আমের চারা দেখতে এবং কিনতে মেলায় ভিড় করছেন দর্শনার্থীরা। কিছু চারার দাম ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত হলেও আগ্রহের কমতি নেই।
বৃহস্পতিবার মেলার উদ্বোধনের পর দর্শনার্থীদের জন্য এটি উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত চলবে এই আয়োজন। বিভিন্ন নার্সারি তাদের সংগ্রহে থাকা বিরল ও উন্নত জাতের গাছের চারা প্রদর্শন করছে। হোসেন নার্সারি এবার প্রায় ১০০ প্রজাতির আমের চারা নিয়ে এসেছে। এর মধ্যে রয়েছে ভারতের আলফানসো, তোতাপুরি, থাইল্যান্ডের হানিডিউ ও কিং অব চাকাপাত, যুক্তরাষ্ট্রের আপেল ম্যাঙ্গো, পাকিস্তানের আনওয়ার-আতুল এবং ব্রুনাইয়ের কিং অব ব্রুনেইসহ আরও অনেক জাত। নার্সারি কর্তৃপক্ষের দাবি, প্রতিটি জাতেরই রয়েছে আলাদা বৈশিষ্ট্য। যেমন আলফানসো আমের প্রকৃত সুবাস পেতে বিশেষ পদ্ধতিতে গ্রাফটিং করতে হয়। অন্যদিকে হানিডিউ আম আকারে বড়, অত্যন্ত মিষ্টি এবং এর আঁটি তুলনামূলক পাতলা। আপেল ম্যাঙ্গোও স্বাদ ও গঠনের কারণে ক্রেতাদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। এসব উন্নত জাতের চারার মধ্যে কিছু ৩০০ টাকায় মিললেও হানিডিউ ও আপেল ম্যাঙ্গোর মতো বিরল চারার দাম রাখা হয়েছে ৩০ হাজার টাকা।
এবারের মেলায় ১২০টি স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সরকারি ও বেসরকারি নার্সারির পাশাপাশি তথ্যকেন্দ্র, নিয়ন্ত্রণকক্ষ, মেডিক্যাল কর্নার, বিশ্রামকক্ষ ও মিডিয়া কর্নারের মতো বিভিন্ন সেবা। বন অধিদপ্তরের প্রত্যাশা, এবারের মেলায় ১৭ থেকে ১৮ লাখ চারা বিক্রি হবে, যা দেশের সবুজায়ন কর্মসূচিকে আরও এগিয়ে নিতে সহায়ক হবে। শুধু আম নয়, মেলায় রয়েছে প্রায় সাড়ে তিনশ প্রজাতির ফলদ গাছের চারা। দর্শনার্থীরা জাপানের পার্সিমন, ব্রাজিলের জাবুটিকাবা, মালয়েশিয়ার ডুরিয়ান, রামবুটান, ম্যাঙ্গোস্টিন, থাই সুগন্ধি নারকেলসহ নানা বিদেশি ফলের চারাও কিনতে পারবেন। পাশাপাশি প্রায় এক হাজার প্রজাতির শোভাবর্ধনকারী গাছ, ফুল ও পাতাবাহারের সংগ্রহও মেলার অন্যতম আকর্ষণ।
দর্শনার্থীদের অনেকেই বলছেন, প্রতিবছর নতুন নতুন গাছের সন্ধান পাওয়ার জন্যই তারা এই মেলার অপেক্ষায় থাকেন। ছাদবাগান ও পারিবারিক বাগান সমৃদ্ধ করতে বিরল প্রজাতির ফলদ ও শোভাবর্ধনকারী গাছের চাহিদাও দিন দিন বাড়ছে।