সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬, ১২:০৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
তরুণদের দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তরে সংসদের সক্রিয় ভূমিকার আহ্বান চীফ হুইপের হুমায়ূন আহমেদের স্মৃতি সংরক্ষণে জাতীয় উদ্যোগের দাবি জোরালো কক্সবাজারে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি, পানিবন্দি প্রায় ২ লাখ, মৃত বেড়ে ২৮ ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই শেষে সুস্থতার পথে ইবরার টিপু প্রতারণার মামলায় তানজিন তিশাকে আদালতে হাজিরের নির্দেশ গোয়ালন্দে হালিম মিয়া কলেজের উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের মাঝে গাছের চারা বিতরন, রোপন ও রেলী অনুষ্ঠিত ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ১০ জেলায় নতুন করে বন্যার শঙ্কা পলাতকদের দেশে ফিরিয়ে এনে বিচার করা হবে: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হত্যার হুমকির পর ইরানকে পাল্টা হুমকি ট্রাম্পের ভোলায় পরীক্ষায় নকল করতে না পেরে কেন্দ্রে শিক্ষার্থীদের হামলা

কক্সবাজারে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি, পানিবন্দি প্রায় ২ লাখ, মৃত বেড়ে ২৮

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেটের সময় : রবিবার, ১২ জুলাই, ২০২৬
  • ১৬ টাইম ভিউ
ছবি সংগ্রহীত

সময়ের আওয়াজ ডেস্ক : টানা বৃষ্টিপাতে কক্সবাজার জেলার বন্যা পরিস্থিতি আবারও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। শনিবার রাত থেকে রোববার পর্যন্ত অবিরাম বর্ষণের ফলে কমতে শুরু করা বন্যার পানি নতুন করে বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে চকরিয়া, পেকুয়া ও মাতামুহুরী উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়ে প্রায় দুই লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। অনেক পরিবার টানা সাত থেকে আট দিন ধরে জলাবদ্ধ অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছে।

স্থানীয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত চকরিয়া উপজেলায় এখনো এক লাখের বেশি মানুষ পানিবন্দি রয়েছেন। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রায় পাঁচ হাজার খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হলেও দুর্গম এলাকার অনেক বাসিন্দা এখনো ত্রাণ সহায়তা পাননি। পেকুয়া উপজেলার সাতটি ইউনিয়নই বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং সেখানে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ পানিবন্দি রয়েছেন। প্রতিটি ইউনিয়নে ত্রাণ বিতরণের প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। মাতামুহুরী উপজেলার বিভিন্ন এলাকাতেও বন্যার পানি এখনো নামেনি। স্থানীয়দের অভিযোগ, দ্রুত ত্রাণ ও বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা না হলে মানবিক সংকট আরও গভীর হতে পারে।

এদিকে, দুর্যোগে প্রাণহানির ঘটনাও বেড়েছে। শনিবার রাতে কক্সবাজার সদর, পেকুয়া ও চকরিয়ায় পৃথক ঘটনায় এক নারী ও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সদর উপজেলার ঝিলংজা ইউনিয়নে পাহাড়ধসে ঘরের রান্নাঘর চাপা পড়ে রোজিনা আক্তার নামে এক নারীর মৃত্যু হয়। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা প্রায় দুই ঘণ্টার উদ্ধার অভিযানের পর তার মরদেহ উদ্ধার করেন। অন্যদিকে, পেকুয়ায় বাড়ির সামনে জমে থাকা বন্যার পানিতে পড়ে দুই বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে চকরিয়া উপজেলার কৈয়ারবিল এলাকায় বন্যার পানিতে ভেসে নিখোঁজ হওয়া ১২ বছর বয়সী সজীব জলদাসের মরদেহ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস ও ডুবুরি দল।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক বন্যা ও পাহাড়ধস মিলিয়ে কক্সবাজার জেলায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৮ জনে পৌঁছেছে। প্রশাসন জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধার, ত্রাণ বিতরণ ও পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে। পাশাপাশি নতুন করে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকায় নদী-তীরবর্তী ও পাহাড়ঘেঁষা এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর