নারীদের সাফল্য, স্বাধীনতা ও স্বাবলম্বী হয়ে ওঠাকে নেতিবাচকভাবে দেখার প্রবণতা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী সাদিয়া আয়মান। নারীদের জন্য চালু হওয়া বিশেষ ‘গোলাপি বাস’ সেবা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ট্রল ও কটূক্তির জবাব দিতে গিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন তিনি।
সম্প্রতি ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে সাদিয়া আয়মান বলেন, সমস্যাটি কোনো বাস, এর রং কিংবা নাম নিয়ে নয়; বরং সমাজের একটি অংশের সংকীর্ণ মানসিকতাই মূল বিষয়। তার মতে, সফল, স্বাধীন ও স্বাবলম্বী নারীদের স্বাভাবিকভাবে মেনে নেওয়ার ক্ষেত্রে এখনো সমাজের একটি অংশের মধ্যে অনীহা রয়েছে।
‘গোলাপি বাস’ নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্যের প্রসঙ্গে অভিনেত্রী এটিকে ‘কিউট ও পুকি’ হিসেবে উল্লেখ করে নারীদের কঠোর পরিশ্রম ও উদ্যোগের প্রতীক হিসেবে দেখার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে এই সেবার সঙ্গে যুক্ত নারী কর্মী ও উদ্যোক্তাদের পরিশ্রমের প্রতি সম্মান দেখানোর কথাও বলেন তিনি।
সাদিয়া তার অনুসারীদের নেতিবাচক সমালোচনায় গুরুত্ব না দিয়ে জনকল্যাণমূলক এমন উদ্যোগকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করার আহ্বান জানিয়েছেন। তার বক্তব্য প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই অভিনেত্রীর অবস্থানের প্রশংসা করেছেন। একই সঙ্গে নারীদের অগ্রযাত্রার পথে সামাজিক মানসিকতার প্রতিবন্ধকতা নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
সম্প্রতি ঢাকা ছাড়াও দেশের বিভিন্ন স্থানে নারীদের জন্য বিশেষ ‘গোলাপি বাস’ সেবা চালু করা হয়েছে। এর মূল উদ্দেশ্য নারী যাত্রীদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় পরিবহন সুবিধা নিশ্চিত করা। বিশেষ করে কর্মজীবী নারী ও শিক্ষার্থীদের নিয়মিত যাতায়াতের ভোগান্তি কমানোর পাশাপাশি গণপরিবহনে হয়রানি ও নিরাপত্তাঝুঁকি কমানোর লক্ষ্যেই এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এই সেবায় নারী চালক, হেল্পার ও নারী ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি নারী যাত্রীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে। উদ্যোগটি সাধারণ যাত্রীদের অনেকের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পেলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একটি অংশে বাসের রং ও নাম নিয়ে ট্রল এবং কটূক্তি শুরু হয়।
নারীদের নিরাপদ যাতায়াতের পাশাপাশি তাদের কর্মসংস্থান ও স্বাবলম্বী করে তোলার উদ্যোগকে হেয় করার এমন প্রবণতার বিরুদ্ধেই নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন সাদিয়া আয়মান। তার বক্তব্যের মধ্য দিয়ে নারীকে নিয়ে সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন এবং ইতিবাচক উদ্যোগকে উৎসাহিত করার প্রয়োজনীয়তাও সামনে এসেছে।