পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় ট্রাকচালক হানিফ ফকির হত্যাকাণ্ডের প্রধান অভিযুক্ত বিপ্লব চন্দ্র মন্ডলের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার (১৯ জুলাই) সকাল ১০টায় কুয়াকাটা বাস টার্মিনাল সংলগ্ন সড়কে এ কর্মসূচি পালিত হয়।
‘নির্যাতিত মোটর শ্রমিক একতা ঐক্য’ মহিপুর থানা শাখার উদ্যোগে আয়োজিত কর্মসূচিতে সংহতি প্রকাশ করে পটুয়াখালী আন্তঃজেলা বাস ও মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়ন (কুয়াকাটা) এবং আলিপুর-কুয়াকাটা সমাজকল্যাণ কর্ম সেবা সংস্থাসহ বিভিন্ন সামাজিক ও শ্রমিক সংগঠন।
মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন নির্যাতিত মোটর শ্রমিক একতা ঐক্যের মহিপুর থানা শাখার সভাপতি মো. লিটন খান। বক্তব্য দেন পটুয়াখালী আন্তঃজেলা বাস ও মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আতিকুর রহমান মিলন, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মোস্তফা হাওলাদার, সংগঠনের সম্পাদক মো. সোহেল মুন্সী, সমাজকল্যাণ কর্ম সেবা সংস্থার সভাপতি মোহাম্মদ খলিলুর রহমান মুসল্লী এবং সাধারণ সম্পাদক মো. লিটন হাওলাদার।
বক্তারা বলেন, হানিফ ফকির একজন পরিশ্রমী ও দায়িত্বশীল ট্রাকচালক ছিলেন। কর্মস্থলে তাকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে, যা শুধু একজন শ্রমিকের মৃত্যু নয়, বরং পুরো পরিবহন শ্রমিক সমাজের নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগজনক। তারা দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে মামলার নিষ্পত্তি করে দোষীর সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান।
মানববন্ধনে নিহত হানিফ ফকিরের স্ত্রী মোসা. সীমা বেগম দুই সন্তান—১৩ বছর বয়সী ছেলে মো. ইসমাইল ও ৯ বছর বয়সী মেয়ে হামিদা আক্তারকে নিয়ে উপস্থিত ছিলেন। আবেগাপ্লুত কণ্ঠে তিনি বলেন, “পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম মানুষটিকে হারিয়ে আমরা অসহায় হয়ে পড়েছি। আমি আমার স্বামীর হত্যার ন্যায়বিচার এবং হত্যাকারীর সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।”
এ সময় সন্তানরাও বাবার হত্যার বিচার দাবি করে কান্নায় ভেঙে পড়ে। মানববন্ধনে অংশ নেওয়া প্রায় পাঁচ শতাধিক শ্রমিক ও স্থানীয় বাসিন্দা বিভিন্ন স্লোগানের মাধ্যমে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, পূর্ব শত্রুতার জেরে ট্রাকের হেলপার বিপ্লব চন্দ্র মন্ডল ঘুমন্ত অবস্থায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে ট্রাকচালক হানিফ ফকিরকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করেন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে হত্যা ও ডাকাতির অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে আদালতের চূড়ান্ত রায় এখনো হয়নি। তাই অভিযুক্তের দায়-দায়িত্ব আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে।