দুটি রাষ্ট্র চুক্তি করলে তা চট করে পরিবর্তন সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। শুক্রবার (৮ মে) দুপুরে সিলেট সদর উপজেলার বাইশটিলা এলাকায় জেলা পরিষদ ন্যাচারাল পার্ক পরিদর্শন শেষে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ মন্তব্য করেন তিনি।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, চুক্তি হয় দুটি দেশের মধ্যে। দুজন ব্যক্তির মধ্যে চুক্তি হলে সেটা চট করে রদবদল করা যায়, দুটি রাষ্ট্রের ক্ষেত্রে তা সম্ভব নয়। দুটি রাষ্ট্র কোনো চুক্তি করলে তা ইচ্ছা-স্বাধীন পরিবর্তন করা যায় না।তিনি জানান, চুক্তির মধ্যে বিভিন্ন ধারা থাকে। কিছু ধারা একটি পক্ষের অনুকূলে যায়। আরেকটা পক্ষের অনুকূলে আরও কিছু ধারা যায়। দুই পক্ষের মধ্যে একটা ‘উইন-উইন সিচুয়েশন’ তৈরি করার প্রয়াস থেকেই চুক্তি হয়।
এরপর বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, তবে চুক্তি বাস্তবায়নের সময় এমন কিছু যদি আমাদের সামনে আসে, যা দেশের স্বার্থের অনুকূল নয়, তাহলে সেই ধারা সংশোধন করার সুযোগ এই চুক্তির মধ্যেই রয়েছে।
মূল্যস্ফীতি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেন, জ্বালানি তেলের মূল্য অন্য দেশের তুলনায় খুবই সামান্য বেড়েছে। এটির ফলে পণ্য মূল্যের ওপরে যে অভিঘাত, তা ‘ওয়ানটাইম স্পাইক, ওয়ানটাইম ইনক্রিজ’। এ কারণে মূল্যস্ফীতি হবে না।
বাণিজ্যমন্ত্রীর মতে, ডিজেলের মূল্য যে পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে, তাতে পণ্যের মূল্য খুব বেশি বাড়ার কথা নয়। কেউ যদি বাড়তি মূল্য রাখে, তার বিরুদ্ধে সরকার ব্যবস্থা নেবে। তবে দাম বাড়বে বলে অনুমান করেও দাম বাড়িয়ে দেওয়া ঠিক নয়। দেশের বন্দর ব্যবস্থাপনায় দক্ষতার ঘাটতির কারণে পণ্য পরিবহন ব্যয় বাড়ছে বলে উল্লেখ করেন খন্দকার আবদুল মুক্তাদির।
তিনি বলেন, সেটি কমাতে বন্দরগুলোর সক্ষমতা বাড়াতে হবে। এ জন্য একটি ডেনিশ কোম্পানিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বন্দরের কাজ দ্রুত হলে ইউনিটপ্রতি খরচ কমে আসবে। সরকার এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নিচ্ছে।
সরকারি কলকারখানা বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়া প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, সরকারের কাজ ব্যবসা করা নয়। সরকার যেখানেই ব্যবসা করতে যায়, সেখানেই ইনএফিসিয়েন্সির (অদক্ষতা) কারণে লোকসান হয়। এতে জনগণের টাকা অপচয় হয়। সব কটি লোকসানি প্রতিষ্ঠান সরকার ব্যক্তি খাতে বিনিয়োগকারীদের কাছে ছেড়ে দিতে চাচ্ছে। এসব মিল-ফ্যাক্টরি চালু করে যাতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও রাজস্ব আহরণের ব্যবস্থা করা হয়, সরকার সেই চেষ্টা করছে।
বাইশটিলায় ন্যাচারাল পার্ক নির্মাণ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, বাইশটিলা এলাকায় জেলা পরিষদের ৪৩ একর জায়গা রয়েছে। এটিকে পর্যটক আকর্ষণীয় স্থানে রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এখানে ন্যাচারাল পার্কে কেব্ল কার থাকবে, রোপব্রিজ থাকবে। এ রকম অনেক কিছু থাকবে। শিশু থেকে প্রাপ্ত বয়স্কদের জন্য অনেক উপকরণ থাকবে। এটি নিয়ে একটি মহাপরিকল্পনা করেছে জেলা পরিষদ। সরকার এতে অর্থায়ন করবে।