শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৩৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
মক্কায় দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর: আগে জানত না বাংলাদেশ, তথ্য চেয়ে সৌদিকে চিঠি মানবতার কল্যাণ সব ধর্মেরই অন্যতম মূল শিক্ষা : প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রদ্রোহের মামলায় সাবেক সেনা কর্মকর্তা দেবাশীষ ও গুলশান আরা কারাগারে ‘হিলারি ক্লিনটন অ্যাওয়ার্ড’ পেলেন অধ্যাপক ইউনূস দুর্গাপূজায় নিরাপত্তা নিশ্চিতের আহ্বান জামায়াত আমিরের “শিল্পী সমাজের প্রতি দর্শকের আস্থার সংকট, নাকি রাজনীতির অদৃশ্য প্রভাব ?” জামায়াতে ইসলামীর কুমিল্লা মহানগর কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা কুমিল্লায় যুবদল নেতাকে কুপিয়ে হত্যা ফ্যামিলি কার্ড প্রকল্পে কেনাকাটায় অনিয়মের অভিযোগ হাসনাতের যুব উন্নয়নের প্রশ্নফাঁসে সরকারি কর্মকর্তাসহ গ্রেপ্তার ৭

পঞ্চদশ সংশোধনী পুরোটা বাতিল চেয়ে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল

আওয়াজ অনলাইন ডেস্ক :
  • আপডেটের সময় : সোমবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৭৭ টাইম ভিউ

কেবল কয়েকটি ধারা নয়, পুরো পঞ্চদশ সংশোধনী বাতিলের দাবিতে হাই কোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছেন রিট মামলার বাদীপক্ষ। সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর কয়েকটি ধারা অবৈধ ঘোষণা করে হাই কোর্টের দেওয়া ওই রায়ের ফলে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফেরার পথ তৈরি হয়। তাতে আংশিক দাবি পূরণ হলেও এখন পুরো পঞ্চদশ সংশোধনী বাতিল চাইছেন তারা।সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারের পক্ষে আইনজীবী শরীফ ভূঁইয়া সোমবার (৩ নভেম্বর) সুপ্রিম কোর্টে এ আপিল দায়ের করেন।

২০২৪ সালের ১৭ ডিসেম্বর সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর কিছু অংশ বাতিল ঘোষণা করে হাই কোর্ট। রিটকারীর আবেদন অনুযায়ী, পুরো পঞ্চদশ সংশোধনী বাতিল না করায় এ আপিল করা হয়েছে। আইনজীবী শরীফ ভূঁইয়া বলেন, রিটে আমরা পুরো সংশোধনী বাতিল চেয়েছিলাম। কিন্তু হাই কোর্ট আংশিক বাতিল করায় কিছু সমস্যা হয়েছে। তত্ত্বাবধায়কের কিছু সমস্যা হয়েছে; এটা সম্পূর্ণভাবে ‘ফাংশনাল’ হয়নি।

তিনি বলেন, পঞ্চদশ সংশোধনীতে প্রধান উপদেষ্টার শপথের বিধান বাতিল করা হয়েছিল। কিন্তু হাই কোর্টের রায়ে সেটা ফিরে আসেনি। রিট আবেদনকারী বদিউল আলম মজুমদার বলেন, পঞ্চদশ সংশোধনীতে আইনগত ও পদ্ধতিগত ত্রুটি থাকায় পুরো সংশোধনী বাতিল চেয়ে আপিল করা হয়েছে।

২০১১ সালে পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানের ৫৪টি ক্ষেত্রে সংযোজন, পরিমার্জন ও প্রতিস্থাপন আনা হয়েছিল।

এর মধ্যে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলুপ্তি-সংক্রান্ত পঞ্চদশ সংশোধনী আইনের ২০ ও ২১ ধারা সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ও বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে রায়ে। পাশাপাশি পঞ্চদশ সংশোধনী আইনের মাধ্যমে সংবিধানে যুক্ত ৭ক, ৭খ, ৪৪ (২) অনুচ্ছেদ বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে।

৭ (ক) অনুচ্ছেদে অসাংবিধানিকভাবে রাষ্ট্রক্ষমতা দখলকে রাষ্ট্রদ্রোহ অপরাধ বিবেচনায় নিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে রাষ্ট্রদ্রোহের অপরাধে দোষী করে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান যুক্ত করা হয়েছিল।

৭ (খ) সংবিধানের মৌলিক বিধানাবলি সংশোধন অযোগ্য করার কথা বলা ছিল।

সংবিধানের ৪৪ অনুচ্ছেদে মৌলিক অধিকার বলবৎকরণ বিষয়ে বলা ছিল এবং ৪৪ (২) অনুচ্ছেদে বলা ছিল, “এই সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের অধীন হাইকোর্ট বিভাগের ক্ষমতার হানি না ঘটাইয়া সংসদ আইনের দ্বারা অন্য কোন আদালতকে তাহার এখতিয়ারের স্থানীয় সীমার মধ্যে ঐ সকল বা উহার যে কোন ক্ষমতা প্রয়োগের ক্ষমতা দান করিতে পারিবেন।”

আদালত বলেছে, সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদে গণভোটের কথা ছিল, যা পঞ্চদশ সংশোধনীতে বাতিল করা হয়। এ বিধান বিলুপ্তি সংক্রান্ত পঞ্চদশ সংশোধনী আইনের ৪৭ ধারা সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর সঙ্গে ‘অসামঞ্জস্যপূর্ণ’ বিবেচনায় তা বাতিল ঘোষণা করা হল এবং দ্বাদশ সংশোধনীর ১৪২ অনুচ্ছেদ পুনর্বহাল করা হল। রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত বলেছে, পঞ্চদশ সংশোধনী আইন পুরোটা বাতিল করা হচ্ছে না। বাকি বিধানগুলোর বিষয়ে আগামী জাতীয় সংসদ আইন অনুসারে জনগণের মতামত নিয়ে সংশোধন, পরিমার্জন ও পরিবর্তন করতে পারবে।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর