কোনো প্রমাণ না রাখতেই ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিম আনারের মরদেহের মাংস ও হাড় আলাদা করে গুম করে ফেলা হয় বলে জানিয়েছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের সহকারী পুলিশ কমিশনার মাহফুজুর রহমান।
শুক্রবার (২৪ মে) তিন আসামিকে আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন তিনি। রিমান্ড শুনানিতে এসব তথ্য জানান তিনি।
শুনানিতে মাহফুজুর রহমান জানান, ঝিনাইদহ-৪ আসনের এমপি আনোয়ারুল আজিম আনারকে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী আসামি আমানুল্লাহ, তানভীর, শিলাস্তিসহ অজ্ঞাতনামা পলাতক আসামিরা নৃশংসভাবে হত্যা করেন। এর পর কোনো প্রমাণ না রাখতে মরদেহের মাংস ও হাড় আলাদা করে গুম করে ফেলা হয়।
রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, পলাতক আসামি শাহিন গ্রেফতার আসামিদের সঙ্গে নিয়ে গত ৩০ এপ্রিল ভারতের কলকাতায় নিউটাউন এলাকায় যান। সেখানে একটি বাসা ভাড়া করে বসবাস শুরু করেন এবং অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে নিয়ে হত্যার পরিকল্পনা করতে থাকেন। পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী সেখানে থাকাবস্থায় আনারের সঙ্গে ব্যবসায়িক মিটিং করার কথা বলে তাকে কলকাতায় যেতে বলেন শাহিন।
গত ১০ মে শাহিন বাংলাদেশে চলে আসেন, সেটা আনার জানতেন না। আসার সময় শাহিন আসামি আমানুল্লাহকে দায়িত্ব দিয়ে আসেন যেন কোনোভাবেই পরিকল্পনা ভুল না হয় এবং হত্যাকাণ্ডের কোনো প্রমাণ না থাকে।
১২ মে আজিম ভারতের কলকাতায় যান এবং তার এক বন্ধুর বাসায় ওঠেন। পরদিন ১৩ মে সকালের দিকে আনার ব্যবসায়িক মিটিং করার জন্য কলকাতার নিউটাউন এলাকার ভাড়া বাসায় যান। সেখানে পূর্বপরিকল্পনা অনুয়ায়ী আসামি আমানুল্লাহ, তানভীর ও শিলাস্তিসহ অজ্ঞাতনামা অন্য পলাতক আসামিরা আনারকে নৃশংসভাবে হত্যা করেন। এরপর লাশের মাংস ও হাড় আলাদা করে গুম করে ফেলেন যেন কোনো প্রমাণ না থাকে। পরে আসামিরা বাংলাদেশে চলে আসেন।
শুনানির পর ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দিলরুবা আফরোজ তিথির আদালত আসামিদের আট দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।