শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ০৪:০৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
রাজধানীর মোহাম্মদপুরে উপসচিব মাসুদা বেগমের গাড়ি ঘিরে অপ্রীতিকর ঘটনা ইরানি অভিবাসনপ্রত্যাশীদের যুক্তরাষ্ট্রে রাখবেন না ট্রাম্প, পাঠাবেন আফ্রিকায় বিভ্রাট কাটিয়ে সচল হলো ফেসবুক কারিগরি ত্রুটিতে ৪ ঘণ্টা বিলম্বিত বিমানের লন্ডন ফ্লাইট আদ্‌-দ্বীন হাসপাতালের রেফার্ড রোগীদের চিকিৎসায় ৬ সরকারি হাসপাতালকে জরুরি নির্দেশ মৌলভীবাজার সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি যুবক নিহত রবিবার জেনেভায় যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা স্মারক সই হতে পারে : রয়টার্স বাজেটে কালো টাকা সাদা করার কোনো সুযোগ নেই: এনবিআর চেয়ারম্যান নতুন চেয়ারম্যান-এমডি নিয়োগে গতিশীল হবে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক : গর্ভনর দেশের বাজারে আবারও কমাল স্বর্ণ ও রুপার দাম

রবিবার জেনেভায় যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা স্মারক সই হতে পারে : রয়টার্স

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
  • আপডেটের সময় : শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬
  • ১১ টাইম ভিউ
রবিবার জেনেভায় যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা স্মারক সই হতে পারে : রয়টার্স
|

মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলে চলমান যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি ‘যুদ্ধবিরতি স্মারক’ চলতি সপ্তাহান্তেই সই হতে পারে। শুক্রবার (১২ জুন) পশ্চিমা একটি সূত্র বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চুক্তি স্বাক্ষরের সম্ভাব্য স্থান হিসেবে সুইজারল্যান্ডের জেনেভা সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে। সূত্রটি জানায়, চুক্তির ভাষ্য চূড়ান্ত করার কাজ এখনও চলছে। ইরান দাবি করছে, এই সমঝোতায় শুধু উপসাগরীয় যুদ্ধবিরতিই নয়, লেবাননে চলমান সংঘাতও বন্ধের নিশ্চয়তা থাকতে হবে— যেখানে ইসরাইল ও ইরান সমর্থিত হিজবুল্লাহর মধ্যে সংঘর্ষ চলছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, শনিবারের মধ্যে চুক্তির খসড়া চূড়ান্ত করা হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ও ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ এতে স্বাক্ষর করতে পারেন। তবে এখনো চূড়ান্ত স্থান নির্ধারণ হয়নি, যদিও জেনেভাকেই সম্ভাব্য স্থান হিসেবে ধরা হচ্ছে।

এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের বলেন, ইরানের সঙ্গে একটি ‘বড় সমঝোতা’ হয়েছে এবং নতুন কোনো হামলা আপাতত স্থগিত করা হচ্ছে। ট্রাম্প আরও বলেন, চুক্তি স্বাক্ষরের পর হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেয়া হবে এবং তা ‘খুব শিগগিরই’ হতে পারে।

চুক্তির শর্তে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত

ইরানি কর্মকর্তাদের বরাতে বলা হচ্ছে, প্রস্তাবিত চুক্তিতে তেহরান তাদের বহু গুরুত্বপূর্ণ দাবি পূরণে অগ্রগতি পাচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে, ইরানের তেল রপ্তানির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা শিথিল, বিলিয়ন ডলারের সম্পদ অবমুক্ত, সব ফ্রন্টে (লেবাননসহ) যুদ্ধবিরতি এবং অর্থনৈতিক পুনর্গঠনের উদ্যোগ ইরানের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা অন্তত ৩০০ বিলিয়ন ডলারের পুনর্গঠন পরিকল্পনা দেবে। তবে চুক্তির বিনিময়ে ইরান কী দেবে, তা নিয়ে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। যুক্তরাষ্ট্রও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

তবে চুক্তিতে পারমাণবিক ইস্যু আপাতত স্থগিত রাখা হবে বলে জানা গেছে। ওয়াশিংটন চাইছে ইরান যেন কখনো পারমাণবিক অস্ত্র না তৈরি করতে পারে, তবে তেহরান বলছে, তারা এ ধরনের কোনো পরিকল্পনা করছে না।

বাজারে তাৎক্ষণিক প্রভাব

ট্রাম্পের ঘোষণার পর বিশ্ববাজারে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। শেয়ারবাজারে ঊর্ধ্বগতি এবং তেলের দামে পতন ঘটেছে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ২ শতাংশের বেশি কমে যায়। বিশ্লেষকদের মতে, টানা কয়েক দিনের উত্তেজনা- ইরান, ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টাপাল্টি হামলার পর এই ঘোষণায় কিছুটা স্বস্তি এসেছে। তবে অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, ট্রাম্প বহুবার চুক্তি হওয়ার ঘোষণা দিলেও বাস্তবে তা কার্যকর হয়নি। ফলে এবারও চুক্তি বাস্তবায়ন হবে কিনা, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনিই এই চুক্তিতে সম্মতি দিয়েছেন বলেও তিনি বুঝেছেন। সব মিলিয়ে যুদ্ধবিরতি সত্যিই কার্যকর হবে, নাকি এটি আবারও ব্যর্থ আলোচনার একটি অধ্যায় হয়ে থাকবে— তা নির্ভর করছে আগামী কয়েক দিনের কূটনৈতিক অগ্রগতির ওপর।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর