বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘জে’-তে আর্জেন্টিনা ও আলজেরিয়ার ম্যাচ শুরুর আগেই নিউইয়র্কের টাইমস স্কয়ারে দুই দলের সমর্থকদের মধ্যে তুমুল সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় বিশ্বকাপের শুরুতেই নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
সোমবার (১৫ জুন) দিবাগত রাতে বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত পর্যটনকেন্দ্র টাইমস স্কয়ারে আর্জেন্টিনা ও আলজেরিয়ার সমর্থকদের মধ্যে প্রথমে বাকবিতণ্ডা এবং পরে কিল-ঘুষি ও লাথালাথির ঘটনা ঘটে। এতে মুহূর্তের মধ্যে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিশ্বকাপের আবহে হাজারো সমর্থকের উপস্থিতির মধ্যেই হঠাৎ উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে সাধারণ পর্যটক ও পথচারীরা নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে দৌড়াতে শুরু করেন। পরে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি সামাল দেয় নিউইয়র্ক পুলিশ।
৩ লাখ ৯৩ হাজার অনুসারী থাকা জনপ্রিয় এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট ‘ফুটবল অ্যাওয়ে ডেইজ’-এ সংঘর্ষের ভিডিও প্রকাশের পর তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই এটিকে এবারের বিশ্বকাপের প্রথম বড় সমর্থক সহিংসতা হিসেবে উল্লেখ করছেন।
জানা গেছে, ম্যাচের আগে আর্জেন্টিনার সমর্থকরা ঐতিহ্যবাহী ‘বান্দেরাজো’ আয়োজন করতে টাইমস স্কয়ারে জড়ো হন। একই সময়ে সেখানে উপস্থিত ছিলেন বিপুলসংখ্যক আলজেরিয়ান সমর্থক। তাদের সঙ্গে ফ্রান্স ও সেনেগালের কিছু সমর্থকও যোগ দেন। আর্জেন্টাইন গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, দুই পক্ষের মধ্যে আপত্তিকর স্লোগান ও অশোভন অঙ্গভঙ্গি বিনিময়ের জের ধরেই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে তা রাস্তাজুড়ে প্রকাশ্য সংঘর্ষে রূপ নেয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, সংঘর্ষের সময় সাধারণ পথচারী ও অপ্রাপ্তবয়স্করা আতঙ্কে দৌড়াদৌড়ি করছেন। অন্যদিকে কয়েকজন পরিস্থিতি শান্ত করারও চেষ্টা করেন। তবে এ সংঘর্ষের প্রকৃত কারণ সম্পর্কে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেয়নি নিউইয়র্ক পুলিশ। ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে বলে জানা গেছে। বিশ্বকাপের শুরুতেই টাইমস স্কয়ারের এই সহিংসতার ঘটনায় সমালোচনার ঝড় উঠেছে। এখন সবার নজর পরবর্তী ম্যাচগুলোতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আয়োজক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কী পদক্ষেপ নেয় তার দিকে।