রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ০৫:৩৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
আবার হরমুজ প্রণালি বন্ধের ঘোষণা ইরানের সুইজারল্যান্ডে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র বৈঠক রোববার: পাকিস্তান বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও বিভ্রান্তিকর প্রচারণা নিয়ে বাংলাদেশ জাস্টিস পার্টির কঠোর অবস্থান প্রতিমন্ত্রীর ‘ছেলেদের নামে’ দুই ইউনিয়নের নামকরণ, বদলানোর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, তিন মাসে প্রাণহানি ৫৬০ ব্রাজিলের বিপক্ষে আমাদের হারানোর কিছু নেই: হাইতি কোচ ‘আমি রোনালদোর ভক্ত, মেসিকে রুখতে সবকিছু করব :অস্ট্রিয়ার গোলরক্ষক ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের ফেসবুক আইডি হ্যাক সাংবাদিক গ্রেপ্তার ইস্যুতে দুঃখ প্রকাশ করে বিবৃতি এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রীর আশা জাগিয়েও হারল বাংলাদেশ, অস্ট্রেলিয়ার সিরিজ জয়

একটি পক্ষ নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করতে উঠেপড়ে লেগেছে : তারেক রহমান

আওয়াজ অনলাইন ডেস্ক :
  • আপডেটের সময় : সোমবার, ২৬ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ১০৪ টাইম ভিউ
একটি পক্ষ নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করতে উঠেপড়ে লেগেছে : তারেক রহমান

নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করতে একটি পক্ষ পরিকল্পিতভাবে উঠেপড়ে লেগেছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি ভোটারদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, শুধু ভোট দিলেই চলবে না; ভোট দেওয়ার পর কেন্দ্রে থাকতে হবে। নিজেদের দেওয়া ভোটের হিসাব সঠিকভাবে নিতে হবে।

সোমবার বিকেলে নোয়াখালীর হাতিয়ায় নির্বাচনী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তারেক রহমান। সমাবেশে তিনি ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে কথা বলেন। হাতিয়ায় (নোয়াখালী-৬) বিএনপির সংসদ সদস্য প্রার্থী মাহাবুবের রহমান শামীম।গত ১৫-১৬ বছরে ভোট দেওয়া যায়নি উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ‘আমাদের দেশের মানুষের ভোট দেওয়ার অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। কথা বলার অধিকার, স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। যারা এ কাজটি করেছিল, তারা দেশ থেকে চলে গিয়েছে। কিন্তু অন্য একটি গোষ্ঠী তারা আবার কিছু কিছু ষড়যন্ত্র করছে, যেন নির্বাচন বাধাগ্রস্ত হয়। এ ব্যাপারে আপনাদের (ভোটার) সচেতন থাকতে হবে।’

বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, ‘১২ তারিখে যাঁরা মুসলমান ভাইয়েরা আছেন, আপনারা তাহাজ্জুদ পড়ে নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায়, নিজ নিজ ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোরে ফজরের জামাত ভোটকেন্দ্রের সামনে আদায় করবেন। যাঁরা অন্য ধর্মের ভাইবোনেরা আছেন, তাঁদের সঙ্গে নিয়ে যাবেন। যাতে সকাল সকাল সবাই ভোটকেন্দ্রের সামনে লাইন দিয়ে দাঁড়াতে পারেন। যাতে আপনারা সঠিকভাবে ভোট দিতে পারেন।’

শুধু ভোট দিলেই চলবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ভোট দিয়ে চলে এলে চলবে না। ভোট দিয়ে ওখানে থাকতে হবে। যাতে করে আপনার যে ভোটটা আপনি দিলেন, এই ভোটের হিসাব কড়ায়-গন্ডায় বুঝে আনতে হবে। পারবেন?’

তারেক রহমানের বক্তব্যের সময় স্থানীয় এক ব্যক্তি হাতিয়াবাসীর প্রধান কয়েকটি সমস্যা তুলে ধরেন। ওই ব্যক্তি বলেন, তাঁদের প্রধান সমস্যা নদীভাঙন। প্রতিনিয়ত জনগণ সর্বস্বান্ত হয়ে যাচ্ছে। ব্লক বাঁধ দিতে হবে, বেড়িবাঁধ নির্মাণ করতে হবে। ওই এলাকায় নতুন জেগে ওঠা চরে ভূমিহীনদের জায়গার বন্দোবস্ত করার দাবিও জানানো হয়।

এ প্রসঙ্গে তারেক রহমান হাতিয়াবাসী বিভিন্ন সময় যেসব সমস্যার কথা বলতেন, সেগুলো লিখে রাখা একটি কাগজে আজকের উত্থাপিত দাবিগুলো লেখা হয়েছে জানিয়ে কাগজটি সবার উদ্দেশে দেখান। আর বলেন, আপনাদের এলাকায় ব্লক-বাঁধ নির্মাণ করে নদীভাঙন রোধ করা, বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা, ভূমিহীনদের জন্য খাসজমির বন্দোবস্ত করা, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১৫০ শয্যায় উন্নীত করা—সব সমস্যা লেখা রয়েছে। বিএনপি সরকার গঠন করলে ধীরে ধীরে একটার পর একটা সমস্যার সমাধান করা হবে।

তবে সমস্যা সমাধানের জন্য বিএনপিকে জেতানোর দাবি জানিয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, ‘এর আগে তো এ এলাকার মানুষ অনেককে দেখেছেন। কিন্তু তারা তো সমস্যার সমাধান করেনি। কিন্তু এবার বিএনপি নির্বাচিত হলে ধীরে ধীরে এই কাজগুলো করব।…আপনাদের একটা দায়িত্ব আছে। আপনাদের দায়িত্ব কী বলেন তো? আপনাদের দায়িত্বটা ধানের শীষকে জয়যুক্ত করা। ধানের শীষকে কবে জয়যুক্ত করবেন। কবে? ১২ তারিখের নির্বাচনে।’

বিএনপির প্রার্থী মাহাবুবের রহমানকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, এখানে বিশুদ্ধ পানি, শিক্ষা, চিকিৎসা, কৃষি নিয়ে সমস্যা আছে। এ সমস্যাগুলো সমাধানে সত্যিকার একজন মানুষ দরকার। এখানে শামীম আপনাদের ভোটে নির্বাচিত হলে, বিএনপি সরকার গঠন করলে এলাকার উন্নয়নের পাশাপাশি মানুষের নানা সমস্যার সমাধান হবে।

বিএনপির পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, বিএনপির সরকার গঠন করলে নারীদের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করে মাসিক সহায়তা দেওয়া হবে, যাতে শিক্ষিত নারীরা ধীরে ধীরে স্বাবলম্বী হতে পারেন। কৃষকদের জন্য ‘কৃষি কার্ড’ দিয়ে সার, বীজ ও উপকরণ সরবরাহ করে অন্তত বছরে এক মৌসুমের পূর্ণ সহায়তা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে। তরুণদের জন্য ভোকেশনাল ট্রেনিং ইনস্টিটিউশন গড়ে প্রশিক্ষণ, ক্ষুদ্রঋণ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে। পাশাপাশি হাসপাতাল সম্প্রসারণ ও ঘরে ঘরে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছাতে হেলথ কেয়ারার নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর