ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) সতর্ক করে বলেছে, যদি তাদের দেশের বিরুদ্ধে নতুন করে আগ্রাসন শুরু হয় তাহলে সংঘাত পশ্চিম এশিয়ার বাইরে বিস্তৃত হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সাম্প্রতিক সংঘাতে ইরান তার সব সক্ষমতা ব্যবহার করেনি।
মঙ্গলবার (১৯ মে) যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, সামনের দিনগুলোতে কোনো চুক্তিতে পৌঁছানো না গেলে ইরানে আবারও হামলা চালানোর দরকার হতে পারে।বার্তা সংস্থা তাসনিম জানায়, বুধবার এর জবাবে এক বিবৃতিতে আইআরজিসি মন্তব্য করেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও জায়োনিস্ট শাসন ইরানের বিরুদ্ধে তাদের বারবার কৌশলগত পরাজয় থেকে শিক্ষা নিতে ব্যর্থ হয়েছে।
বিবৃতিতে আইআরজিসি বলেছে, “আমেরিকান-জায়োনিস্ট শত্রুরা, যারা ইসলামিক রেভল্যুশনের বিরুদ্ধে তাদের গুরুতর ও বারবার কৌশলগত পরাজয় থেকে শিক্ষা গ্রহণ করতে ব্যর্থ হয়েছে, তারা আবার হুমকি দিচ্ছে। তাদের জানা উচিত তারা বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল দুটি সেনাবাহিনীর সব সক্ষমতা ব্যবহার করে আক্রমণ করা সত্ত্বেও আমরা তাদের বিরুদ্ধে ইসলামি বিপ্লবের সব সামথ্র্য ব্যবহার করিনি।
“কিন্তু এখন, যদি ইরানের বিরুদ্ধে আগ্রাসনের পুনরাবৃত্তি করা হয়, প্রতিশ্রুত আঞ্চলিক যুদ্ধটি এবার অঞ্চলের বাইরেও বিস্তৃত হবে আর আমাদের বিধ্বংসী আঘাত তোমাদেরকে এমন সব স্থানে ধ্বংস করবে যা তোমারা কল্পনাও করতে পারবে না।
“আমরা যুদ্ধের মানুষ আর তোমরা যুদ্ধক্ষেত্রে আমাদের শক্তি দেখবে। এটি ভার্চুয়াল পেইজে দেওয়া কোনো ফাঁকা বিবৃতি না।”
২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার মধ্য দিয়ে যুদ্ধ শুরু হয়। এরপর ৭ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি শুরু হয়ে ছয় সপ্তাহ পার হয়ে গেলেও যুদ্ধ শেষ করা নিয়ে দুইপক্ষের মধ্যে আলোচনা প্রায় স্থবির হয়ে আছে।
রয়টার্স লিখেছে, ইসরায়েলকে সঙ্গে নিয়ে তিন মাস আগে শুরু করা এই যুদ্ধ শেষ করতে যুক্তরাষ্ট্র হিমশিম খাচ্ছে। ট্রাম্প এর আগেও যুদ্ধ বন্ধে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর খুব কাছাকাছি আছেন বলে আশা প্রকাশ করেছিলেন, তখনও তিনি ইরান একটি চুক্তিতে না পৌঁছলে ‘ভয়াবহ হামলা’ চালানো হবে বলে হুমকি দিয়েছিলেন।
যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই ইরান বিশ্বের জ্বালানি ও অন্যান্য পণ্য সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে রেখেছে। বিশ্বের ২০ শতাংশ জ্বালানি সরবরাহের জলপথটি বন্ধ হয়ে থাকায় বিশ্বজুড়ে সংকট দেখা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাসের দাম বেড়ে গিয়ে নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা নিচের দিকে নামতে শুরু করেছে।
ফলে হরমুজ প্রণালি খুলতে পারে এমন চুক্তিতে পৌঁছাতে দেশের ভেতর থেকেই প্রচণ্ড চাপে আছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
মঙ্গলবার মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স জানান, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে আলোচনায় অনেক অগ্রগতি হয়েছে আর সামরিক সংঘাত আবার শুরু হোক তা কোনো পক্ষই চায় না।