মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ০২:৪৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
এমবাপ্পেকে বাংলাদেশে আনার পরিকল্পনা করছে সরকার শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলন নিয়ে ভারতের স্পষ্ট অবস্থান জানতে চায় বাংলাদেশ চট্টগ্রামের ‘ডেভিড ইমন’: প্রতি মাসে কোটি টাকার চাঁদাবাজি ও অপরাধ জগতের নিয়ন্ত্রণ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও এএসপিসহ ৮ কর্মকর্তা বদলি যেভাবে যুক্তরাষ্ট্রকে ‘ছাড় দিতে’ বাধ্য করছে ইরান শেখ হাসিনা দেশে এলে বিমানবন্দর থেকে সরাসরি ফাঁসির মঞ্চে নেওয়া হবে হুঁশিয়ারি নাহিদের শেখ হাসিনা যেন ভারত থেকে রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, দিল্লিকে ঢাকার আহ্বান যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক সহযোগিতা প্রস্তাবে ইতিবাচক বাংলাদেশ আর্মি ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইনস্টিটিউট উদ্বোধন করলেন সেনাপ্রধান মহেশখালীর ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল চালু হতে পারে চলতি সপ্তাহে

মহেশখালীর ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল চালু হতে পারে চলতি সপ্তাহে

আওয়াজ অনলাইন ডেস্ক :
  • আপডেটের সময় : সোমবার, ৩ আগস্ট, ২০২৬
  • ৩ টাইম ভিউ
মহেশখালীর ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল চালু হতে পারে চলতি সপ্তাহে
ছবি-সংগৃহীত

কক্সবাজারের মহেশখালীতে সমুদ্রে থাকা এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) টার্মিনালের কারিগরি ত্রুটি মেরামতে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষজ্ঞ দল জোর কদমে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। সমস্যা সমাধান করে দ্রুত জাতীয় সঞ্চালন লাইনে গ্যাস সরবরাহের চেষ্টা চলছে। ইতোমধ্যে প্রধান যান্ত্রিক কাজ ও কেব্‌ল স্থাপনের বড় অংশ শেষ হয়েছে। প্রতিস্থাপিত যন্ত্রাংশের কার্যকারিতা পরীক্ষার কাজ ধাপে ধাপে সম্পন্ন করা হচ্ছে। আশা করা হচ্ছে, আগামী মঙ্গলবার চালু হতে পারে এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান এক্সিলারেট এনার্জি পরিচালিত এই টার্মিনালটিতে ২১ জুলাই অগ্নিকাণ্ডে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেওয়ার পর বাংলাদেশ পেট্রোলিয়ামের অধীনস্থ রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড (আরপিজিসিএল) ও দেশীয় প্রকৌশলীদের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, রোমানিয়া ও সিঙ্গাপুরের যৌথ কারিগরি বিশেষজ্ঞ দল এটি মেরামতের কাজ শুরু করে। এতে প্রধান যান্ত্রিক কাজ ও কেব্‌ল স্থাপনের বড় অংশ শেষ হলেও চূড়ান্ত পরীক্ষার কাজ ধাপে ধাপে করা হচ্ছে অর্থাৎ রি-স্টোর করা যন্ত্রাংশের কার্যকারিতা আলাদা আলাদাভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এ ছাড়া ডুবুরি ও বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলীদের দল ইতোমধ্যে টার্মিনালের পানির নিচের ক্ষতিগ্রস্ত কেব্‌ল ও সাকশন পাইপলাইনের জটিল কাজগুলো সম্পন্ন করেছে। তবে চলতি সপ্তাহে গ্যাস সরবরাহ হওয়ার কথা জানালেও কখন থেকে সরবরাহ শুরু হবে তা জানা যাবে আজ রবিবার বা আগামীকাল সোমবার। তবে মঙ্গলবার এটি চালু করার টার্গেট রয়েছে সংশ্লিষ্টদের। বিদেশি টিমের সঙ্গে রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডের এ বিষয়ে কথাবার্তা চলছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

প্রতিষ্ঠানটির উপমহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মুহাম্মদ নাছির উদ্দিন খবরের কাগজকে বলেন, ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে গত ২১ জুলাই ঘটে যাওয়া অগ্নিকাণ্ড ও বৈদ্যুতিক কেব্‌ল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনা সামাল দিতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে বিদেশি বিশেষজ্ঞ দল। ইতোমধ্যে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত টার্মিনালের প্রধান যান্ত্রিক কাজ ও কেব্‌ল স্থাপনের বড় অংশ শেষ হয়েছে। প্রতিস্থাপিত যন্ত্রাংশের আলাদা আলাদা কার্যকারিতা পরীক্ষার কাজ ধাপে ধাপে সম্পন্ন করা হচ্ছে। চূড়ান্ত পরীক্ষায় কোনো ধরনের ত্রুটি না থাকলে মঙ্গলবার চালু করা যাবে টার্মিনালটি। এরপর আর গ্যাস সমস্যা থাকবে না। বর্তমানে টার্মিনালটির মূল যন্ত্রাংশের পুনঃস্থাপন ও কেব্লিংয়ের কাজ শেষে বিদ্যুৎ সংযোগ ও চূড়ান্ত চাপ পরীক্ষার (প্রেসার টেস্ট) প্রক্রিয়া চলছে। টার্মিনালটির রিগ্যাসফিকেশন ইউনিট সচল করার জন্য ‘ড্রাই রান’ ও ইলেকট্রো-মেকানিক্যাল সিস্টেমের ক্যালিব্রেশন কাজ চলছে।

চট্টগ্রামের কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (কেজিডিসিএল) উপমহাব্যবস্থাপক মো. রফিক খান বলেন, ‘এলএনজি টার্মিনাল থেকে আগস্টের প্রথম তারিখ থেকে গ্যাস সরবরাহ করার কথা ছিল। কিন্তু সমস্যার পুরোপুরি সমাধান হয়নি। টার্মিনালে বিদেশি প্রকৌশলীরা কাজ করছেন। আশা করছি, চলতি সপ্তাহে সমাধান হবে।’ তিনি জানান, চট্টগ্রামে মোট চাহিদার মধ্যে সরবরাহ ২৮ মিলিয়ন ঘনফুট কমে যাওয়ায় বিভিন্ন এলাকায় গ্যাসের চাপ হ্রাস পেয়েছে। এতে শিল্পকারখানায় গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। ত্রুটিজণিত কারণে এলএনজি টার্মিনাল থেকে সরবরাহ অর্ধেকে নামায় এ সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে শিল্পকারখানায় বন্ধ রেখে বাসাবাড়িতে গ্যাস সরবরাহ সচল রাখা হয়েছে।

এদিকে জুলাই মাসের শেষ সপ্তাহের দিকে এলএনজি টার্মিনালের সাময়িক বিভ্রাটের কারণে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক প্রায় ৫০ থেকে ৬০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ কমে গেছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে চট্টগ্রামসহ সারা দেশের শিল্পকারখানা, বিদ্যুৎকেন্দ্র ও আবাসিক খাতে। গ্যাসসংকট কাটেনি চট্টগ্রাম রূপপুর শিল্পাঞ্চল, কেপিএম ও সার কারখানাগুলোতে। একই সঙ্গে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে উৎপাদন কমে যাওয়ায় বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং বেড়েছে। চট্টগ্রাম মহানগরীসহ আশপাশের এলাকার বাসাবাড়িতে দিনে গ্যাসের স্বল্প চাপের কারণে রান্নাবান্না ব্যাহত হচ্ছে। অন্যদিকে সিএনজি স্টেশনগুলোতে দেখা যাচ্ছে গাড়ির দীর্ঘ লাইন।

কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড কর্তৃপক্ষ জানায়, দুটি এলএনজি স্টেশন (এফএসআরইউ ও আরএলএনজি) জাতীয় সঞ্চালন লাইনে দৈনিক ৯০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করে। জুলাই মাসের শেষের দিকে একটি টার্মিনাল বন্ধ থাকায় গ্যাস সরবরাহ হচ্ছে মাত্র ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট। এতে দুর্ভোগে পড়তে হয় গ্রাহকদের।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর