ঘরের মাঠে শুরু থেকেই দারুণ খেলছিল স্পোর্টিং লিসবন। গোলের দারুণ কিছু সুযোগও পেয়েছিল তারা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত হতাশাই উপহার পায় দলটি। আর তার একমাত্র কারণ আর্সেনাল গোলরক্ষক দাভিদ রায়া। হোসে আলভালাদে স্টেডিয়ামে তার অতিমানবীয় সেভগুলোর সুবাদেই ম্যাচে টিকে ছিল গানাররা। এমন পারফরম্যান্সের পর সতীর্থ কাই হ্যাভার্টজ বললেন, রায়াই বর্তমানে ‘বিশ্বের সেরা গোলরক্ষক’।
ম্যাচের বেশিরভাগ সময় নিজেদের সেরা ছন্দে না থাকলেও, রায়ার ম্যাচসেরা পারফরম্যান্সে ভর করে টানা দুই হারের বৃত্ত থেকে বেরিয়ে আসে মিকেল আরতেতার দল। স্পোর্টিংয়ের ম্যাক্সি আরাউজোর একটি শট রায়ার আঙুল ছুঁয়ে ক্রসবারে লাগে। এরপর জেনি কাতামোর একটি নিচু শট এবং দ্বিতীয়ার্ধের শেষদিকে তার আরও একটি দুর্দান্ত হেডার ঠেকিয়ে দেন তিনি।
রায়ার এই দৃঢতার পর, স্টপেজ টাইমে বদলি খেলোয়াড় গাব্রিয়েল মার্তিনেল্লির পাস থেকে শান্ত মেজাজে গোল করে দলের জয় নিশ্চিত করেন কাই হ্যাভার্টজ। এই জয়ের ফলে আগামী ১৫ এপ্রিল নিজেদের মাঠে ফিরতি লেগের আগে সেমিফাইনালে ওঠার দৌড়ে নিজেদের ফেভারিট হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করল আর্সেনাল।
ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে লিগ কাপ ফাইনাল এবং দ্বিতীয় স্তরের দল সাউদাম্পটনের বিপক্ষে এফএ কাপের কোয়ার্টার ফাইনালে হারের বিব্রতকর ম্যাচ দুটিতে রায়াকে বিশ্রামে রাখা হয়েছিল। ওয়েম্বলিতে সিটির বিপক্ষে রায়ার বদলি হিসেবে নামা কেপা আরিজাবালাগার একটি বড় ভুলের খেসারত দিয়ে গোল হজম করতে হয়েছিল দলকে। লিসবনে ব্রেন্টফোর্ডের প্রাক্তন তারকা রায়ার বীরত্বপূর্ণ প্রত্যাবর্তন তাই যেন বুঝিয়ে দিল দলে তার উপস্থিতি কতটা অপরিহার্য।
রায়ার বন্দনা করে হ্যাভার্টজ বলেন, ‘অবিশ্বাস্য! আমার মনে হয় ফুটবল বিশ্বে তাকে এখনও অবমূল্যায়ন করা হয়। তবে আমার চোখে, গত দুই মৌসুমে সেই বিশ্বের সেরা গোলরক্ষক। সে অসামান্য, অনেকবার সে আমাদের বাঁচিয়েছে এবং তাকে দলে পেয়ে আমরা সত্যিই খুব আনন্দিত।’