বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১২:১৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
প্রাণনাশের আশঙ্কা থাকলেও ডিসেম্বরের মধ্যেই বাংলাদেশে ফিরতে চান শেখ হাসিনা শনিবার থেকে উত্তরাঞ্চলে টানা বৃষ্টির পূর্বাভাস থানার বাইরে বিএনপির অস্ত্রধারীদের টহলের দাবি নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর আন্তর্জাতিক লেনদেন আরও সহজ করলো বাংলাদেশ ব্যাংক হাসপাতালে দালাল চক্র ও টেস্ট বাণিজ্য অপতৎপরতা স্থায়ীভাবে বন্ধ করা হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী হবিগঞ্জ ছাত্রদলের সভাপতিসহ শতাধিক ব্যক্তিকে আসামি করে এনসিপির মামলা এনসিপি নেতাদের ওপর হামলার তীব্র নিন্দা জানাল জামায়াত জুলাই নিয়ে অপতৎপরতা রাজনৈতিকভাবেই মোকাবিলা করবে বিএনপি: সেতুমন্ত্রী সাবেক ডিআইজি ফারুকের বরখাস্তের আদেশ বাতিল বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক নতুন করে শুরু করতে ঐকমত্য হয়েছে : পররাষ্ট্রমন্ত্রী

ট্রাম্প-নেতানিয়াহু বৈঠকের মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
  • আপডেটের সময় : বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬
  • ৩ টাইম ভিউ
ট্রাম্প-নেতানিয়াহু বৈঠকের মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা
ছবি- সংগৃহীত

ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে ওয়াশিংটনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করবেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। শনিবার (০৭ ফেব্রুয়ারি) নেতানিয়াহু দপ্তর এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে। এর একদিন আগেই ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এই অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে হামলার হুমকি দেন।নেতানিয়াহুর দপ্তরের বিবৃতিতে বলা হয়, যেকোনো আলোচনায় ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি সীমিত করা এবং ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে দেওয়া সহায়তা বন্ধের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে। এসব গোষ্ঠীর মধ্যে লেবাননের হিজবুল্লাহ ও ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে সক্রিয় হামাসের নাম উল্লেখ করা হয়। গত ডিসেম্বর মাসে সর্বশেষ মুখোমুখি সাক্ষাৎ হয়েছিল ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর।

যদিও এ বৈঠকের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। এর আগে শুক্রবার ওমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান পরোক্ষ আলোচনায় বসে। আলোচনায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ভবিষ্যৎ আলোচনা কীভাবে এগোবে, সে বিষয়ে উভয় পক্ষ কার্যত প্রাথমিক অবস্থানেই ফিরে গেছে বলে কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আলোচনাকে “খুব ভালো” বলে আখ্যা দেন এবং জানান, আগামী সপ্তাহের শুরুতেই আরও আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে আলোচনায় অংশ নেন মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার।এরই মধ্যে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে চুক্তিতে পৌঁছাতে তেহরানের ওপর চাপ বাড়াতে সামরিক শক্তি ব্যবহারের হুমকি দিয়ে আসছেন ট্রাম্প। ইরানে সাম্প্রতিক সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমন অভিযানে হাজার হাজার মানুষ নিহত হওয়ার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন বিমানবাহী রণতরীসহ একাধিক যুদ্ধজাহাজ মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করে।

এমন পরিস্থিতিতে উপসাগরীয় আরব দেশগুলো আশঙ্কা করছে, ইরানে যেকোনো সামরিক হামলা পুরো অঞ্চলে যুদ্ধ ছড়িয়ে দিতে পারে। বিশেষ করে গত জুনে ১২ দিনব্যাপী ইসরায়েল-ইরান যুদ্ধের স্মৃতি এখনো তাজা।

ইরানের সঙ্গে আলোচনায় এই প্রথম যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে তাদের শীর্ষ সামরিক কমান্ডারকে অন্তর্ভুক্ত করেছে। শুক্রবার আলোচনায় অংশ নেন যুক্তরাষ্ট্র নৌবাহিনীর অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার, যিনি সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান। শনিবার তিনি উইটকফ ও কুশনারের সঙ্গে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন পরিদর্শন করেন বলে সেন্ট্রাল কমান্ড এক বিবৃতিতে জানিয়েছে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি শুক্রবার (০৬ ফেব্রুয়ারি) সাংবাদিকদের বলেন, পারমাণবিক আলোচনা ও মূল সমস্যাগুলোর সমাধান “শান্ত পরিবেশে, উত্তেজনা ও হুমকি ছাড়া” হতে হবে। তিনি জানান, কূটনীতিকরা নিজ নিজ রাজধানীতে ফিরে যাচ্ছেন, যা এই দফার আলোচনা শেষ হওয়ার ইঙ্গিত দেয়।

শনিবার আল জাজিরা টেলিভিশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইরান পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানে হামলা চালায়, তাহলে ইরানের পক্ষে সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রে আঘাত হানা সম্ভব নয়। সে ক্ষেত্রে ইরান এই অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালাবে।

তিনি আরও বলেন, গত বছরের ইসরায়েল-ইরান যুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালানোর পর উভয় দেশের মধ্যে “খুব গভীর অবিশ্বাস” তৈরি হয়েছে।আরাগচি স্পষ্ট করে বলেন, ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ও অন্যান্য প্রতিরক্ষা বিষয় “কোনোভাবেই আলোচনার বিষয় নয়—এখনও না, ভবিষ্যতেও না।” ইরান বরাবরের মতোই জোর দিয়ে বলেছে, আলোচনা কেবল তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েই সীমাবদ্ধ থাকবে।

তবে আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিসর, তুরস্ক ও কাতারের কূটনীতিকরা ইরানকে একটি প্রস্তাব দিয়েছেন। প্রস্তাব অনুযায়ী, ইরান তিন বছরের জন্য ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করবে, উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দেশের বাইরে পাঠাবে এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারে উদ্যোগ না নেওয়ার অঙ্গীকার করবে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, পারমাণবিক কর্মসূচির পাশাপাশি ক্ষেপণাস্ত্র ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যুগুলোও আলোচনায় অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন। যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র ইসরায়েল দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছে, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে এবং তাদের কর্মসূচি সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করা উচিত। তবে ইরান জোর দিয়ে বলে আসছে, তাদের পারমাণবিক কার্যক্রম শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরিচালিত।

শনিবার কাতারে এক ফোরামে বক্তব্য দিতে গিয়ে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ইসরায়েলের বিরুদ্ধে অঞ্চল অস্থিতিশীল করার অভিযোগ তোলেন। তিনি বলেন, ইসরায়েল “অন্য দেশের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করে, সরকারি কর্মকর্তাদের হত্যা করে, সন্ত্রাসী অভিযান চালায় এবং একাধিক অঞ্চলে আগ্রাসী ভূমিকা রাখে।” একই সঙ্গে তিনি ফিলিস্তিনিদের প্রতি ইসরায়েলের আচরণের সমালোচনা করে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক অস্ত্র নিষেধাজ্ঞাসহ কঠোর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জানান।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর