রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ১১:৩১ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
মালয়েশিয়ার কারাগারে থাকা বাংলাদেশিদের মুক্ত করতে চেষ্টা চালাবো: প্রধানমন্ত্রী নৃশংসভাবে খুন হওয়া নাজমুলের পরিবারের পাশে বিএনপি নেতা রহমাতুল্লাহ চাঁদাবাজির মামলায় এনসিপির নেতাসহ আটক ২ চাঁদাবাজির অভিযোগ: এমপিপুত্র সজীবকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে ডিবি ফরিদপুরে ডিবি হেফাজতে ছাত্রলীগ কর্মীর মৃত্যুতে তদন্ত কমিটি গঠন সরকার গঠনের পর প্রথম দ্বিপাক্ষিক সফরে মালয়েশিয়া ও চীন যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আবার হরমুজ প্রণালি বন্ধের ঘোষণা ইরানের সুইজারল্যান্ডে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র বৈঠক রোববার: পাকিস্তান বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও বিভ্রান্তিকর প্রচারণা নিয়ে বাংলাদেশ জাস্টিস পার্টির কঠোর অবস্থান প্রতিমন্ত্রীর ‘ছেলেদের নামে’ দুই ইউনিয়নের নামকরণ, বদলানোর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন তারেক রহমান, জনস্রোত ঠেলে এগোচ্ছে বাস

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
  • আপডেটের সময় : বৃহস্পতিবার, ২৫ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ১৪১ টাইম ভিউ
হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন তারেক রহমান, জনস্রোত ঠেলে এগোচ্ছে বাস

দীর্ঘ ১৮ বছরের নির্বাসন ও অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে নিজ মাতৃভূমিতে পা রাখলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আজ বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে তাকে বহনকারী বিমানটি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করার সাথে সাথে সারা দেশে বিএনপি নেতাকর্মীদের মাঝে এক অভাবনীয় উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়ে। বিমানবন্দর থেকে বেরিয়ে তিনি ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ লেখা একটি সুসজ্জিত বাসে করে পূর্বাচলের ‘৩৬ জুলাই এক্সপ্রেসওয়ে’ (৩০০ ফিট) অভিমুখে গণসংবর্ধনা স্থলের উদ্দেশ্যে রওনা হন।

মাটির টানে আবেগাপ্লুত জননেতা
বিমানবন্দরের ভিভিআইপি লাউঞ্জ থেকে বের হওয়ার পর এক আবেগঘন মুহূর্তের সাক্ষী হয় দেশবাসী। দীর্ঘ প্রায় দুই দশক পর দেশের মাটিতে পা রেখেই তারেক রহমান জুতা খুলে শিশিরভেজা সবুজ ঘাসের ওপর দাঁড়ান। গভীর মমতায় একমুঠো মাটি হাতে তুলে নেন তিনি, যা উপস্থিত হাজার হাজার নেতাকর্মীকে আপ্লুত করে তোলে। প্রিয় নেতাকে একনজর দেখতে বিমানবন্দরের প্রবেশপথ থেকে শুরু করে পুরো সড়কজুড়ে তখন সৃষ্টি হয় মানুষের এক বিশাল ঢেউ।

বিমানবন্দরে রাজকীয় অভ্যর্থনা
এর আগে রানওয়েতে তারেক রহমানকে স্বাগত জানান বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির সিনিয়র সদস্যবৃন্দ। ইমিগ্রেশন ও প্রাতিষ্ঠানিক আনুষ্ঠানিকতা শেষে তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমান ও কন্যা জাইমা রহমান সরাসরি এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে দেখার উদ্দেশ্যে রওনা হন। অন্যদিকে, তারেক রহমান তার জন্য অপেক্ষমাণ নেতাকর্মীদের জনস্রোত ঠেলে এগিয়ে যান তার গন্তব্যে।

গণসংবর্ধনার পথে জনসমুদ্র
বিমানবন্দর থেকে পূর্বাচল পর্যন্ত পুরো এলাকা যেন আজ এক বিশাল জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছে। ব্যানার, ফেস্টুন আর স্লোগানে স্লোগানে প্রকম্পিত হচ্ছে রাজপথ। ধীরগতিতে এগোতে থাকা বাসের জানালা দিয়ে হাসিমুখে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন তারেক রহমান। জনস্রোত সামাল দিতে নেতাকর্মীদের হিমশিম খেতে হচ্ছে, তবুও প্রিয় নেতার একটি ঝলক পাওয়ার জন্য মানুষের আকুলতার কোনো কমতি নেই।

তারেক রহমানের এই স্বদেশ প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে পূর্বাচলের ৩৬ জুলাই এক্সপ্রেসওয়ে এলাকায় এক বিশাল গণসংবর্ধনার আয়োজন করেছে বিএনপি। কুড়িল মোড় সংলগ্ন সড়কের উত্তর পাশে বাঁশ ও কাঠ দিয়ে তৈরি করা হয়েছে ৪৮ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৩৬ ফুট প্রস্থের এক সুবিশাল ও রাজকীয় মঞ্চ। সেখানে লক্ষ লক্ষ মানুষের উপস্থিতিতে তিনি ভাষণ দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

দীর্ঘ যাত্রার ইতি
উল্লেখ্য, স্থানীয় সময় গত বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা ৬টা ৩৬ মিনিটে লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দর থেকে সপরিবারে যাত্রা শুরু করেন তারেক রহমান। আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা ৫৮ মিনিটে তাকে বহনকারী বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইটটি প্রথমে সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। সেখানে সংক্ষিপ্ত যাত্রাবিরতি ও জ্বালানি গ্রহণ শেষে বেলা ১১টা ১০ মিনিটে পুনরায় ঢাকার উদ্দেশ্যে উড়াল দেয় বিমানটি।

দীর্ঘ প্রায় ১৮ বছর পর তারেক রহমানের এই ফিরে আসা বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক নতুন মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে। নেতাকর্মীদের মাঝে উদ্দীপনা আর সাধারণ মানুষের কৌতূহল—সব মিলিয়ে আজ পুরো রাজধানী যেন উৎসবের নগরীতে রূপ নিয়েছে। সবার দৃষ্টি এখন পূর্বাচলের সেই বিশাল মঞ্চের দিকে, যেখানে দীর্ঘ নির্বাসন শেষে তারেক রহমান তার পরবর্তী রাজনৈতিক রূপরেখা তুলে ধরবেন।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর