রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:২৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু প্রেমে জড়িয়ে ৬ মাস আগে বিয়ে করেন পুলিশ সদস্য সম্রাট, অনুষ্ঠান হওয়ার কথা ছিল সামনে মাসে একদিনে কুয়েত থেকে এলো ৩০ প্রবাসীর মরদেহ ওসমান হাদি হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্রের ‘বিক্রেতা’ হেলালের দোষ স্বীকার দেশে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ল, রোববার থেকেই কার্যকর মার্কিন পারমাণবিক বিজ্ঞানীদের রহস্যজনক মৃত্যু-নিখোঁজ,তদন্তের নির্দেশ ট্রাম্পের সারা দেশে বজ্রপাতে ১২ জনের মৃ‍‍ত্যু ভারত থেকে দেশে এলো আরও ৫ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল হরমুজে ‘পুলিশি ভূমিকা’ নিলে মার্কিন জাহাজ ডুবানোর হুঁশিয়ারি ইরানের শত্রুদের পরাজয়ের আরেকটি ‘তিক্ত স্বাদ’ দিতে প্রস্তুত ইরান: মোজতবা খামেনি

সারা দেশে বজ্রপাতে ১২ জনের মৃ‍‍ত্যু

আওয়াজ অনলাইন ডেস্ক :
  • আপডেটের সময় : শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৫ টাইম ভিউ
সারা দেশে বজ্রপাতে ১২ জনের মৃ‍‍ত্যু

সারা দেশে কালবৈশাখী ঝড়ের তাণ্ডবে পৃথক বজ্রপাতের ঘটনায় অন্তত ১২ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। শনিবার দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত দেশের ছয়টি জেলায় এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। বজ্রপাতে নিহতের পাশাপাশি আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৯ জন। নিহতদের মধ্যে অধিকাংশই কৃষক, যারা হাওর বা খোলা মাঠে কাজ করছিলেন। সুনামগঞ্জ জেলায় সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে।

এ ছাড়া রংপুর, ময়মনসিংহ, নেত্রকোণা, হবিগঞ্জ ও কিশোরগঞ্জে এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। বোরো ধান কাটার এই মৌসুমে আকস্মিক বজ্রপাতে এতগুলো মানুষের মৃত্যুতে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সুনামগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি জানিয়েছেন, এই জেলায় সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে। জেলার তাহিরপুর, জামালগঞ্জ, ধর্মপাশা ও দিরাই উপজেলার পৃথক হাওরে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে পাঁচ কৃষকের মৃত্যু হয়েছে।

নিহতরা হলেন— তাহিরপুর উপজেলার আবুল কালাম (২৫), জামালগঞ্জ উপজেলার নাজমুল হোসেন (২৬), ধর্মপাশা উপজেলার হাবিবুর রহমান (২৪) ও রহমত উল্লাহ (১৩) এবং দিরাই উপজেলার লিটন মিয়া (৩৮)। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুপুরে কৃষকরা যখন হাওরে ধান কাটছিলেন, ঠিক তখন হঠাৎ ঝোড়ো হাওয়ার সাথে প্রবল বজ্রপাত শুরু হয়। তাহিরপুরের মাটিয়ান হাওরে আহত আবুল কালামকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। অন্যদিকে ধর্মপাশার হাবিবুর রহমান বাদশাগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।

রংপুর জেলা থেকেও বজ্রপাতে মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। সকালে মিঠাপুকুর উপজেলার বড় হযরতপুর ইউনিয়নের সখিপুর গ্রামে এই দুর্ঘটনা ঘটে। সেখানে বজ্রপাতে মৎস্যজীবী মিলন মিয়া (৩৫) ও কৃষক তালেব উদ্দিন (৪৫) নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় আরও ৯ জন আহত হয়েছেন যাদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন জানান, বৃষ্টির সময় বিলের পাশে মাছ ধরা দেখতে ভিড় করেছিলেন স্থানীয়রা। ঠিক সেই মুহূর্তেই বজ্রপাত ঘটলে ঘটনাস্থলেই তিন শিশুসহ ১১ জন আহত হন। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক দুজনকে মৃত ঘোষণা করেন। মিঠাপুকুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও ডা. মিজানুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ময়মনসিংহের গৌরীপুর ও গফরগাঁও উপজেলায় বজ্রপাতে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। গৌরীপুর উপজেলার কোনাপাড়া গ্রামে বোন জামাইয়ের ধানক্ষেত দেখতে গিয়ে বজ্রপাতের শিকার হন রহমত আলী উজ্জ্বল (৩০)। তিনি পেশায় একজন মুদি দোকানি ছিলেন। অন্যদিকে গফরগাঁওয়ের ধাইরগাঁও গ্রামে জোহরের নামাজ পড়ে বাড়ি ফেরার পথে মমতাজ আলী খান (৫৮) নামে এক ব্যক্তি বজ্রপাতে গুরুতর আহত হন। পরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ উভয় ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেছে।

নেত্রকোণার আটপাড়া উপজেলায় হাওরে গরুর জন্য ঘাস কাটতে গিয়ে আলতু মিয়া (৬৫) নামে এক প্রবীণ কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। সুখারী ইউনিয়নের হাতিয়া গ্রামের সামনের মেষির হাওরে এই দুর্ঘটনা ঘটে। আকাশ অন্ধকার করে বৃষ্টির সময় তিনি বজ্রপাতের কবলে পড়েন। একই সময়ে হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার মমিনা হাওরে বর্গা জমিতে ধান কাটার সময় সুনাম উদ্দিন (৫৫) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। তিনি তার ছেলের সাথে কাজ করছিলেন। ফসল ঘরে তোলার ঠিক আগ মুহূর্তে তার এমন মৃত্যুতে পরিবারটি এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছে। স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. জুয়েল মিয়া এই মর্মান্তিক ঘটনার কথা জানিয়েছেন।

এ ছাড়া কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার জয়কা ইউনিয়নে হলুদ মিয়া (৩৭) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। দুপুরে বড় হাওরে ধান কাটার সময় বজ্রপাত হলে তিনি ঘটনাস্থলেই গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে গেলে তার মৃত্যু নিশ্চিত হয়। করিমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. এমরানুল কবির জানান, নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থার প্রক্রিয়া চলছে। কালবৈশাখীর এই মৌসুমে বজ্রপাতের ঝুঁকি বৃদ্ধি পাওয়ায় আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে মেঘের ডাক শুরু হলে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর