শনিবার, ২০ জুন ২০২৬, ০৯:০৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
প্রতিমন্ত্রীর ‘ছেলেদের নামে’ দুই ইউনিয়নের নামকরণ, বদলানোর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, তিন মাসে প্রাণহানি ৫৬০ ব্রাজিলের বিপক্ষে আমাদের হারানোর কিছু নেই: হাইতি কোচ ‘আমি রোনালদোর ভক্ত, মেসিকে রুখতে সবকিছু করব :অস্ট্রিয়ার গোলরক্ষক ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের ফেসবুক আইডি হ্যাক সাংবাদিক গ্রেপ্তার ইস্যুতে দুঃখ প্রকাশ করে বিবৃতি এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রীর আশা জাগিয়েও হারল বাংলাদেশ, অস্ট্রেলিয়ার সিরিজ জয় আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে রাজধানীতে কোনো নিরাপত্তা শঙ্কা নেই: ডিএমপি আ.লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে সংঘাতের শঙ্কা, সারাদেশে সতর্ক পুলিশ চীনে বিশ্বের বৃহত্তম বাঁধ নির্মাণ শুরু, মহাবিপদে ভারত

৬০ বছরের রাজনৈতিক জীবনে প্রথম এমপি হলেন গয়েশ্বর

আওয়াজ অনলাইন ডেস্ক :
  • আপডেটের সময় : সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ১১৩ টাইম ভিউ
৬০ বছরের রাজনৈতিক জীবনে প্রথম এমপি হলেন গয়েশ্বর

বাংলাদেশের রাজনীতির এক জীবন্ত কিংবদন্তি এবং বিএনপির নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় তাঁর ৬০ বছরের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে প্রথমবারের মতো সরাসরি ভোটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৩ (কেরানীগঞ্জ) আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ৯৮ হাজার ৭৮৫ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন তিনি। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর অধ্যক্ষ শাহিনুর ইসলাম পেয়েছেন ৮২ হাজার ২৩২ ভোট।

গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের এই জয় কেবল একটি আসনের বিজয় নয়, বরং এটি দীর্ঘ প্রতীক্ষা ও ত্যাগের এক অনন্য উদাহরণ। এর আগে ২০০৮ এবং ২০১৮ সালের নির্বাচনে তিনি একই আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও আওয়ামী লীগ সরকারের ভোট জালিয়াতি ও প্রতিকূল পরিবেশের কারণে জয়ের স্বাদ পাননি। তবে এবার জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত রায়ে তিনি সংসদীয় গণতন্ত্রের মূল স্রোতে নাম লেখালেন।

১৯৫১ সালে কেরানীগঞ্জের মির্জাপুর রায় পরিবারে জন্ম নেওয়া এই নেতার রাজনীতি শুরু হয়েছিল ১৯৬৬ সালে, যখন তিনি ছিলেন স্কুলের ছাত্র। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে সম্মুখ সমরে অংশগ্রহণ করা এই বীর মুক্তিযোদ্ধা ১৯৭৮ সালে জাতীয়তাবাদী যুবদলে যোগদানের মাধ্যমে বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় হন। দীর্ঘ ১৫ বছর (১৯৮৭-২০০২) তিনি যুবদলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৯১ সালে বিএনপি সরকার গঠন করলে তিনি টেকনোক্র্যাট কোটায় পরিবেশ ও বন এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব সফলভাবে পালন করেন।

ব্যক্তিগত জীবনে আদর্শবাদী এই নেতা এক আলাপচারিতায় জানিয়েছেন, রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে তিনি কখনোই পদের পেছনে ছোটেননি কিংবা দলের কাছে কখনো নমিনেশন চাননি। দল যখনই তাঁকে দায়িত্ব দিয়েছে, তিনি তা সাহসিকতার সাথে পালন করেছেন। এবার তাঁর জয়ের পাশাপাশি এক অনন্য পারিবারিক ইতিহাসও রচিত হয়েছে। একদিকে তিনি নিজে বিজয়ী হয়েছেন, অন্যদিকে তাঁর বেয়াই ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরী মাগুরা-২ আসন থেকে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন।

গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের মতে, তাঁর মূল লক্ষ্য কখনোই ক্ষমতা ছিল না, বরং একজন ‘ভালো রাজনীতিবিদ’ হওয়া। দীর্ঘ ছয় দশকের লড়াই শেষে তাঁর এই বিজয় নতুন প্রজন্মের রাজনীতিকদের জন্য এক বিশাল অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর