শেখ হাসিনা সরকারের প্রবণতা এই সরকারেও দেখা যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। এছাড়া সরকারী দলকে দায়িত্বশীল আচরণ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘বিগত শেখ হাসিনার আমলে আমরা দেখেছিলাম কীভাবে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো, বিচার বিভাগ, প্রশাসন, পুলিশ সবকিছু দলীয়করণ করা হয়েছিল। সেই একই প্রবণতা, এই সরকারের একমাসও হয়নি সেই প্রবণতা শুরু থেকেই আমরা দেখতে পাচ্ছি।’
তিনি আরো বলেন, এ দেশের ৭ ই মার্চের নামে মুক্তিযোদ্ধের নামে বা শেখ মুজিবের নামে যদি ফাঁসিসদের পুনর্বাসন করা হয় তাহলে এনসিবি তথা ১১ দল কোনভাবেই মেনে নেবে না। এনসিপির আহবায়ক বলেন এদেশের ফ্যাসিসদের কোন ক্ষমা নাই, ফ্যাসিবাদের বিচার ফ্যাসিস্টদের দোষরদের বিচার এই বাংলার মাটিতে হবেই হবে ইনশাআল্লাহ। ফরিদপুর বিভাগীয় জাতীয় নাগরিক পার্টির ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্যকালে সংসদ সদস্য নাহিদ ইসলাম এই আহ্বান জানান। আজ শনিবার সন্ধ্যায় ফরিদপুর শহরের অম্বিকা মেমোরিয়াল ময়দানে এই ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
ইফতারের পূর্বে আলোচনা সভায় নাহিদ ইসলাম বক্তব্য রাখেন। এ সময় তিনি আগামী ১২ই ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের শুরুতেই বিএনপিকে সংবিধান সংস্কার কমিশনের সদস্য হিসেবে শপথ ও রাষ্ট্রপতি শাহাবুদ্দিন হোসেন চুপ্পুকে অপসারনের আহ্বান জানিয়েছেন জানান। তিনি বলেন, ‘অন্যথায় এর বিচ্যুতি যদি ঘটে তাহলে এগারো দলকেও, জাতীয় নাগরিক পার্টিকেও চিন্তা করতে হবে; আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে আমরা বাধ্য থাকব।’
সরকারি দল একটি শপথ নিয়ে সবার আগে জুলাই আকাঙ্খার প্রতিশ্রুতির সাথে বেঈমানী করেছে বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরে বহুল আকাঙ্খিত নির্বাচন হয়েছে কিন্তু সেই নির্বাচনকে নানাভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে। জুলাই সনদের আদেশ অনুযায়ী আমরা শপথ নিয়েছি। যেখানে সরকারি দল একটি শপথ নিয়ে সবার আগে জুলাই আকাঙ্খার প্রতিশ্রুতির সাথে বেঈমানী করেছে। তারা দুটি শপথ না নিয়ে নানাভাবে বুঝানোর চেষ্টা করছে, জুলাই সনদের আদেশ যেটি হয়েছে, গণভোট হয়েছে যেখানে জনগণ ব্যাপকভাবে হ্যায়ের পক্ষে তথা সংস্কারের পক্ষে রায় দিয়েছে। সেই গণভোটের বৈধতা নিয়ে তারা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। জুলাই সনদ বাস্তবায়নের আদেশ ও গণভোটের বৈধতা নিয়ে আদালতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, তাদের সরকার দলীয় পন্থী আইনজীবীরা আদালতে নিয়ে বৈধতা নিয়ে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করে যাচ্ছে, আদালতের উপরে চাপ প্রয়োগ করছে।’
এছাড়া মিডিয়ার মাধ্যমে জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে টার্গেট ও আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের চেষ্টা চলছে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, সারাদেশে নানা প্রক্রিয়া, নানা পায়তারায় ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের চেষ্টা চলছে। বিভিন্ন মিডিয়া নানা পরিকল্পনা করে জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে টার্গেট করে যাচ্ছে। ৫ আগস্টের পর থেকে এবং এই নির্বাচনের পর থেকে সরকারের আশ্রয়ে-প্রশ্রয়ে এবং গ্রীণ সিগন্যালে তারা ব্যাপকভাবে আওয়ামীলীগ পুনর্বাসনের চেষ্টা করছে; বিভিন্ন মিথ্যা ও অপতথ্য তারা প্রচারণা করছে। আমরা খুব স্পষ্ট করে বলতে চাই, ফ্যাসিস্টদের কোনো ক্ষমা নেই, ফ্যাসিস্টদের বিচার এই বাংলার মাটিতে হবে। শহীদ ওসমান হাদীকে যারা খুন করেছে তাদের বিচার এই বাংলার মাটিতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ মুক্তিযুদ্ধ আমাদের গৌরব ইতিহাসের অংশ; মুক্তিযুদ্ধের আকাঙ্খাকে ভুলন্ঠিত করেছে সেই ফ্যাসিস্ট দোসররা গত ১৭ বছর শেখ মুজিবের নামে, ৭ই মার্চের নামে তাদের সকল অপকর্ম, লুন্ঠণ, গণহত্যা, গুম-খুন সবই বৈধতা দেয়ার চেষ্টা করে গিয়েছে। এখনও আমরা একই প্রচেষ্টা দেখছি, মুক্তিযুদ্ধ, শেখ মুজিব ও ৭ই মার্চের নামে ফ্যাসিবাদের পক্ষে সাফাই গাওয়ার একটা বৈধতা তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে। আপনাদের হুশিয়ারী করে দিতে চাই- এই ধরনের চেষ্টায় কোনো লাভ হবে না।’
এ সময় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন দলটির উত্তরাঞ্চলীয় মুখপাত্র সারজিস আলম, ফরিদপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য ড. মো. ইলিয়াস মোল্যা, ফরিদপুর-৩ আসনের বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রার্থী ও দলটির সুরা সদস্য প্রফেসর আব্দুত তাওয়াব, জেলা আমির মাওলানা বদরুদ্দীন সহ অনেকে। এতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলের নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।