জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত অবিলম্বে পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। ১৯ এপ্রিল গণমাধ্যমে পাঠানো পৃথক বিবৃতিতে এই আহ্বান জানিয়েছেন দলগুলোর নেতারা। কেউ আবার জ্বালানির ‘বিকল্প সন্ধানের’ পরামর্শ দিয়েছেন।
শনিবার(১৮ এপ্রিল) রাতে চার ধরনের তেলের দাম প্রতি লিটারে ১৫ থেকে ২০ টাকা বাড়ানোর ঘোষণা দেয় বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ; যা মধ্যরাত থেকেই কার্যকর হয়েছে।জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার রোববার (১৯ এপ্রিল) এক বিবৃতিতে বলেন, “সম্প্রতি ঘোষিত নতুন দরে ডিজেল লিটারে ১৫ টাকা, কেরোসিন ১৮ টাকা, অকটেন ২০ টাকা এবং পেট্রল ১৯ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে। এ ধরনের খাতওয়ারী মূল্যবৃদ্ধি দেশের সার্বিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
“এতে সাধারণ মানুষের জীবনে নতুন করে দুর্ভোগ ডেকে আনবে। আমি সরকারের এই গণববিরোধী সিদ্ধান্তে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি এবং প্রতিবাদ জানাচ্ছি।”
গোলাম পরওয়ার বলেন, “জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার ফলে পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি পাবে, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের ওপর। খাদ্যপণ্যসহ সব ধরনের পণ্যের দাম বেড়ে যাবে। এতে মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের খেটে খাওয়া মানুষ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাদের আয় না বাড়লেও ব্যয় বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে, ফলে স্বাভাবিক জীবনযাপন ক্রমেই কঠিন হয়ে পড়বে।”
অবিলম্বে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত ‘পুনর্বিবেচনা’ করে তা সহনীয় পর্যায়ে নামিয়ে আনতে সরকারের প্রতি দাবি জানান তিনি। তেলের দাম বৃদ্ধি জীবনযাত্রাকে আরো ‘দুরূহ ও কঠিন’ করে তুলবে বলে মনে করেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির চরমোনাই পীর সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম।
তিনি এক বিবৃতিতে বলেন, “তেলের দামবৃদ্ধির সাথে নিত্যপণ্যের দাম, যোগাযোগ খরচসহ জীবনযাত্রার প্রতিটি কাজ জড়িত। তেলের দাম বৃদ্ধি হলে সব কিছুর দাম বাড়ে। যার সরাসরি প্রভাব পরে নিম্ন ও মধ্যবিত্তের ওপরে; যাদের আয় সীমিত। এর মাধ্যমে জীবনযাত্রা আরো দুর্বিসহ হয়ে উঠবে।
“আমরা সরকারের প্রতি আহবান করব, বৈশ্বিক সমস্যার সমাধানে নিম্ন ও মধ্যবিত্তকে বলির পাঁঠা বানাবেন না বরং বিকল্প উপায় খুঁজে বের করার প্রতি মনোযোগী হন।”
জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির সিদ্ধান্তে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানিয়ে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, “সরকারি এই সিদ্ধান্ত সাধারণ মানুষের জীবনকে আরও কষ্টের মধ্যে ফেলে দেবে। দ্রব্যমূল্যের ক্রমাগত ঊর্ধ্বগতিতে নাকাল কোটি কোটি মানুষের জীবন জীবিকা আরও দুর্বিসহ হয়ে উঠবে। দেশে জ্বালানি সংকটের মধ্যে তেলের এই অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধি মোটেও গ্রহণযোগ্য নয়।”
তিনি বলেন, “ইরান-আমেরিকা যুদ্ধবিরতিকালে জ্বালানি তেলের দাম যখন ব্যারেল প্রতি ৯০ ডলারে নেমে এল, তখন এই দাম কমার সুফল সাধারণ মানুষ না পেয়ে তাদেরকে বাড়তি দামে তেল কিনতে বাধ্য করা, জনগণের কাছে দায়বদ্ধ কোনো সরকারের উপযুক্ত কাজ হতে পারে না।”
জ্বালিয়ে খাতে ‘সীমাহীন চুরি, দুর্নীতি, লুটপাট, অব্যবস্থাপনা, সিস্টেম লস’ ১০ শতাংশ কমিয়ে আনতে পারলেও জ্বালানির দাম বৃদ্ধির প্রয়োজন হবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এদিকে এলপিজির বাড়ানোর সিদ্ধান্তেও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বিবৃতিতে বলেন, “এ ধরনের মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করবে। এর আগে ২ এপ্রিল চলতি মাসের জন্য এলপিজির দাম ৩৮৭ টাকা বাড়িয়ে ১৭২৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। অল্প সময়ের ব্যবধানে পরপর দুই দফা মূল্যবৃদ্ধি জনজীবনকে দুর্বিষহ করে তুলবে।”
রোববার বিকেলে অ্যানার্জি রেগুলেটরি কমিশন ভোক্তা পর্যায়ে প্রতি ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ২১২ টাকা বৃদ্ধি করে ১৯৪০ টাকা নির্ধারণ করেছে।