টাইফুন ‘বাভি’ ঘিরে চীন-তাইওয়ান-জাপানে সর্বোচ্চ সতর্কতা, বড় দুর্যোগের আশঙ্কা
রিপোর্টারের নাম
আপডেটের সময় :
শুক্রবার, ১০ জুলাই, ২০২৬
৯
টাইম ভিউ
সময়ের আওয়াজ ডেস্ক : শক্তিশালী টাইফুন ‘বাভি’র সম্ভাব্য আঘাতকে সামনে রেখে চীন, তাইওয়ান ও জাপানে ব্যাপক সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর উপকূলীয় অঞ্চল থেকে মাছ ধরার নৌকা নিরাপদ বন্দরে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে, সম্ভাব্য বন্যা মোকাবিলায় বালুর বস্তা সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং কৃষকেরা দ্রুত মাঠের ফসল ঘরে তুলছেন। আবহাওয়াবিদদের আশঙ্কা, সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে এটি সবচেয়ে শক্তিশালী গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঝড়গুলোর একটি হতে পারে।
এরই মধ্যে দক্ষিণ চীনে টাইফুন ‘মায়সাক’-এর ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার কাজ চললেও নতুন করে ‘বাভি’র হুমকি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। তাইওয়ানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সুয়াওসহ বিভিন্ন উপকূলীয় বন্দরে শত শত মাছ ধরার নৌকা আশ্রয় নিয়েছে। দেশটির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রাজধানী তাইপের উত্তরের পাহাড়ি এলাকায় এক মিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হতে পারে। সম্ভাব্য উদ্ধার কার্যক্রমের জন্য প্রায় ২৯ হাজার সেনাসদস্যকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
চীনের জাতীয় আবহাওয়া কেন্দ্র জানিয়েছে, টাইফুন ‘বাভি’র সর্বোচ্চ বাতাসের গতি ঘণ্টায় প্রায় ২০০ কিলোমিটার। ঝড়টির বিস্তৃতি প্রায় এক হাজার কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, উত্তর তাইওয়ানের পাশ দিয়ে অতিক্রম করে এটি চীনের পূর্বাঞ্চলের ফুজিয়ান প্রদেশে আঘাত হানতে পারে। তাইওয়ানের আবহাওয়া কর্মকর্তাদের মতে, আকারের দিক থেকে এটি কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় টাইফুনগুলোর একটি হতে পারে।
টাইফুনের প্রভাবে তাইওয়ানের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর তাওইয়ান শনিবারের সব বহির্গামী আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট বাতিল করেছে। একই সঙ্গে জাপানের ওকিনাওয়া অঞ্চলেও সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। প্রবল বাতাস, ভারী বৃষ্টি, ভূমিধস, বন্যা ও জলোচ্ছ্বাসের ঝুঁকির কারণে জাপান এয়ারলাইনস ৫০টি এবং অল নিপ্পন এয়ারওয়েজ ৩৪টি ফ্লাইট বাতিল করেছে। শনিবারও অতিরিক্ত ফ্লাইট বাতিলের সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সমুদ্রের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ায় শক্তিশালী টাইফুনের ঝুঁকি ক্রমেই বাড়ছে। তাদের মতে, দীর্ঘ সময় উষ্ণ সমুদ্রের ওপর অবস্থান করায় ‘বাভি’ বিপুল শক্তি সঞ্চয় করেছে। ফলে এটি স্থলভাগে আঘাত হানলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে ঝড়টির গতিপথে সামান্য পরিবর্তন হলেও ক্ষতির মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যেতে পারে।
এদিকে, টাইফুন ‘মায়সাক’-এর ক্ষতিগ্রস্ত দক্ষিণ চীনের বিভিন্ন এলাকায় এখনো উদ্ধার ও পুনর্বাসন কার্যক্রম চলছে। বন্যাকবলিত অঞ্চলে ড্রোনের মাধ্যমে খাদ্য ও ওষুধ পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। বিভিন্ন স্থানে গবাদিপশুর মৃত্যু, চিড়িয়াখানার প্রাণী নিখোঁজ হওয়া এবং বসতবাড়ির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। নতুন টাইফুনের আগমনে স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্বেগ আরও বেড়েছে।