২০২৭ গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডসে নিজেদের কোনো গান জমা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে বিশ্বখ্যাত কে-পপ ব্যান্ড বিটিএস। গত ২৯ জুলাই ব্যান্ডটির সাত সদস্য আরএম, জিন, সুগা, জে-হোপ, জিমিন, ভি ও জাংকুক নিজেদের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে একই বার্তা প্রকাশ করে এ সিদ্ধান্ত জানান। তারা বলেন, অঞ্চল বা ভাষার সীমার মধ্যে ভাগ না করে সংগীতকে তার নিজস্ব মূল্য দিয়ে শোনা ও ভালোবাসা হোক।
বিটিএসের এই সিদ্ধান্তের পরই নতুন করে আলোচনায় এসেছে গ্র্যামির ‘বেস্ট এশিয়ান পপ মিউজিক পারফরম্যান্স’ বিভাগ। ২০২৭ সালের গ্র্যামিতে প্রথমবারের মতো চালু হতে যাওয়া এই বিভাগে কেপপ, জাপানি পপ ও চীনা পপসহ এশিয়ার বিভিন্ন বাজারের সংগীতকে স্বীকৃতি দেওয়ার কথা রয়েছে। রেকর্ডিং একাডেমির ভাষ্য, এশীয় সংগীতের বৈচিত্র্য ও শিল্পীদের জন্য বৃহত্তর স্বীকৃতির সুযোগ তৈরি করাই এই বিভাগের উদ্দেশ্য।
তবে সমালোচকদের একটি অংশ মনে করছে, এ ধরনের আলাদা বিভাগ এশীয় শিল্পীদের মূলধারার প্রতিযোগিতা থেকে আলাদা করে দিতে পারে। বিটিএস তাদের বিবৃতিতে নতুন বিভাগটির নাম সরাসরি উল্লেখ না করলেও ‘অঞ্চল বা ভাষা দিয়ে সংগীতকে ভাগ না করার’ যে বক্তব্য দিয়েছে, তাতে অনেকেই নতুন বিভাগের সঙ্গে তাদের সিদ্ধান্তের যোগসূত্র দেখছেন।
গ্র্যামি থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত বিটিএসের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ। এর আগে ব্যান্ডটি একাধিকবার গ্র্যামিতে মনোনয়ন পেয়েছে, কিন্তু এখনো পুরস্কার জিততে পারেনি। ফলে নতুন বিভাগে অংশ নেওয়ার পরিবর্তে পুরোপুরি গান জমা না দেওয়ার সিদ্ধান্তকে অনেকেই গ্র্যামির প্রচলিত স্বীকৃতি কাঠামো নিয়ে ব্যান্ডটির অবস্থান হিসেবে দেখছেন।
তাদের সর্বশেষ অ্যালবাম ‘ARIRANG’ প্রকাশের পরও এই সিদ্ধান্ত এসেছে। অ্যালবামটি আন্তর্জাতিকভাবে বড় সাফল্য পেয়েছে এবং ব্যান্ডটির বৈশ্বিক জনপ্রিয়তা আরও দৃঢ় হয়েছে। ফলে সংগীতের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির জন্য গ্র্যামির ওপর নির্ভরতা আগের তুলনায় কমেছে—এমন বিশ্লেষণও সামনে এসেছে।
বিটিএসের সিদ্ধান্তের পর রেকর্ডিং একাডেমির প্রধান নির্বাহী হার্ভে ম্যাসন জুনিয়র হতাশা প্রকাশ করলেও নতুন বিভাগটির পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। তার বক্তব্য ছিল, এশিয়ান পপ বিভাগটি কোনো নির্দিষ্ট শিল্পীকে আলাদা করে রাখার জন্য তৈরি হয়নি; বরং এশীয় সংগীতের আরও বেশি শিল্পীকে স্বীকৃতি দেওয়ার লক্ষ্যেই এটি চালু করা হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি জানান, কোনো শিল্পী জঁরভিত্তিক বিভাগে গান জমা দিলেও সাধারণ বিভাগে বিবেচিত হওয়ার সুযোগ হারান না।
তবে বিতর্ক এখানেই থামেনি। আগস্টে রেকর্ডিং একাডেমি জানায়, শিল্পী ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনায় নতুন বিভাগের কাঠামো নিয়ে উদ্বেগের বিষয়টি উঠে এসেছে। এরপর বিভাগটি পরিবর্তন বা পুনর্বিবেচনার সম্ভাবনাও সামনে আসে।
বিটিএসের সিদ্ধান্তের পর তাদের ভক্তরাও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন। অনেক ভক্তের মতে, কে-পপকে আলাদা একটি ভৌগোলিক শ্রেণিতে সীমাবদ্ধ না করে বিশ্বসংগীতের মূলধারায় মূল্যায়ন করা উচিত।
অন্যদিকে, কেউ কেউ মনে করছেন, এশিয়ান পপের জন্য আলাদা বিভাগ থাকা নতুন শিল্পীদের জন্য সুযোগ তৈরি করতে পারে। ফলে বিটিএসের সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে গ্র্যামির পুরস্কার কাঠামো, সংগীতের শ্রেণিবিন্যাস এবং এশীয় শিল্পীদের বৈশ্বিক স্বীকৃতি নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডস নিয়ে শিল্পীদের অসন্তোষ অবশ্য নতুন ঘটনা নয়। এর আগেও দ্য উইকেন্ডসহ কয়েকজন জনপ্রিয় শিল্পী মনোনয়ন ও ভোটিং প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে গ্র্যামি থেকে দূরে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। পরে নিয়ম ও ভোটিং ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনার পর তাদের কেউ কেউ আবার অনুষ্ঠানে ফিরেছেন।
বিটিএসের এবারের সিদ্ধান্ত তাই শুধু একটি পুরস্কার অনুষ্ঠান থেকে সরে দাঁড়ানো নয়; বরং বিশ্বসংগীতে এশীয় শিল্পীদের অবস্থান, সাংস্কৃতিক পরিচয় এবং পুরস্কার প্রদানের প্রচলিত কাঠামো নিয়ে বড় একটি প্রশ্ন সামনে এনেছে। এখন দেখার বিষয়, রেকর্ডিং একাডেমির পুনর্বিবেচনার পর নতুন এশিয়ান পপ বিভাগে কী ধরনের পরিবর্তন আসে এবং ভবিষ্যতে বিটিএস গ্র্যামির সঙ্গে আবারও যুক্ত হয় কি না।