আগামী মাসের মধ্যেই পরীক্ষামূলকভাবে ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। প্রাথমিক পর্যায়ে প্রবাসীদের জন্য একটি ডুয়াল কারেন্সি সুবিধাসম্পন্ন ডেবিট কার্ড চালু করা হবে, যার মাধ্যমে দেশে ও বিদেশে সহজে আর্থিক লেনদেন এবং বিভিন্ন বিশেষ সেবা গ্রহণ করা সম্ভব হবে। শনিবার প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এ বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন জানিয়েছেন।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রবাসী কার্ড চালুর মূল লক্ষ্য হলো বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশিদের সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করা এবং তাদের জন্য আধুনিক ব্যাংকিং ও আন্তর্জাতিক পেমেন্ট সুবিধা সহজলভ্য করা। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও ক্রীড়া কার্ড বাস্তবায়নের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় এবার প্রবাসীদের জন্যও বিশেষ সুবিধাসম্পন্ন এই কার্ড চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রবাসী কার্ডধারীরা দেশে ও বিদেশে নির্ধারিত বিমানবন্দরের লাউঞ্জ ব্যবহার, বিশেষ ইমিগ্রেশন বুথের মাধ্যমে দ্রুত সেবা, আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মিট অ্যান্ড গ্রিট সুবিধা, বিমান টিকিট ও হোটেল বুকিংয়ে ছাড়, গাড়ি বুকিং এবং এয়ারপোর্ট পিক অ্যান্ড ড্রপ সেবার মতো সুবিধা পাবেন। পাশাপাশি সরকারি হাসপাতালে প্রবাসী সেবা বুথ, বেসরকারি হাসপাতালে বিশেষ ছাড়, কার্ডধারীর মৃত্যু হলে বিনা খরচে মরদেহ দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা, প্রবাসফেরতদের পুনর্বাসন এবং বীমা সুবিধাও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
এ ছাড়া জমি রেজিস্ট্রেশন, নামজারি, ইউটিলিটি সংযোগ, লাইসেন্স প্রদান ও বৈদেশিক বিনিয়োগে অগ্রাধিকার, রেমিট্যান্স রিওয়ার্ড পয়েন্ট, উন্নত ক্রেডিট স্কোরিং, সহজ ঋণ সুবিধা এবং কার্ডের মাধ্যমে সরাসরি অর্থ পাঠানোর সুযোগ থাকবে। একই সঙ্গে জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট, কনস্যুলার সেবা এবং বিভিন্ন সরকারি ও ব্যাংকিং সেবায়ও কার্ডধারীরা অগ্রাধিকার পাবেন। সরকারের প্রত্যাশা, এই উদ্যোগের মাধ্যমে প্রবাসীদের সেবার মান বৃদ্ধি এবং বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠাতে আরও উৎসাহ সৃষ্টি হবে।