শনিবার, ২০ জুন ২০২৬, ১০:৪৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
প্রতিমন্ত্রীর ‘ছেলেদের নামে’ দুই ইউনিয়নের নামকরণ, বদলানোর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, তিন মাসে প্রাণহানি ৫৬০ ব্রাজিলের বিপক্ষে আমাদের হারানোর কিছু নেই: হাইতি কোচ ‘আমি রোনালদোর ভক্ত, মেসিকে রুখতে সবকিছু করব :অস্ট্রিয়ার গোলরক্ষক ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের ফেসবুক আইডি হ্যাক সাংবাদিক গ্রেপ্তার ইস্যুতে দুঃখ প্রকাশ করে বিবৃতি এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রীর আশা জাগিয়েও হারল বাংলাদেশ, অস্ট্রেলিয়ার সিরিজ জয় আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে রাজধানীতে কোনো নিরাপত্তা শঙ্কা নেই: ডিএমপি আ.লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে সংঘাতের শঙ্কা, সারাদেশে সতর্ক পুলিশ চীনে বিশ্বের বৃহত্তম বাঁধ নির্মাণ শুরু, মহাবিপদে ভারত

বাংলাদেশ–ভারতের সম্পর্ক কোনো একটি ইস্যুতে ‘জিম্মি’ হওয়া উচিত নয় : দ্য হিন্দুকে ফখরুল

আওয়াজ অনলাইন ডেস্ক :
  • আপডেটের সময় : সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৯৯ টাইম ভিউ
ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কে হাসিনার অবস্থান ‘বাধা’ হবে না: দ্য হিন্দুকে ফখরুল

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার সুদীর্ঘ সম্পর্ক কেবল একটি নির্দিষ্ট ইস্যু বা ব্যক্তির কারণে ‘জিম্মি’ হওয়া উচিত নয় বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আগামীকাল মঙ্গলবার বিএনপির নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের শপথ গ্রহণের মাহেন্দ্রক্ষণে সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) ভারতীয় প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ‘দ্য হিন্দু’-কে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক অবস্থান তুলে ধরেন।

মির্জা ফখরুল স্পষ্ট করে জানান, ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বর্তমানে ভারতে অবস্থান করলেও সেটি দুই দেশের মধ্যে বিস্তৃত বাণিজ্য, অর্থনীতি ও উন্নয়ন অংশীদারত্ব গড়ে তোলার ক্ষেত্রে কোনো বড় ‘বাধা’ হবে না। তিনি বলেন, “আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি শেখ হাসিনা গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছেন এবং দেশের জনগণের মধ্যে তাকে বিচারের মুখোমুখি করার জোরালো দাবি রয়েছে। আমরা মনে করি ভারতের উচিত তাকে আমাদের কাছে হস্তান্তর করা। তবে ভারত যদি তাকে ফেরত না-ও দেয়, তবুও আমরা বৃহত্তর স্বার্থে দিল্লির সাথে আরও উন্নত ও গভীর সম্পর্ক গড়ে তুলতে চাই।”

সম্পর্কের জটিলতাগুলো ছাপিয়ে সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলোকে প্রাধান্য দেওয়ার ওপর জোর দিয়ে ফখরুল বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে হাজারো মতপার্থক্য থাকলেও তারা অর্থনৈতিক প্রয়োজনে একে অপরের সাথে কাজ করছে। ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ক্ষেত্রেও আমাদের একটি মাত্র ইস্যুতে আটকে থাকা চলবে না।” তিনি বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উদাহরণ টেনে বলেন, ৭৫-পরবর্তী সময়ে শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থানকালেও জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রনায়কোচিত দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে দিল্লি সফর করেছিলেন এবং ইন্দিরা গান্ধীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন। বিএনপি সেই একই প্রজ্ঞাবান ও ভারসাম্যপূর্ণ নীতিতে বিশ্বাসী।

পররাষ্ট্রনীতির ভবিষ্যৎ রূপরেখা নিয়ে মির্জা ফখরুল জানান, আগামী বছর গঙ্গা পানিবণ্টন চুক্তির নবায়ন এবং ফারাক্কার পানির বিষয়টি তাদের অন্যতম অগ্রাধিকার হবে। একই সাথে সীমান্ত হত্যা বন্ধের বিষয়ে ভারতের সঙ্গে জোরালো আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। যারা অহেতুক যুদ্ধের উস্কানি দেয়, তাদের কড়া সমালোচনা করে তিনি বলেন, “ভারতের সাথে আমরা যুদ্ধ করতে পারি না। আমাদের আলোচনার টেবিলে কথা বলতে হবে।”

বেকারত্ব দূরীকরণ এবং দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে ভারতের কারিগরি সম্পদের সহায়তা চান বিএনপি মহাসচিব। তিনি বলেন, “আমাদের বিপুল সংখ্যক তরুণকে দক্ষ হিসেবে গড়ে তুলতে ভারতের সহযোগিতা দরকার, যাতে তারা বিশ্ববাজারে কর্মসংস্থান পেতে পারে।” এছাড়া বিগত সরকারের রেখে যাওয়া ঋণের বোঝা সামলাতে বিভিন্ন মেগা প্রকল্প পুনর্বিবেচনা করা হবে এবং কেবল দেশের স্বার্থ রক্ষা করে এমন প্রকল্পগুলোই চালু রাখা হবে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।

সাক্ষাৎকারে মির্জা ফখরুল আরও উল্লেখ করেন যে, তিনি ইতিমধ্যে জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপি নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন এবং বিএনপির ‘৩১ দফা’ কর্মসূচির ভিত্তিতে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে তাঁরা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করছেন।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর