বাংলাদেশ থেকে মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে লোক পাঠিয়ে মানব পাচারের অভিযোগে মোঃ নুরুজ্জামান সেতু নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, তিনি বর্তমানে রাশিয়ায় অবস্থান করছেন।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, নুরুজ্জামান সেতু দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ মানব পাচার চক্রের সক্রিয় সদস্য হিসেবে কাজ করছেন। তিনি বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা থেকে যুবকদের কাছে উচ্চ বেতনের চাকরি ও ভালো জীবনযাপনের প্রলোভন দেখিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে তাদের মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে পাঠাতেন।
বিদেশে পৌঁছানোর পর ভুক্তভোগীদের পাসপোর্ট জব্দ করে অমানবিক পরিবেশে কাজে বাধ্য করা হতো বলে অভিযোগ উঠেছে। অনেককে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করা হতো। পরিবারের কাছ থেকে আরও টাকা আদায়ের জন্য ভুক্তভোগীদের বিনা খাবারে, বিনা গোসলে বদ্ধ ঘরে আটকে রাখা হতো। টাকা না দিলে মারধর ও চরম নির্যাতন চালানো হতো বলে ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন।
সম্প্রতি এক ভুক্তভোগী সুযোগ করে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে সক্ষম হন। তিনি পরিবারের কাছে নির্যাতনের ভিডিও ফুটেজও পাঠিয়েছেন, যাতে অমানবিক পরিস্থিতির চিত্র উঠে এসেছে। ভুক্তভোগী জানিয়েছেন, নুরুজ্জামান সেতু দেশে-বিদেশে বিস্তৃত একটি সংঘবদ্ধ চক্রের অন্যতম সদস্য এবং এর সঙ্গে আরও অনেকে জড়িত রয়েছে।
এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি। তবে ভুক্তভোগীদের অভিযোগের ভিত্তিতে দ্রুত তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।