মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৪২ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বললেন জঙ্গি নেই, উপদেষ্টা বলছেন আছে কালবৈশাখীর প্রভাবে প্রবল বৃষ্টিতে জলাবদ্ধ চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্বাস্থ্য খাতের বড় সংকট বিদ্যমান সম্পদের অদক্ষ ব্যবহার: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী প্রচন্ড গরমে রাজবাড়ীতে বেড়েছে ডায়রিয়ার প্রকোপ, হাসপাতালে রোগীর চাপ রাজধানীর নিউমার্কেটে দুর্বৃত্তের গুলিতে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি নিহত দেশে ২৪ ঘণ্টায় হাম ও উপসর্গ নিয়ে ৯ শিশুর মৃত্যু: বাড়ছে উদ্বেগ ‘ইতিহাস’ নিয়ে বিতর্ক: মুখ খুললেন কাজী মারুফ ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক কনিকা দাসের বিরুদ্ধে ভর্তি বাণিজ্যের অভিযোগের সত্যতা মিলেছে ইরানের নতুন প্রস্তাবে ‘নাখোশ’ ট্রাম্প

ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক কনিকা দাসের বিরুদ্ধে ভর্তি বাণিজ্যের অভিযোগের সত্যতা মিলেছে

নুরুল হক মিলন গোয়ালন্দ রাজবাড়ী প্রতিনিধি :
  • আপডেটের সময় : মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬
  • ২ টাইম ভিউ
ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক কনিকা দাসের বিরুদ্ধে ভর্তি বাণিজ্যের অভিযোগের সত্যতা মিলেছে

রাজবাড়ী সদর উপজেলার শহীদ ওহাবপুর ইউনিয়নের মধুপুর ছকিরননেছা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক কনিকা দাসের বিরুদ্ধে ভর্তি বাণিজ্যসহ নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের প্রেক্ষিতে সরেজমিন তদন্তে এসব অভিযোগের সত্যতাও মিলেছে বলে জানিয়েছেন তদন্ত সংশ্লিষ্টরা।

জানা যায়, গত ৬ এপ্রিল জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার বরাবর সুমী আক্তারী সুবর্ণা নামে এক অভিভাবক লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, তার দুই সন্তানকে বিদ্যালয়ে ভর্তি করাতে গেলে ভর্তি ও বিনামূল্যের বই দেওয়ার নামে ৫০০ টাকা করে দাবি করা হয়। টাকা দিতে না পারায় তাকে ও তার সন্তানদের অপমান করে বিদ্যালয় থেকে বের করে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

এদিকে, অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক কনিকা দাস অভিযোগ অস্বীকার করে আমার দেশকে বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। আমি কারও কাছ থেকে ভর্তি বাবদ কোনো টাকা নেইনি। আমি কোনো ধরনের অনিয়ম করিনি, এসব আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র।’

তবে অভিযোগের বিপরীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও ইতোমধ্যে ভাইরাল হয়েছে। ওই ভিডিওতে শোনা যায়, কনিকা দাস ভর্তি বাবদ ৫০০ টাকা করে দাবি করছেন এবং টাকা না দিলে ভর্তি সম্ভব নয় বলে জানাচ্ছেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়, বিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকেও ২০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া শিক্ষার্থীদের দিয়ে টয়লেট পরিষ্কার করানো, ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার, প্রাইভেট পড়তে বাধ্য করা এবং প্রাইভেট না পড়লে পরীক্ষায় অকৃতকার্য করার হুমকির মতো গুরুতর অভিযোগও উঠেছে।

ঘটনার প্রেক্ষিতে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস তদন্ত কমিটি গঠন করে। সেই অনুযায়ী বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) বিদ্যালয়ে সরেজমিন তদন্ত পরিচালনা করেন সদর উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফকির মো. নূরুল ইসলাম ও উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা অধীর কুমার বিশ্বাস। তদন্তে অভিভাবক, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক, বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকগণ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে মতামত গ্রহণ করা হয়।

তদন্তে অংশ নেওয়া শহীদ ওহাবপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও ইউপি সদস্য ওহিদুজ্জামান আমার দেশকে বলেন, ‘কনিকা দাসের বিরুদ্ধে ভর্তি বাণিজ্যসহ ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে আশা করছি।’

তদন্ত শেষে কমিটির আহ্বায়ক ফকির মো. নূরুল ইসলাম আমার দেশকে জানান, অভিযোগের বিষয়ে সরেজমিনে তদন্ত করে ভর্তি বাবদ টাকা নেওয়া, ছাত্র-ছাত্রীদের দিয়ে কাজ করানোসহ আরও কিছু অনিয়মের সত্যতা পাওয়া যায়। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন আকারে পাঠানো হবে এবং পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ হবে।

উল্লেখ্য, সরকার প্রাথমিক শিক্ষাকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ঘোষণা করলেও এমন অভিযোগ স্থানীয় শিক্ষা ব্যবস্থায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর