রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ০৯:০৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
আবার হরমুজ প্রণালি বন্ধের ঘোষণা ইরানের সুইজারল্যান্ডে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র বৈঠক রোববার: পাকিস্তান বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও বিভ্রান্তিকর প্রচারণা নিয়ে বাংলাদেশ জাস্টিস পার্টির কঠোর অবস্থান প্রতিমন্ত্রীর ‘ছেলেদের নামে’ দুই ইউনিয়নের নামকরণ, বদলানোর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, তিন মাসে প্রাণহানি ৫৬০ ব্রাজিলের বিপক্ষে আমাদের হারানোর কিছু নেই: হাইতি কোচ ‘আমি রোনালদোর ভক্ত, মেসিকে রুখতে সবকিছু করব :অস্ট্রিয়ার গোলরক্ষক ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের ফেসবুক আইডি হ্যাক সাংবাদিক গ্রেপ্তার ইস্যুতে দুঃখ প্রকাশ করে বিবৃতি এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রীর আশা জাগিয়েও হারল বাংলাদেশ, অস্ট্রেলিয়ার সিরিজ জয়

তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনে কাটল নির্বাচনের মেঘ: নতুন রাজনীতির আশা দেখছে এনসিপি

অনলাইন ডেক্স
  • আপডেটের সময় : বৃহস্পতিবার, ২৫ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ১০৯ টাইম ভিউ
তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনে কাটল নির্বাচনের মেঘ: নতুন রাজনীতির আশা দেখছে এনসিপি

দীর্ঘ ১৭ বছরের প্রবাস জীবন ও রাজনৈতিক নির্বাসন কাটিয়ে অবশেষে প্রিয় জন্মভূমিতে ফিরেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তার এই স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকে বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে একটি মাইলফলক এবং ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটির শীর্ষ নেতাদের মতে, তারেক রহমানের ফিরে আসার মধ্য দিয়ে আগামী জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে জনমনে থাকা দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা ও শঙ্কার কালো মেঘ কেটে গেছে।

বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) বিবিসি বাংলার সঙ্গে আলাপকালে এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনকে দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, “নির্বাচনের তফসিল বা তারিখ ঘোষণা হওয়া সত্ত্বেও সাধারণ মানুষের মনে একটি সুপ্ত সংশয় ছিল যে, ভোট আদৌ হবে কি না। রাজনীতির মাঠে যে অস্থিরতা বিরাজ করছিল, তারেক রহমানের দেশে ফেরার মাধ্যমে সেই ধোঁয়াশা পরিষ্কার হয়েছে। এই ঘটনাটি নির্বাচন আয়োজনের পথকে আরও সুগম ও কণ্টকমুক্ত করল।”

আখতার হোসেন আরও যোগ করেন যে, তারেক রহমানের উপস্থিতি মাঠপর্যায়ের রাজনীতিতে নতুন প্রাণের সঞ্চার করবে এবং একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের পরিবেশ তৈরিতে সহায়ক হবে।

একই বিষয়ে এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদিব তার প্রতিক্রিয়ায় জানান, তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন কেবল বিএনপির জন্য নয়, বরং সামগ্রিক জাতীয় রাজনীতির জন্যই একটি বড় পরীক্ষা ও সুযোগ। তিনি বলেন, “বিগত দেড় দশক ধরে তিনি সুদূর প্রবাসে থেকে অত্যন্ত প্রতিকূলতার মাঝেও নিজ দলকে সুসংগঠিত রেখেছেন। তবে এখন সময় এসেছে জাতীয় রাজনীতিতে বৃহত্তর পরিসরে তার প্রজ্ঞা ও ভূমিকার প্রতিফলন দেখার। পুরো দেশ এখন তাকিয়ে আছে তিনি জাতীয় সংকটে এবং আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মাণে কী ধরনের নেতৃত্ব প্রদান করেন, তার ওপর।”

এদিকে, তারেক রহমানের ফিরে আসাকে দীর্ঘদিনের গণতান্ত্রিক লড়াইয়ের একটি সার্থক প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। বৃহস্পতিবার বিকেলে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বিস্তারিত বিবৃতিতে তিনি তারেক রহমানকে বাংলাদেশে স্বাগত জানান।

নাহিদ ইসলাম তার পোস্টে উল্লেখ করেন, একজন বাংলাদেশি নাগরিক এবং শীর্ষ রাজনৈতিক নেতা হিসেবে নিজ দেশে ফেরার যে মৌলিক অধিকার, তা পুনরুদ্ধার হওয়া আমাদের সামষ্টিক গণতান্ত্রিক সংগ্রামেরই বিজয়। তিনি বলেন, “তারেক রহমান এবং তার পরিবার রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে দীর্ঘকাল রাষ্ট্রীয় নির্যাতনের মধ্য দিয়ে গেছেন। হাজারো শহীদের রক্ত এবং ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের ফলে যে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার সৃষ্টি হয়েছে, তার ওপর দাঁড়িয়েই তিনি আজ স্বদেশে ফিরতে পেরেছেন।”

এনসিপি আহ্বায়ক আরও বলেন, আমরা এমন একটি রাষ্ট্র গড়ে তুলতে চাই যেখানে ভিন্নমতের কারণে কোনো রাজনৈতিক নেতাকে রাষ্ট্রীয় দমনপীড়ন সহ্য করতে হবে না কিংবা দেশান্তরী হতে হবে না। বিগত দেড় দশকের অবরুদ্ধ ও রুদ্ধশ্বাস রাজনৈতিক পরিবেশ ভেঙে আমরা আজ যে মুক্ত বাংলাদেশের পথে যাত্রা শুরু করেছি, সেখানে আইনের শাসন ও প্রতিটি নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।

বিবৃতিতে নাহিদ ইসলাম আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, তারেক রহমানের অংশগ্রহণ দেশের বহুদলীয় গণতন্ত্রের চর্চাকে আরও শক্তিশালী ও সুসংহত করবে। নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় সহাবস্থান এবং সুস্থ প্রতিযোগিতার সংস্কৃতি গড়ে তোলাই এখন মূল চ্যালেঞ্জ। তিনি তারেক রহমানের রাজনৈতিক জীবনের নতুন অধ্যায়ের উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করেন এবং আশা করেন তার নেতৃত্ব দেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে ফলপ্রসূ অবদান রাখবে।

তারেক রহমানের এই প্রত্যাবর্তনের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণ মানুষ ও বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তার এই সক্রিয় অংশগ্রহণ বাংলাদেশের রাজনৈতিক মেরুকরণে নতুন মাত্রা যোগ করবে এবং একটি স্থিতিশীল গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর