দীর্ঘ ১৭ বছর তিন মাসের বেশি সময় লন্ডনে নির্বাসনে থাকার পর দেশে ফিরেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তার সঙ্গে এসেছেন স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান ও কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান।
জীবনে প্রথম বারের মতো বাবার নিজ বাড়িতে উঠলেন তারেক কন্যা জাইমা রহমান। এর আগে সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে বরাদ্দ দেয়া শহীদ মইনুল রোডের বাড়িতেই তার শইশবকাল কাটে।
পরে ২০০৮ সালের ১১ই সেপ্টেম্বরে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর তারেক রহমান লন্ডনে চিকিৎসার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ ত্যাগ করলে জাইমা রহমান এবং তার মা জোবাইদা রহমানও সংগে গিয়েছিলেন।
বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে জোবায়দা রহমান ও জাইমা রহমান ১২টা ৫৬ মিনিটে পুলিশি নিরাপত্তায় সরাসরি গুলশানের ১৯৬ নম্বর বাসা প্রবেশ করেন।
বিএনপি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের জন্য রাজধানীর গুলশান অ্যাভিনিউয়ের ১৯৬ নম্বর বাড়িটি পুরোপুরি প্রস্তুত করা হয়েছে।
এটি ১৯৮১ সালে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর তৎকালীন রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আবদুস সাত্তারের মন্ত্রিসভা সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে জিয়াউর রহমানের স্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে বরাদ্দ দেওয়া হয়।এর পর থেকে এই দেড় বিঘার উপর নির্মিত ছায়া ঘেরা বাড়ীর মালিক সাবেক প্রধানমন্ত্রী বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া।
২০১০ সালের ১৩ নভেম্বর শহীদ মইনুল রোডের বাড়ি থেকে এক কাপড়ে বের করে দেয়া হয় খালেদা জিয়াকে। কিছুদিন ভাই শামীম এস্কান্দারের বাড়িতে থেকে ২০১২ সালের ২১ এপ্রিল ওই বাড়িতে ওঠেন খালেদা জিয়া। তারপর থেকেই এই ফিরোজাই তার আবাস।
এদিকে বাড়ী পেলেও দীর্ঘ ১৭ বছর রাজনৈতিক মারপ্যাচের কারনে ১৯৬ নম্বর বাড়িতে বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের কেউই থাকতে পারেন নি।
অবশেষে কয়েক মাস আগে গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান ও রাজউক চেয়ারম্যান রিয়াজুল ইসলাম রিজু বাড়িটির দলিলপত্র বিএনপি চেয়ারপারসনের কাছে হস্তান্তর করেন।
একতলা এই বাড়িটিতে তিনটি বেড রুম,ড্রয়িং রুম,ডাইনিং রুম,লিভিং রুমসহ রয়েছে সব অত্যাধুনিক সুবিধা।
কয়েকদিন আগে দেয়ালে করা হয়েছে নতুন সাদা রং,চারিদিকে লাগানো হয়েছে কাঁটাতারের বেড়া, সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে বড় দুটি গেটে রয়েছে পুলিশ বক্স।
১৯৬ নম্বর বাড়ি এবং এর পার্শ্ববর্তী বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার ভাড়া বাসার বাসার চারিদিক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থাও করা হয়েছে।